নুরুল আমিন
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৭:০৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

খাদ্য-দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার দায় কার?

খাদ্য-পণ্যের দামের চাপে দিশাহারা সাধারণ মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
খাদ্য-পণ্যের দামের চাপে দিশাহারা সাধারণ মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে দেশে খাদ্যদ্রব্য ও নিত্য-পণ্যের দাম নিয়ে বেশ শোরগোল হচ্ছে। খাদ্য-পণ্যের দামের চাপে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। সামগ্রীক মূল্যস্ফীতি ৯.৯২% হলেও নিত্য প্রয়োজণীয় খাদ্য-পণ্যের মূল্যস্ফীতি সাড়ে বার শতাংশ ছুয়েছেঁ যা গত এগার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে খবরে প্রকাশিত।

তারই রেশ ধরে সরকার কয়দিন আগে বাজারে আলু, পিয়াজ এবং ডিমের মূল্য বেধেঁ দিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। কিন্তু দাম নিয়ন্ত্রণে আসার পরিবর্তে কোথাও কোথাও বাজার থেকে এসব পণ্য উধাও হয়ে যাচ্ছে।

ভোক্তা অধিকারের মহা-পরিচালককে দেখে বেশ সজ্জন বলে মনে হয়। দাম নিয়ন্ত্রনে তার দৌড়-ঝাপ চোখে পড়ার মত। তবে সরকার ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যেই ছয় কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- নিত্য পণ্যে এত মূল্যস্ফীতি কেন? এত হৈচৈ, ভোক্তা অধিকারের এত দৌড়-ঝাঁপেও দাম কেন কমছে না?

কোন পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলেই ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট সিনিডকেট বলে একশ্রেণীর মিডিয়া ও জনগণের একাংশ চিৎকারে আকাশ-বাতাস তোলপাড় করে ফেলেন। কিন্তু দাম বৃদ্ধির আসল কারণ সবাই জেনেও চুপ করে থাকেন, যেন ওখানে ওনাদের কিছুই করার নেই। এ বছর শিল্প খাতে বিদ্যুতের খুচরা পযার্য়ে তিনবারে ১৫% বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। গত বছর কেজিতে ছয়টাকা সারের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। আবার ডিজেল এর দামও বাড়ে ২৩.৮%। তাহলে পরিবহণের খরচের সাথে হিমাগারের খরচ যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি সারেরও মূল্য বৃদ্ধিতে আলুর উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আমদানি ভিন্ন পেয়াজের বেলায়ও এটা সত্য। এ বছর শিল্প-কারখানায় গ্যাসের দাম বেড়েছে (প্রতি কিউবিক মিটার) ১১ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বা প্রায় তিন গুণ। বৃদ্ধি পেয়েছে ব্রয়লারের বাচ্চা, মুরগী ও খাবারের দাম। এক মাসেই ব্রয়লারের একদিনের বাচ্চা মুরগির দাম ৩৫ টাকা থেকে ৫২ টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পোলট্রি সমিতির অভিযোগ। তাহলে বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডিজেল, সার, মুরগির বাচ্চা ও খাবারের দাম বৃদ্ধির কারণে আপনা-আপনিই সকল নিত্য পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।

সাথে রয়েছে লাগামছাড়া দূনীর্তি ও অর্থ পাচার। যার ফলে ডলারের দাম বাড়ছে এবং বাড়ছে আমদানি মূল্য। তাই শুধু সিন্ডিকেটের দোষ দিয়ে লাভ নেই। সিনেডিকেট হয় অল্প কিছু উৎপাদনকারী বা ব্যবসায়ীর মধ্যে। শত শত বা হাজার হাজার ব্যবসায়ী-উৎপাদক যেখানে জড়িত সেখানে কীসের সিন্ডিকেটের কথা বিজ্ঞরা বলেন বুঝে আসে না।

আমাদের দেশে তিন/চারটা মোবাইল কোম্পানি আছে যাদের মধ্যে বোঝাপড়া হয়ে দাম বৃদ্ধির একটা গোপন আতাত হতে পারে বা সরকার যে ছয়টি প্রতিষ্টানকে ডিম আমদানির জন্য অনুমতি দিয়েছে তাদের মধ্যে ডিম বিক্রি নিয়ে বোঝাপড়া হতে পারে। যদিও ডিম আমদানির সিদ্ধান্ত পোলট্রি শিল্পের সাধারণ ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কিন্তু হাজার হজার আলু-পেয়াজ-ডিম ব্যবসায়ির মধ্যে সিন্ডিকেট ! হতেই পারে না।

