বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৫, ০৯:১৬ পিএম
আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৫, ০৯:২৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সরাসরি চাঁদে আঘাত হানতে পারে গ্রহাণু, মহাজাগতিক বিস্ফোরণের শঙ্কা

প্রতীকী ছবি।
প্রতীকী ছবি।

পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে ছুটে যাবে ভয়ংকর এক গ্রহাণু (অ্যাস্টেরয়েড)। গ্রহাণুটির নাম ‘২০২৪ ওয়াইআর৪’। এর আকার প্রায় ১৫ তলা ভবনের সমান, অর্থাৎ প্রায় ২০০ ফুট চওড়া। পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে গেলেও এটি সরাসরি চাঁদের বুকে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, যদি এই গ্রহাণুটি সত্যিই চাঁদের গায়ে আছড়ে পড়ে, তাহলে এটা হবে এই দশকের সবচেয়ে নাটকীয় ও দৃশ্যমান মহাজাগতিক ঘটনা—যা সাধারণ টেলিস্কোপ দিয়েও খালি চোখে দেখা যাবে। বিশাল এই সংঘর্ষে চাঁদের পৃষ্ঠে এক কিলোমিটার চওড়া গর্ত তৈরি হতে পারে এবং ঘটতে পারে বিশাল এক বিস্ফোরণ।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাজাগতিক এই ঘটনা ঘটতে পারে ২০৩২ সালের ২২ ডিসেম্বর। নাসার সর্বশেষ হিসাব বলছে, এর চাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে প্রায় ৪.৩ শতাংশ।

তবে আশঙ্কার কিছু নেই—এই ধাক্কা চাঁদের কক্ষপথে বা পৃথিবীর ওপর সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু এতে চাঁদের কিছু ধ্বংসাবশেষ (মেটিওর) বুলেটের মতো গতিতে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসতে পারে। যদিও বেশিরভাগ টুকরো বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পুড়ে যাবে, তবে কিছু অংশ স্যাটেলাইট ও জিপিএস, ইন্টারনেট, আবহাওয়া পূর্বাভাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

নাসার প্ল্যানেটারি ডিফেন্স ইউনিটের মলি ওয়াসার জানান, এই গ্রহাণুটি এখন সূর্যের চারপাশে ঘুরছে এবং এর গতি ও কক্ষপথ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সাহায্যে। এর আগে ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা ধরা হয়েছিল ৩.৮ শতাংশ, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৩ শতাংশে।

নাসা ছাড়াও ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি এবং আরও কিছু আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থা এখন এই পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যদি ‘নিউমির’ নামের ইনফ্রারেড টেলিস্কোপটি আগে থেকেই সচল থাকত, তাহলে এই গ্রহাণুটি আরও এক মাস আগে শনাক্ত করা যেত। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে থাকবে।

এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, মহাকাশে আমাদের অবস্থান কতটা অনিশ্চিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ। পৃথিবী সরাসরি এই সংঘর্ষের শিকার না হলেও, এটি হতে পারে এক যুগান্তকারী বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের সুযোগ—যা গ্রহ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাই করার ক্ষেত্রেও একটি পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

গ্রহাণুটি যদি শেষ পর্যন্ত চাঁদের গায়ে আঘাত হানে, তাহলে তা হবে একদিকে মহাজাগতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য দৃশ্য, অন্যদিকে পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে বেড়ানো উপগ্রহগুলোর জন্য বড় ধরনের প্রযুক্তিগত হুমকি। ফলে ২০৩২ সালের ২২ ডিসেম্বর দিনটি এখন থেকেই মহাকাশপ্রেমীদের ক্যালেন্ডারে লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করে রাখাই যথাযথ।

কালবেলা/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর, দুই ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার

ডিমলায় বাড়ছে অনলাইন জুয়ার বিস্তার, উদ্বেগে অভিভাবক ও সচেতন মহল

বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষা

জুলাই শহীদদের স্মরণে ঢাবি কেন্দ্রীয় মসজিদে ছাত্রদলের দোয়া ও মিলাদ বুধবার

বিয়ে নিয়ে শুভঙ্করের ফাঁকি, জামায়াত এমপির গোমর ফাঁস করলেন কাজী  

থাইল্যান্ডে আন্তঃদেশীয় অপরাধ সম্মেলন শেষ, কর্মব্যস্ত সময় কাটালেন আইজিপি

রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

আরএফএল কর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, সহকর্মী পলাতক

অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা, হাঙ্গেরিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

নতুন বাংলাদেশ গড়তে এনসিপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: হাসনাত আব্দুল্লাহ

১০

‘রাজনৈতিক বিভেদের ঊর্ধ্বে থেকে আইনজীবীদের কল্যাণে কাজ করতে হবে’

১১

বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারিতে যে শাস্তি পেতে পারেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা

১২

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়তে চান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট, দাবি ট্রাম্পের

১৩

হুতিদের হুমকির মুখে লোহিত সাগর থেকে ফিরে গেল ২ সৌদি জাহাজ

১৪

চুক্তি আগস্টে / এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার

১৫

উন্নয়ন কোনো দলের নয়, জনগণের অধিকার: মান্নান

১৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাদের প্রার্থী হতে সুযোগ দেবে না ইসি

১৭

কুয়াকাটায় বসতবাড়ি থেকে পদ্ম গোখরা উদ্ধার

১৮

ইরানে হামলা না চালালে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না: ট্রাম্প

১৯

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের খাদ্য সহায়তা

২০
X