

পেটের মেদ কমানো সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। শরীরের অন্য অংশের চর্বি কমলেও কোমর ও পেটের বাড়তি চর্বি অনেক সময় নড়তেও চায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মেদ কমাতে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি; এর মধ্যে অন্যতম হলো খাবার। খাওয়ার পর হাঁটাচলা।
সম্প্রতি ফিটনেস ট্রেইনার ক্রিস্টিন স্টাইনস জানিয়েছেন, রাতের খাবারের পর মাত্র দুই মিনিটের একটি অভ্যাস গড়ে তুললে ওজন কমানো অনেক সহজ হতে পারে।
খাবারের পর ২ মিনিট হাঁটার উপকারিতা
ক্রিস্টিন জানান, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে রক্তে শর্করা (blood sugar) ও ইনসুলিনের সম্পর্ক গভীর। তার ভাষায়, ‘যখন আমরা খাবার খাই, তখন রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন নিঃসরণ করে, যা রক্ত থেকে শর্করা সরিয়ে শক্তি হিসেবে জমা রাখে।’
তার মতে, যখন শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বেশি থাকে, তখন ফ্যাট বার্নিং বা চর্বি পোড়ানো বন্ধ হয়ে যায়। ‘এই অবস্থায় শরীর বেশি ইনসুলিন চায়, ফলে সারাক্ষণ ফ্যাট স্টোরেজ মোডে থাকে। এমনকি স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও ওজন কমাতে সমস্যা হয়,’ বলেন ক্রিস্টিন।
তিনি আরও বলেন, ‘শরীরে যত বেশি মেদ জমে, তত বেশি মিষ্টি বা চিনি জাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়, যা বিষয়টিকে আরও কঠিন করে তোলে।’
গবেষণায় দেখা গেছে, পেটের অতিরিক্ত মেদ রক্তে শর্করা ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। এ প্রসঙ্গে ক্রিস্টিন বলেন, ‘পেটের মেদ কমানোর দুটি উপায় আছে—একটি হলো রক্তে গ্লুকোজ ও ইনসুলিনের হঠাৎ ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করা, আরেকটি হলো শরীরকে ইনসুলিন-সেনসিটিভ রাখা, যাতে খাবারের পর ইনসুলিন বেড়ে গেলেও দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়।’
গবেষণার তথ্য
২০২২ সালে জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে ক্রিস্টিন জানান, খাবারের পর মাত্র ২ থেকে ৫ মিনিট হাঁটলে রক্তে শর্করার পরিমাণ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
তার ভাষায়, ‘খাওয়ার পর হাঁটার সময় শরীরের পেশিগুলো স্পঞ্জের মতো কাজ করে। তারা চলাফেরার মাধ্যমে রক্ত থেকে গ্লুকোজ শোষণ করে নেয়, এতে অতিরিক্ত ইনসুলিনের প্রয়োজন পড়ে না। গ্লুকোজ যখন পেশিতে জমা হয়, তখন তা আর ফ্যাট সেলে জমা হয় না। ফলে রক্তে শর্করা কমে, ইনসুলিনও কমে এবং শরীর স্বাভাবিকভাবে ফ্যাট বার্নিং মোডে চলে যায়।’
সতর্কতা
ফিটনেস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, এই পদ্ধতি অনেকের ক্ষেত্রে কার্যকর হলেও সবার জন্য এক নয়। তাই খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামের রুটিনে পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসক বা ফিটনেস পরামর্শকের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি।
সূত্র : এনডি টিভি
মন্তব্য করুন