অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল স্থল অভিযান শুরু করেছে। দেশটি গাজার বিভিন্ন হাসপাতালেও হামলা চালিয়েছে। এতে প্রকট হচ্ছে গাজার মানবিক সংকট। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গাজার সব হাসপাতাল বন্ধ হতে পারে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। খবর আলজাজিরার।
ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর অনুসারে, ইসরায়েল ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ২৫ হাজার টনের বেশি বিস্ফোরক ফেলেছে, যা দুটি পরমাণু বোমার সমান।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিক্ষেপ করা লিটল বয় পরমাণু বোমাটি ১৫ হাজার টন উচ্চ বিস্ফোরক উৎপাদন করেছিল এবং এক মাইল (১.৬ কিলোমিটার) ব্যাসার্ধের মধ্যে সবকিছু ধ্বংস করেছিল।
ইসরায়েল বলেছে, তারা ৭ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কমপক্ষে ১২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে তীব্র বোমা হামলার নজির।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, জ্বালানি না থাকা, ক্ষয়ক্ষতি, হামলা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে গাজার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে ২২টি হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এখনো সেখানে ১৪টি হাসপাতাল খোলা আছে। তবে সেগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ও জীবন রক্ষাকারী সার্জারি এবং নিবিড় পরিচর্যাসহ ইনপেশেন্ট সেবাদানের নগণ্য সরঞ্জাম রয়েছে।
এসব তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, বেসামরিক নাগরিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সুরক্ষা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে নিশ্চিহ্নের নামে গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় ১১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাড়ে সাত হাজারের বেশি নারী ও শিশু রয়েছে।
মন্তব্য করুন