কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০১:৩১ পিএম
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৩:০৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের তাণ্ডব, বাস্তুচ্যুত ৩৫ হাজার ফিলিস্তিনি

ইসরায়েলি সেনারা শুধু স্থানীয় বাসিন্দাই নয়, শরণার্থী শিবিরের অধিবাসীদেরও উচ্ছেদ করা হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলি সেনারা শুধু স্থানীয় বাসিন্দাই নয়, শরণার্থী শিবিরের অধিবাসীদেরও উচ্ছেদ করা হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলা থামেনি। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর 'অপারেশন আয়রন ওয়াল' অভিযানের কারণে অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে ৩৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। শুধু স্থানীয় বাসিন্দাই নয়, শরণার্থী শিবিরের অধিবাসীদেরও উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

২১ জানুয়ারি থেকে ইসরায়েলি বাহিনী জেনিন ও আশপাশের শহর এবং শরণার্থী শিবিরে অভিযান চালায়। এতে অন্তত ২৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। ২৭ জানুয়ারি তুলকারম শহরে নতুন করে হামলায় আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে দুই বছর বয়সী এক শিশুও ছিল, যাকে ইসরায়েলি এক স্নাইপার গুলি করে হত্যা করে।

এ ছাড়া অধিকৃত এই ভূখণ্ডের নূর-শামস শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি সেনাদের অভিযান চলাকালে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী নিহত হয়েছেন। হামলায় ওই নারীর গর্ভের সন্তানও নিহত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা জেনিন, তুলকারাম, নুর শামস, তুবাস, ফারা’আ, তামুনসহ বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর ধ্বংস করছে এবং ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করছে। ইসরায়েলি সেনাদের দাবি, এসব এলাকায় সশস্ত্র প্রতিরোধ যোদ্ধাদের আস্তানা রয়েছে।

তবে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা বলছেন, তারা বছরের পর বছর ধরে এসব এলাকায় বসবাস করে আসছেন এবং এখন তাদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিরা অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছেন, যেখানে মৌলিক প্রয়োজনীয়তার অভাব রয়েছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং চিকিৎসাসেবার সংকট দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, এই যুদ্ধবিরতি একটি অস্থায়ী পদক্ষেপ, এর মেয়াদ কখন শেষ হবে, তা নির্ধারণ করবে তেল আবিব।

যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা বিলম্বিত হয়েছে। নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরের পরই ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ফিলিস্তিনিদের পশ্চিম তীর থেকে উচ্ছেদ করে মিসর ও জর্ডানে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, যদি আমরা একটি সুসংগত কর্মপরিকল্পনার কথা বলি, তাহলে বিস্তারিত জানার জন্য অপেক্ষা করা উচিত। আমরা গাজায় বসবাসকারী প্রায় ১২ লাখ ফিলিস্তিনির কথা বলছি, যাদের জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য সমস্যার দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ সত্ত্বেও ইসরায়েলি সেনারা পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংবাদ সংস্থা বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু প্রকাশ্যেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি ট্রাম্পকে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু বলে অভিহিত করেছেন।

নেতানিয়াহু বলেন, বাইডেন প্রশাসনের অধীনে যেসব অস্ত্র আটকে ছিল, ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর সেগুলোর সরবরাহ পুনরায় চালু করেছেন। তিনি নির্দিষ্ট কিছু ইহুদি বসতির ওপর আরোপিত ‘অন্যায় নিষেধাজ্ঞা’ প্রত্যাহার করেছেন। এ ছাড়া জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএকে আর মার্কিন তহবিল না দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।

ইসরায়েলের এই সামরিক অভিযান ও মার্কিন সমর্থনকে কেন্দ্র করে পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেও পশ্চিম তীরে গণউচ্ছেদ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দেবে।

সূত্র : আল-জাজিরা ও মিডল ইস্ট মনিটর

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সংরক্ষিত এমপিকে স্পিকার / ২ মিনিটে শেষ করুন, বাকি কথা টকশোতে বলবেন

মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ফ্লুর প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত ২০০

হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে? জেনে নিন কখন এটি বিপদ সংকেত

মেঘালয়ের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে সিলেটে বন্যার শঙ্কা, তলিয়েছে সাদাপাথর

প্রেমিককে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগ, প্রেমিকাসহ আটক ৪

চীনা যুদ্ধবিমান অনুপ্রবেশ, জবাবে পাঁচ দিনের যুদ্ধ প্রস্তুতি মহড়া তাইওয়ানের 

আনন্দ ভ্রমণে যেতে দোকানে দোকানে চাঁদা চেয়ে চিঠি

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমিরকে নিয়ে বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

শিশু রিফাত হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরে সঙ্গী হিসেবে কারা আছেন

১০

বাবার অসিয়তের জায়গায় দাফনে সন্তানদের বাধা, ৩ স্থানে খোঁড়া হলো কবর

১১

১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আমিরাতের 

১২

সিলেটের সাদাপাথর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা

১৩

পরের দুই ম্যাচে জিততে না পারলে কী হবে আর্জেন্টিনার?

১৪

জীবনের প্রথম খিঁচুনি কি ক্যানসারের লক্ষণ? যা বলছে গবেষণা

১৫

ফৌজদারি অপরাধে দণ্ড নির্ধারণে অভিন্ন মানদণ্ড চায় আইন কমিশন

১৬

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে বিজনেস ডিপার্টমেন্টে এআই নিয়ে ২ দিনের কর্মশালা

১৭

সুইস পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন আব্বাস আরাগচি

১৮

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শুরু

১৯

১০০০তম বিশ্বকাপ ম্যাচ: সংখ্যার আড়ালে লুকানো চমকপ্রদ তথ্য

২০
X