কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৪৭ এএম
আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ১১:০৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ

রোহিঙ্গাদের কাছে সাহায্য চাইছে সামরিক জান্তা

২০১৬-১৭ সালে চালানো গণহত্যায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। ছবি : সংগৃহীত
২০১৬-১৭ সালে চালানো গণহত্যায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। ছবি : সংগৃহীত

বছরের পর বছর ধরে মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর দ্বারা নির্যাতিত হয়ে আসছে দেশটির সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গারা। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও শিশুহত্যাসহ সব ধরনের মানবিক অপরাধ চালানো হয়েছে তাদের ওপর। সর্বশেষ ২০১৬-১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো হয় গণহত্যা। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশ হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করে এবং জীবন বাঁচাতে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পার্শ্ববর্তী দেশ বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

২০২১ সালে নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতা গ্রহণ করে সেনাবাহিনী। তবে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে মিয়ানমারের জনগণ। বহু উপজাতির দেশটিতে এরপর শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। সম্প্রতি বিদ্রোহীরা সেনাবাহিনীকে হটিয়ে দেশটিতে বিভিন্ন অঞ্চল ও শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। রাখাইনে জান্তা বাহিনী পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে বলে মনে করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের সহায়তা চাইছে দেশটির সামরিক জান্তা।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে বিবিসির সাংবাদিকরা জানতে পেরেছেন, জান্তা বাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করতে রোহিঙ্গাদের নিজেদের দলে নিচ্ছেন সেনারা।

নিজ উদ্যোগে সেনা দলে যোগদান না করলে জোরপূর্বক সেনাবাহিনীর দলে নেওয়া হচ্ছে তাদের। বিবিসি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অন্তত ১০০ জন রোহিঙ্গাকে বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিবিসি এমন সাতজন রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের আসল নাম প্রকাশ করেনি বিবিসি। মোহাম্মদ (ছদ্মনাম) নামের এক রোহিঙ্গা বিবিসিকে বলেন, ‘আমি ভীত ছিলাম, কিন্তু আমাকে যেতে হয়েছিল।’ তিনি রাখাইনের রাজধানী সিত্তওয়ের কাছে বাও দু ফা ক্যাম্পে থাকেন।

গত এক দশক ধরে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত অন্তত দেড় লাখ রোহিঙ্গা আইডিপি ক্যাম্পে থাকতে বাধ্য হয়েছে। তিন সন্তানের জনক ৩১ বছর বয়সি মোহাম্মদ জানান, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ক্যাম্পের নেতা গভীর রাতে আমার কাছে আসেন। তিনি বলেছিলেন, আমাকে সামরিক প্রশিক্ষণে যেতে হবে, এটি সেনাবাহিনীর আদেশ। আদেশ না মানলে আমার পরিবারের ক্ষতি করা হবে বলে তারা হুমকি দিয়েছিল।

মোহাম্মদের মতো রোহিঙ্গা পুরুষদের জন্য চরম পরিহাসের বিষয় হলো- মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা এখনো নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত। আর নিজস্ব সম্প্রদায়ের বাইরে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার মতো বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধের একটি ভয়ানক পরিস্থিতির শিকার তারা।

২০১২ সালে রাখাইন রাজ্যের মিশ্র সম্প্রদায় থেকে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। আর তাদের নির্ধারিত এসব শিবিরে বসবাস করতে বাধ্য করা হয়েছিল। পাঁচ বছর পর ২০১৭ সালের আগস্টে সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে নৃশংস জাতিগত নিধন অপারেশন শুরু করে। সেই নিধন অপারেশনে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়। ধর্ষণ করা হয় তাদের নারীদের। এ ছাড়া জ্বালিয়ে দেওয়া হয় তাদের গ্রাম। ওই সময় অন্তত ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। তা সত্ত্বেও এখনো প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমারে টিকে আছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলার কার্যক্রম এখনো চলছে।

সম্প্রতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির কাছে রাখাইন অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভূখণ্ডে দখল হারানোর পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশের অন্যান্য অংশেও ক্ষতির শিকার হয়েছে দেশটির সামরিক জান্তা। শনিবার পূর্বাঞ্চলে থাইল্যান্ড-মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ শহর মায়াবতীর দখল হারিয়েছে ক্ষমতাসীন জান্তা। বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসাবে এই স্থলবন্দরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সংঘর্ষগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সেনাও হারিয়েছে তারা। বিদ্রোহীদের হামলায় অনেক সেনা নিহত হয়েছে, আত্মসমর্পণ করেছে কেউ কেউ। ফলে নতুন সেনা খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে জান্তা। সেনাবাহিনীতে সদস্য বাড়াতে এখন রোহিঙ্গাদের শরণাপন্ন হচ্ছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সুরভীর সঙ্গে ন্যায়বিচার হয়নি, পুরো বিষয়টি বানোয়াট : নাহিদ

ছুটির তালিকা সংশোধনের আহ্বান প্রাথমিক শিক্ষকদের

নাক বন্ধ? আরাম পেতে সহজ কিছু পরামর্শ

লবণের পরিমাণ কম না বেশি, কোনটা ক্ষতিকর

বিপিএল: সিলেট পর্বের বাকি ম্যাচে নিরাপত্তা দিতে নারাজ পুলিশ

ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে বিসিবিকে ‘রাজি করাতে’ নতুন প্রস্তাব বিসিসিআইয়ের

ইউএপি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন কে. এম. মোজিবুল হক

আজ রোদের দেখা মিলবে কি না যা জানা গেল

কতজন সেনা গিয়ে মাদুরোকে তুলে নিয়েছিল, জানাল যুক্তরাষ্ট্র

চুয়াডাঙ্গায় ৭ ডিগ্রির হাড় কাঁপানো শীত, জনজীবন স্থবির

১০

জকসু নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু 

১১

ইরান নিয়ে একাট্টা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল, কী হতে যাচ্ছে সামনে

১২

রবিউলের লাশ ফেরত দিল বিএসএফ

১৩

জকসু নির্বাচন : ক্যাম্পাসে কড়া নজরদারিতে শিক্ষক-কর্মকর্তারা

১৪

ঠান্ডায় মাংসপেশির ব্যথা: কারণ, করণীয় ও প্রতিরোধের উপায়

১৫

ঢাকায় দিনের তাপমাত্রা কেমন থাকবে জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

১৬

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের জন্মদিন পালন, ৫ শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

১৭

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

১৮

শাহ সুলতান কলেজে বাস উপহার দিচ্ছেন তারেক রহমান

১৯

ব্যস্ত সকালে সহজ কিছু নাশতার আইডিয়া

২০
X