কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৪, ১১:৩৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘নারী কর্তৃক নারী ধর্ষণ’কেও ধর্ষণ হিসেবে আইনি স্বীকৃতি চাই

এইড ফর মেন ফাউন্ডেশনের লোগো।
এইড ফর মেন ফাউন্ডেশনের লোগো।

যশোরের বাঘারপাড়ায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঈশিতা আক্তার ঋতু নামের এক নারীর ফাঁসি চেয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন।

একই সঙ্গে ‘নারী কর্তৃক নারী ধর্ষণ’কেও ধর্ষণ হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দিতে আইনে ধর্ষকের লিঙ্গ নিরপেক্ষ সংজ্ঞায়ন চেয়েছে ফাউন্ডেশনটি।

বিক্ষোভ সমাবেশে এইড ফর মেনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নাদিম বলেন, আমরা দেশটিভি, যুগান্তর, জাগো নিউজসহ বেশকিছু গণমাধ্যম মারফত জানতে পারি যে, যশোরের বাঘারপাড়ায় ঈশিতা আক্তার ঋতু নামের এক নারী তার বিকৃত যৌন লালসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে এক শিশুকে নিজেররুমে ডেকে নিয়ে প্রথমে অশ্লীল ভিডিও দেখায়, অতঃপর তার সঙ্গে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হয়। ভুক্তভোগী মেয়েটি একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। তখন তাকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলা হয়।

ফরেনসিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়, যার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে পেনিট্রেশন হয়েছে। প্রথমে পুলিশের কাছে, এবং পরবর্তীতে গণমাধ্যমের কাছে ঈশিতা আক্তার ঋতু নিজেও তার অপরাধ স্বীকার করেছেন।

তিনি আরও বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, ধর্ষণের অনুরূপ নৃশংস যৌন সহিংসতা হওয়া সত্বেও, আমরা দেখছি যে, ঘটনাটি সামাজিকভাবে এবং আইনগতভাবে ধর্ষণ হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে না। বাংলাদেশের আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞায় সুস্পষ্ট লিঙ্গ বৈষম্য রয়েছে।

সংগঠনটির ঢাকা জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত বলেন, এই ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে যশোর জেলার বর্তমান দায়িত্বরত এসপি রেশমা শারমিনকে সরাসরি ধর্ষণ শব্দটি না বলে এভাবে বলতে শোনা গেছে যে, মেয়েটি ঈশিতা আক্তার ঋতু নামের ওই নারীর বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছে। দুই একটি গণমাধ্যমে সরাসরি ধর্ষণ লিখলেও অধিকাংশ গণমাধ্যমে ধর্ষণ না লিখে ধর্ষণের বিকল্প শব্দ হিসেবে বিকৃত যৌনাচার, যৌন অত্যাচার, ইত্যাদি লঘু শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে ধর্ষণের মত একটা অপরাধকেও হালকা করে ফেলা হচ্ছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এইড ফর মেনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খালিদ মাহমুদ তন্ময় বলেন, বাংলাদেশে নারী কর্তৃক নারী ধর্ষণকে আইনগতভাবে ধর্ষণ হিসেবে স্বীকার না করায় এই ধরণের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাচ্ছে না। অনেক ভুক্তভোগী আছে যারা ন্যায়বিচার পাবে না ভেবে আইনের আশ্রয় নিতে আসছে না। ফলে এই ধরণের ধর্ষণের ঘটনাগুলো আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। তাই নারী কর্তৃক নারী ধর্ষণকে আইনগতভাবে ধর্ষণ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মত বাংলাদেশেও ধর্ষকের লিঙ্গ নিরপেক্ষ সংজ্ঞায়ন চাই।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ম্যাচে ফিলিস্তিনের পতাকা দেখানোয় ক্রিকেটারকে তলব ভারতীয় পুলিশের

৪৬তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার নতুন সময়সূচি

শীতে হাড়ের ব্যথা! কেন এবং কী করবেন

স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক সংস্কার করে প্রশংসায় ভাসছেন যুবদল নেতা

ব্যর্থতার পর পুরো গ্যাবন দলকে নিষিদ্ধ করল দেশটির সরকার

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর সেই ফুলমনি পেলেন সহায়তা

কুয়াশার চাদরে ঢাকা রাজধানী, কাটবে কখন জানাল আবহাওয়া অফিস

জয়া আহসানের ‘ওসিডি’ আসছে ৬ ফেব্রুয়ারি

রেজিস্ট্রি অফিসে ‘রহস্যজনক’ আগুন, পুড়ল ২০০ বছরের দলিল

রংপুরকে হারিয়ে বিশেষ বোনাস পেল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স

১০

পেশায় ব্যবসায়ী এ্যানি, বছরে আয় যত টাকা

১১

৩ দিনের মধ্যে ব্যানার-পোস্টার সরাবে বিএনপি

১২

সুসংবাদ পেলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

১৩

আজ রাষ্ট্রীয় শোকের শেষ দিন, বাদ জুমা দোয়া

১৪

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেন উসমান খাজা

১৫

সাড়ে ৭ ঘণ্টা পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল

১৬

আ.লীগের ৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

১৭

শুটিং ফ্লোরে বাড়তি খরচ নিয়ে যা বললেন ভিকি-কৃতি

১৮

উত্তেজনার মধ্যে ইয়েমেনের এক বিমানবন্দর বন্ধ

১৯

আরও একটি মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দিল সরকার

২০
X