কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৩৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

দশমীতে দুর্গার বিদায়ের আগে কেন হয় সিঁদুর খেলা?

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বাঙালির দুর্গাপূজা শুধু একটা ধর্মীয় উৎসব নয়—এটা যেন এক আবেগ, এক মিলনমেলা। চার দিন ধরে মা দুর্গাকে ঘিরে চলে আনন্দ, ভক্তি, আর পরিবার-পরিজনের একসঙ্গে থাকার উষ্ণতা।

আর এই আনন্দের শেষ দিন, বিজয়া দশমী, হয়ে ওঠে এক মিষ্টি-কষ্টের দিন। কারণ সেদিন মা দুর্গা কৈলাসে ফিরে যান তার স্বামী শিবের কাছে। আর এই বিদায়ের আগে হয় এক বিশেষ রীতি—সিঁদুর খেলা।

সিঁদুর খেলা কীভাবে হয়?

দশমীর সকালে, বিসর্জনের আগে, বিবাহিত নারীরা দেবী দুর্গার চরণে সিঁদুর নিবেদন করেন। এরপর তারা একে অন্যকে সিঁথিতে, কপালে এবং গালে সিঁদুর দেন। হেসেখেলে সবাই একসঙ্গে মেতে ওঠেন লাল রঙের উৎসবে।

চারপাশে তখন একটাই আবেগ—বিদায়ের কষ্টকে রঙে, আনন্দে ঢেকে দেওয়া।

কিন্তু কেন হয় এই সিঁদুর খেলা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে পাওয়া যায় ইতিহাস, পৌরাণিক কাহিনি, আর সমাজচেতনার এক মিশ্র রূপ। সহজ করে বলা যায়:

দেবী দুর্গার কন্যারূপ ও সংসারের কামনা

এই সময় দেবী দুর্গাকে কন্যারূপে দেখা হয়—যিনি বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি, মানে কৈলাসে ফিরছেন। তাকে সিঁদুর পরিয়ে যেন বলা হয়, ‘তোমার দাম্পত্য জীবন হোক সুখী ও মঙ্গলময়।’

এই ভাবনারই ছোঁয়া পড়ে নারীদের মধ্যে। বিবাহিত নারীরা একে অপরকে সিঁদুর দিয়ে প্রার্থনা করেন—ঘর-সংসার যেন অটুট থাকে, ভালোবাসা চিরকাল টিকে থাকে।

হিন্দু ধর্মে সিঁদুরের প্রতীকী মানে

সিঁদুর হিন্দু সংস্কৃতিতে শুধু প্রসাধন নয়—এটা সৌভাগ্য, শক্তি, প্রেম আর সংসার জীবনের প্রতীক। পৌরাণিক মতে, সিঁদুর ব্রহ্মার প্রতীক—যিনি জীবনে আনন্দ, সৃষ্টিশীলতা আর মঙ্গল নিয়ে আসেন। কপালে সিঁদুর দিলে নাকি ব্রহ্মার অধিষ্ঠান ঘটে, এই বিশ্বাস থেকেই এই রীতির শুরু।

বিজয়া দশমী মানেই বিদায়ের কষ্ট। মা চলে যাচ্ছেন, এটা মানতে কষ্ট হয়। সেই কষ্টকে একটু হালকা করতে, নারীরা একে অন্যকে রাঙিয়ে তোলেন লাল সিঁদুরে। যেন বলেন, ‘তোমার জীবন হোক রঙিন, মায়ের মতো শক্তিশালী।’

সিঁদুর খেলা আজ শুধু রীতি নয়, এক সামাজিক মিলনও। এই খেলার সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো—নারীদের মধ্যে বন্ধন, মিলন আর আনন্দের প্রকাশ। বয়স, সামাজিক অবস্থান ভুলে সবাই একসঙ্গে রাঙিয়ে ওঠেন লালে লালে।

আধুনিক সময়ে, যদিও এই রীতি মূলত বিবাহিত নারীদের, অনেক জায়গায় অবিবাহিত মেয়ে, এমনকি পুরুষরাও যোগ দেন আনন্দে। ফলে এটা হয়ে উঠেছে একটা সামাজিক উৎসব—ধর্মীয় গণ্ডি ছাড়িয়ে একেবারে প্রাণের।

সিঁদুর খেলা হলো বিদায়ের মাঝে আশার রং। এটা এক রঙিন বার্তা—‘বিদায় আছে, কিন্তু বন্ধন অটুট থাকবে। দেবী দুর্গা চলে গেলেও, তার আশীর্বাদ রয়ে যাবে সংসারে, জীবনে, সমাজে।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চূড়ান্ত পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, চুক্তি কী হবে?

এক বছরের কম সময়ে ফের শাহজালালে আগুন, সকালেই তদন্ত প্রতিবেদন

অবশেষে বিশ্বকাপ খেলতে ইরান দলকে ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশের ফাইনালসহ টিভিতে আজ যত খেলা

মিছিলের প্রস্তুতিকালে যুবলীগের বদিউজ্জামান আটক

দেশের ৭ অঞ্চলে শক্তিশালী ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরের জন্যও সতর্কবার্তা

অতিরিক্ত গতি কেড়ে নিল দুই কিশোরের প্রাণ

৬ জুন / আজকের নামাজের সময়সূচি

শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

‘হান্নান মাসউদের তিন কোটি টাকার ডিল’ সংক্রান্ত অভিযোগকারীর বাড়িতে হামলা

১০

গোমস্তাপুর / শূন্যরেখার ২৮ নারী-পুরুষ ও শিশুর কান্না কেউই শুনছে না, বৃষ্টিতে ভিজেই রাত পার

১১

পদ ছাড়লেন কলকাতার মেয়র, জানালেন কারণ

১২

নদ-নদীতে ইলিশের বিচরণ আটকে দিচ্ছে ‘ডুবোচর’, ভরা মৌসুমেও আকাল

১৩

‘মব সৃষ্টি করে’ গ্রেপ্তার বিএনপি নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

১৪

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের টার্গেট করছে ছিনতাইকারীরা

১৫

‘আসিফ মাহমুদের ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশের ফুটবল’

১৬

‘জামায়াত, এনসিপি ও রুমিন আপার বক্তব্যে বেশ মিল’

১৭

রাজধানীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে সিটি করপোরেশন কর্মচারী আহত

১৮

কেন হাদি হত্যার বিচার চান, ব্যাখ্যা দিলেন ডাকসু নেত্রী জুমা

১৯

চোরের মাথা ন্যাড়া করে আঁকা হলো আর্জেন্টিনার পতাকা

২০
X