বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩৩
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৪৬ পিএম
আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৪২ এএম
অনলাইন সংস্করণ

টানা ৩ দিন ৪ ঘণ্টার কম ঘুমালে কী হতে পারে, জানেন?

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বয়স ৫ মাস হোক বা ৫০ বছর, রাতের পর্যাপ্ত ঘুম সবার জন্যই জরুরি। ঘুম শরীর ও মনের ভারসাম্য রক্ষা করে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, এমনকি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও মজবুত রাখে। তবে ঘুমের সময় কমে কমে যদি দিনে মাত্র তিন-চার ঘণ্টায় দাঁড়ায়, তাহলে বিপদ একেবারে দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করে।

গবেষণা বলছে, সদ্যোজাত শিশুর ঘুমের সময় যেখানে দিনে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ঘুমের প্রয়োজন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা; কিন্তু বাস্তব চিত্র একদমই ভিন্ন। ব্যস্ততা, কাজের চাপ, মোবাইল-নেশা, কিংবা অনিদ্রা—সব মিলিয়ে অনেকেই দিনে ৩-৪ ঘণ্টার বেশি ঘুমোতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতি একদিনের জন্য নয়, দিনের পর দিন চললে শরীরে ভয়াবহ প্রভাব পড়ে।

কম ঘুমে বাড়ে নানা রোগের ঝুঁকি

সম্প্রতি সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানাচ্ছেন, কেউ যদি টানা তিন দিন চার ঘণ্টা বা তার কম ঘুমান, তবে তার রক্তে এক ধরনের বিশেষ প্রোটিন তৈরি হয়, যা শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এই প্রদাহই পরে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, এমনকি ধমনীর ক্ষতিও করতে পারে।

গবেষকরা বলেন, অত্যধিক মানসিক চাপ, ঘুমের ঘাটতি বা শারীরিক অসুস্থতার সময় এই প্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে রক্তে এটির উপস্থিতি থাকলে দেখা দিতে পারে অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, হার্ট ফেইলিয়র কিংবা অন্যান্য হৃদ্‌সংক্রান্ত জটিলতা।

কীভাবে করা হয়েছে গবেষণা

উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ১৬ জন সুস্থ তরুণ পুরুষের ওপর এই পরীক্ষা চালান। তাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা এবং সূর্যালোক গ্রহণের সময় অপরিবর্তিত রেখে শুধু ঘুমের সময়সূচি বদলে দেওয়া হয়।

এক দলকে তিন দিন সাড়ে ৮ ঘণ্টা করে ঘুমোতে দেওয়া হয়, আরেক দলকে দেওয়া হয় মাত্র ৪ ঘণ্টা ২৫ মিনিট। এরপর তাদের রক্ত পরীক্ষা করে দেখা যায়, যারা কম ঘুমিয়েছেন, তাদের রক্তে প্রদাহ সৃষ্টিকারী প্রোটিনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।

শরীরচর্চাতেও মেলে না উপকার

সাধারণত নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের ক্ষতিকর প্রোটিনের মাত্রা কমে যায়। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, টানা কয়েক দিন কম ঘুমোনোর পর শরীরচর্চা করলেও সেই প্রোটিনের মাত্রা কমে না। অর্থাৎ, নিয়মিত ঘুম না হলে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করেও পুরো উপকার পাওয়া যায় না।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

স্বাস্থ্যকর জীবনধারার মতোই ঘুমকেও রাখতে হবে সেই তালিকায়। প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করুন। এটি শুধু মস্তিষ্ক নয়, হৃদ্‌যন্ত্র, রক্তচাপ ও হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সারকথা

টানা তিন দিন ৪ ঘণ্টার কম ঘুম মানে শরীরে বিপদ ডেকে আনা। ঘুমের ঘাটতি শুধু ক্লান্তিই নয়, ধীরে ধীরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এমনকি মানসিক অবসাদের মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে দিনে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন—ঘুমও একপ্রকার ওষুধ, তবে সেটি নিয়ম মেনে নিতে জানতে হবে।

সূত্র : এই সময় অনলাইন

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অঝোরে কাঁদলেন রুমিন ফারহানা, যা বললেন

মধ্যরাতে ঢাকা-১৫ আসন নিয়ে জামায়াত আমিরের পোস্ট

চরমোনাই পীরের জন্য ভোট চেয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন জামায়াত প্রার্থী

ছাত্রদলের ১৫ নেতাকে অব্যাহতি

স্টার নিউজের আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু

সিলেটে লাল-সবুজের বাসে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন তারেক রহমান

ডিজিটাল মিডিয়া ফোরামের নতুন কমিটি ঘোষণা

আমি কোনো সাংবাদিককে থ্রেট দিতে চাই না : রাশেদ খান

ভোটারদের ‘ব্রেইন হ্যাক’ করার ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি

ইতালিতে ইসলামের পরিচিতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির লক্ষ্যে ‘ওপেন ডে’ পালন

১০

কত আসনে নির্বাচন করবে জানাল ইসলামী আন্দোলন

১১

তারেক রহমানের সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি বিএনপির

১২

শ্রীলঙ্কাকে বিধ্বস্ত করল বাংলাদেশ

১৩

নির্বাচিত সরকারই স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি : রবিউল

১৪

প্রতারক শামীম ওসমান গ্রেপ্তার

১৫

রাজশাহীকে হারিয়ে ফাইনালে চট্টগ্রাম

১৬

তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় দেশের মানুষ : সালাউদ্দিন বাবু

১৭

সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

১৮

স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ, বুধবার থেকে কার্যকর

১৯

বাংলাদেশের পরিবর্তনে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মারতে হবে : নৌপরিবহন উপদেষ্টা

২০
X