কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:২২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

৩ গার্মেন্টস মালিকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশের উদ্যোগ

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ সরকার তিন গার্মেন্টস মালিকের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যায় বলা হয়, শ্রম অধিকার লঙ্ঘন ও সংশ্লিষ্ট আইনগত অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন আদালতে করা মামলার প্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা আদায়, মালিকপক্ষের গাফিলতি এবং দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানরত অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই সরকার রেড নোটিশের আবেদন করেছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন টিএনজেড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাৎ হোসেন শামীম, ডার্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান ইত্তেমাদ উদ দৌলাহ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাবিল উদ দৌলাহ এবং রোর ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুনুল ইসলাম। এদের বিরুদ্ধে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে দেশের বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা চলছে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতে দায়ের হওয়া মামলাকে ভিত্তি করেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল সদর দপ্তরে রেড নোটিশ জারির আবেদন পাঠানো হয়েছে। পুলিশের সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এনসিবি) স্বাক্ষরিত ওই পত্রে ইন্টারপোলের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়।

কেন রেড নোটিশ?

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত দেশের বৈদেশিক আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। এই খাতে কর্মরত শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, সময়মতো বেতন-ভাতা প্রদান এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। কিন্তু একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ এসব দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় মামলা গড়িয়েছে আদালতে। এরই ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, অভিযুক্ত মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে অনীহা দেখাচ্ছেন। এ অবস্থায় শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতা চাইতে বাধ্য হয়েছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে সরকার কঠোর অবস্থানে আছে। মালিকপক্ষের অবহেলার কারণে শ্রমিকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্যই এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন, এবং অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা জরুরি বলে মনে করছে সরকার।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে অতীতে শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘন, বেতন-বকেয়া এবং নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলেও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, অভিযুক্ত মালিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং ভবিষ্যতে অন্য কোনো মালিক যাতে শ্রমিকদের অধিকার হরণ করতে সাহস না পায়, সেজন্য এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আওয়ামী লীগের দুই নেতার পদত্যাগ

কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রাখা হয় যুবক আরিফকে

বিশ্লেষণ / লেবাননকে পররাষ্ট্রনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান

কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী / ‘বিরোধী দলের প্রধান কাজ দেশকে অশান্ত করা’

টিজারে বিজয় সেতুপতির হুঁশিয়ারি

সাবেক এমপির মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশি বেনাপোল দিয়ে ফেরত

‘ভারত-বাংলাদেশ এক হয়ে যাওয়া’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা চাইলেন ডা. শফিকুর রহমান

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি হলে লেবাননেও সংঘাত থামতে পারে

শাহবাগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বিড়াল, ২৫ মিনিট বন্ধ ছিল মেট্রোরেল

১০

নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশুর

১১

আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

১২

২০২৫ সালে ৫৬% বেসামরিক মৃত্যুর জন্য দায়ী ইসরায়েল

১৩

বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

১৪

কুয়েতে সরকারি স্ট্যাম্প জালিয়াতি চক্রের হোতা বাংলাদেশিরা, গ্রেপ্তার ৫

১৫

পতাকা বৈঠক ব্যর্থ : শিশুসহ ১২ জন এখনো শূন্যরেখায়

১৬

যমুনা চরের পিছিয়ে পড়া মানুষের শিক্ষা বিস্তারে স্থাপিত হচ্ছে রেসিডিন্সিয়াল কলেজ 

১৭

শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে যুবদলের শ্রদ্ধা

১৮

খেলা দেখে ফেরার পথে প্রাণ গেল যুবকের

১৯

নাঈমের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি চায় কোয়াব

২০
X