১৩ দফা দাবি নিয়ে আগামী ৬ থেকে ৮ জুন ছাত্র ইউনিয়নের ৪২ তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ‘আমাদের শপথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে নূতন সূর্যশিখা জ্বলবেই’ এ স্লোগানকে ধারণ করে অনুষ্ঠিত হবে এ সম্মেলন। ইতোমধ্যে সংগঠনটির ৬০টি জেলা সংসদ সম্মেলন সফল করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
মঙ্গলবার (৪ জুন) বিকেল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে জানান সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি দীপক শীল, সাধারণ সম্পাদক মাহির শাহরিয়ার রেজা, সহকারী সাধারণ সম্পাদক প্রিতম ফকির এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রেজোয়ান হক মুক্তসহ অন্যান্য নেতারা।
দীপক শীলের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে একটি লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন মাহির শাহরিয়ার রেজা।
তিনি বলেন, এদেশের জনতার মুক্তির দিশা হয়ে উঠতে হবে ছাত্র সমাজকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন দীর্ঘদিন দিন ধরে শিক্ষা অধিকার আদায়, সাম্প্রদায়িকতা এবং সাম্রাজ্যবাদের অবসান জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ‘আমাদের শপথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে নূতন সূর্যশিখা জ্বলবেই’ এ স্লোগানকে ধারণ করে ১৩ দফা দাবিকে সামনে রেখে আগামী ৬ থেকে ৮ জুন, ২০২৪ ছাত্র ইউনিয়নের ৪২ তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ৬০টি জেলা সংসদ সম্মেলনকে সফল করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
এবারের উপলক্ষে সরকারের কাছে ১৩ দফা দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, একই ধারার বিজ্ঞানভিত্তিক ও অসাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতি চালু করতে হবে; শিক্ষাখাতে জিডিপির ৮ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে; শিক্ষা উপকরণের মূল্য কমাতে হবে; উচ্চশিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণে ইউজিসির নতুন কৌশলপত্র বাতিল করতে হবে; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত কমিয়ে ৩০:১ করতে হবে; বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নতুন জ্ঞান সৃষ্টির পথিকৃৎ এবং গবেষণামুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে; শিক্ষা শেষে কাজের নিশ্চয়তা দিতে হবে। কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করতে হবে; সরকারি চাকুরির পরীক্ষায় আবেদন ফি বাতিল করতে হবে; প্রয়োজনীয় সংখ্যক গুণ-মান সম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগে দলীয় ও স্বজনপ্রীতি পরিহার করে দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতনের ব্যবস্থা করতে হবে; বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে; বাক-স্বাধীনতা হরণকারী সকল কালাকালুন বাতিল করতে হবে; বাজার সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য কমাতে হবে ইত্যাদি।
দীপক শীল তার বক্তব্যে বলেন, এ রাষ্ট্র, এ সরকার আমাদের একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাচ্ছে, অপরদিকে আমাদের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনগণের উপর করের বোঝা বাড়ানো হচ্ছে। শিক্ষাগ্রহণের অধিকারের পাশাপাশি আমাদের শিক্ষা শেষে কর্মের নিশ্চয়তার জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে। দেশে বেকারের সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। অথচ সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে নজর না দিয়ে, সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার নামে বেকারদের ঘাড় ভেঙে অর্থ আদায় করছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ভোটাধিকার হরণ করে আমাদের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে যাকে ইচ্ছা তাকে কারাগারে প্রেরণ করছে। এ সরকার কোন সমালোচনা শুনতে আগ্রহী নয়। সমালোচনা করলে মামলা, জেল, নির্যাতন নেমে আসছে তার উপর। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোকে কনসেনট্রেশান ক্যাম্প বানিয়ে রাখা হয়েছে। আমাদের দেশকে এ ভয়ানক পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে বরাবরের মত এদেশের ছাত্র সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।
মন্তব্য করুন