এডিবি যখন চলতি বছরে মূল্যস্ফীতি ৬.৬% নেমে আসার আভাস দেয় তখন বিষ্ময় জাগে। আমরা সচেতন নাগরিকবৃন্দও অপেক্ষায় আছি সেটা দেখার জন্য। তাই বলছিলাম বাড়তি জ্বালানি, সার, মুরগির বাচ্চা ও খাবারের দাম কমা বা প্রয়োজণীয় ক্ষেত্রে সরকারি ভূর্তকি ব্যতীত এসমস্ত নিত্য পণ্যের দাম কমবে বলে মনে করি না।

আগামি শীত মৌসুমেও শাক-সবজি, তরিতরকারি কিংবা আলুর দাম তেমন কমবে না বলে অনুমান করা যায়। তবে রেল কর্তৃপক্ষ কৃষি পণ্য পরিবহণের যে উদ্যোগ নিয়েছে তাকে সাধুবাদ জানাই। জনগণের আস্হা অর্জন করতে পারলে পরিবহণ খরচ কিছুটা কমে আসবে বলে মনে করি। তাই এসকল নিত্য পণ্যের দাম কমাতে সরকার ছাড়া অন্য কারও তেমন কিছু করার নেই।

ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর দুদকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবেও কাজ করতে পারে। কিছু দুনীর্তিবাজ যারা অবৈধভাবে পণ্য মজুদ করে এবং সিন্ডিকেট করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছে তাদেরকে ধরতে পারে সরকার। যারা টাকা পাচার করে ডলার সংকট তীব্রতর করছে এবং আমদানি পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে পারে সরকার। তবে তার জন্য আগে দরকার সদিচ্ছা।

নুরুল আমিন : শিল্পদ্যোক্তা

[ নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। দৈনিক কালবেলার সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, দৈনিক কালবেলা কর্তৃপক্ষের নয়। ]
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে প্রবাসীদের পাহাড়সম প্রত্যাশা

রাশেদ খাঁনকে চিড়িয়াখানায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের’ সঙ্গে রাখবো: এমপি হানাজালা

হাম উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

৯২ শতাংশ ইসরায়েলি বিশ্বাস করেন ‘যুদ্ধে ইরান জয়ী হয়েছে’   

কিশোরীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩

গোল ব্যবধানের দিন শেষ, ভাগ্য নির্ধারণে এখন ‘হেড-টু-হেড’

শ্রবণশক্তি হ্রাসের এই ৫ লক্ষণ অধিকাংশ মানুষ উপেক্ষা করে

ভাগ্য বদলে ইতালি গিয়েও করুণ পরিণতি খোকনের

‘ভারত-বাংলাদেশ জুড়ে ছিল জিয়াউলের কিলিং নেটওয়ার্ক’

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

১০

লজ্জার রেকর্ড পেরিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০৯

১১

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হলেন সারওয়ার

১২

পঁয়ত্রিশে পা দিচ্ছেন? এই ৬ স্বাস্থ্য পরীক্ষা আপনার চেকলিস্টে থাকা উচিত

১৩

পরনারীর সঙ্গে ছবি তুলে উসকানিমূলক পোস্ট করতেন আলভী: ডিবি

১৪

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল আরও এক দেশ

১৫

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রধান বিষয় ‘লেবানন ইস্যু’

১৬

নৃত্যাঞ্চলের ৩০০ শিল্পীর ভরতনাট্যম নৃত্যে মন্ত্রমুগ্ধ সন্ধ্যা

১৭

হুট করেই আংটিবদল, কাকে বিয়ে করছেন গায়ক শেখ সাদী?

১৮

ইলিয়াস আলী গুমের বর্ণনা তুলে ধরলেন সাক্ষী

১৯

বিশ্বকাপের ফুটবল বানানো দেশটিই কখনো ফুটবল খেলেনি!

২০
X