সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি সাংবাদিককে অপহরণের পর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে মালয়েশিয়া মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ। তারা জানান, অপহরণের মতো কর্মকাণ্ড কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না, দেশটির জনগণের কাছে সঠিক বার্তা দেওয়ার জন্য হলেও এর তদন্ত করা দরকার।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) স্থানীয় মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ এক বিবৃতিতে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আহ্বান জানায়।
রাকান মিডিয়া মারদেকার মুখপাত্র রাদজি রাজাক জানান, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
রাদজি রাজাক বলেন, এই ঘটনায় মালয়েশিয়া পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করি, যার ফলে সাংবাদিক অপহরণের সঙ্গে জড়িত ছয় ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে তাদের অঙ্গীকার সত্যিই প্রশংসনীয়।
দেশটির পুলিশের আইজিপি তান শ্রী রাজারুদিন হুসেইন বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, তা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করার প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেন।
এ সময় পুলিশের আইজিপি আরও বলেন, আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যের সঙ্গে আপস করব না, যদি তারা কোনো ধরনের অন্যায় কাজে জড়িত থাকে।
এর আগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সাংবাদিক কালবেলাকে বলেন, গত ৭ নভেম্বর তিন স্থানীয় ব্যক্তি নিজেদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য পরিচয় দিয়ে তার পুত্রজায়ার বাসায় এসে আমাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে নিয়ে যায়। এর পরে আমাকে শাহ আলমের একটি জায়গায় নিয়ে যায় এবং সেখানে আরও কয়েকজন লোকের সাথে একটি বিএমডব্লিউ গাড়িতে উঠিয়ে একটি বনাঞ্চলে নিয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় গাড়িতে ঘুরাঘুরি করে তারা সেলাঙ্গরের ক্লাং-এর আশেপাশে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে নির্যাতনের মাত্র এতো বেশি ছিলো যে, হয়তো অল্পসময়ের মধ্যে মারা যেতাম এবং আমি ভয়ঙ্কর অন্ধকার সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। সেই সঙ্গে অপহরণকারীরা আমার কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ১৯ লাখ মালয় রিঙ্গিত দাবি করে।
তিনি আরও বলেন, পরে তাকে একটি হত্যাকাণ্ডের ভিডিও দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয়, তাদের দাবি অনুযায়ী মুক্তিপণ না দিলে তার সঙ্গে একই কাজ করা হবে। এতে প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যান ভুক্তভোগী সাংবাদিক। প্রাণভয়ে অপহরণকারীদের ৫০ হাজার মালয় রিঙ্গিত অনলাইনে ট্রান্সফার করে দেন তিনি।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেলাঙ্গর রাজ্যের ক্লাং এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও তিনজনকে খুঁজছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন