ইসরায়েলে ঢুকে হামাসের আকস্মিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এ হামলায় প্রায় ৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের বিমান হামলায় নির্বিচারে বেসামরিক লোকজন নিহত হচ্ছেন। এখন আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে জাতিসংঘ কেন ইসরায়েলের বিমান হামলার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে না?
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের বিমান হামলায় জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে বিবিসির সাংবাদিক জেমস ল্যান্ডেল বলেছেন, অনেক দেশ ইসরায়েলকে তাদের বিমান হামলা বন্ধ করার কথা না বলার প্রধান কারণ হলো তারা এটা স্বীকার করে যে ওই দেশটির ওপরে হামাস আক্রমণ করেছে এবং আত্মরক্ষার অধিকার তাদের আছে। ইসরায়েল কীভাবে আত্মরক্ষা করবে, সেই পদ্ধতিতে সংযম দেখানোর কথা বলছে বিভিন্ন দেশ।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেছেন, 'আমি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময়ে বলেছি যে, বেসামরিক মানুষের ওপরে যাতে সবথেকে কম প্রভাব পড়ে, সেই চেষ্টা করতে হবে।’ জাতিসংঘও ইসরায়েলকে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কয়েকদিন আগে বলেছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকার আইনকে অবশ্যই সম্মান জানাতে ও তুলে ধরতে হবে। বেসামরিক নাগরিকদের অবশ্যই রক্ষা করতে হবে এবং তাদের কখনও মানবঢাল হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।’
জেমস ল্যান্ডেল আরও বলেন, ইসরায়েল জোর দিয়ে বলেছে যে তাদের যুদ্ধবিমান এবং রকেট-মিসাইলগুলি গাজায় হামাসকে লক্ষ্য করেই চালানো হচ্ছে। যদিও এই হামলায় অনেক বেসামরিক নাগরিক নিহত আর আহত হচ্ছেন।
ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ জানিয়েছে, মাত্রাতিরিক্ত ইসরায়েলি হামলার সময়ে কোনো বাছবিচার করা হচ্ছে না। অন্যদিকে, ইসরায়েল বলছে, এর কারণ হলো হামাস বেসামরিক নাগরিকদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ঢুকে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের যোদ্ধারা। এই হামলার পর থেকে ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের সংঘাত চলছে। ইসরায়েলি বাহিনী নির্বিচারে হামলা করছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়। ইসরায়েলি বাহিনীর এই হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। আর হামাসের হামলায় সহস্রাধিক ইসরায়েলির মৃত্যু হয়েছে।
মন্তব্য করুন