কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১০:০৭ পিএম
আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১০:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

অবশেষে পদত্যাগ করলেন জাস্টিন ট্রুডো

জাস্টিন ট্রুডো। ছবি : সংগৃহীত
জাস্টিন ট্রুডো। ছবি : সংগৃহীত

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো পদত্যাগ করেছেন। আজ (সোমবার) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১০টায় নিজ বাসভবন রিডো কটেজে এক সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। খবর বিবিসির।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ট্রুডো বলেন, আমি মনে করি কানাডার জনগণ পরবর্তী নির্বাচনে প্রকৃত পছন্দের নেতা খুঁজে বের করার দাবিদার।

তিনি বলেন, এটা স্পষ্ট যে, যদি আমাকে ‘অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ’ লড়তে হয় তাহলে কানাডিয়ানদের জন্য ব্যালটে সেরা বিকল্প হতে পারবেন না। আমি অনেক ভেবেছি এবং আমার পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা আমার পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।

জনগণের উদ্দেশ্যে ট্রুডো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমি আমার দেশ এবং আপনাদের জন্য লড়েছি। আমি দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছি। আমি সবসময় আমার দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, তবে এখন দেশ এবং সময় পাল্টেছে। আমি মনে করি ‘নতুন সূচনা করার সময়’ এসেছে। তিনি বলেন, আশা করি আমার পদত্যাগ দেশের রাজনীতিতে তৈরি হওয়া উত্তাপ কমিয়ে আনবে। এমন একটি সরকার আসবে যারা কানাডার জনগণের সমস্যাগুলোর দিকে খেয়াল রাখবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক চাপের মুখে ছিলেন ট্রুডো। দেশের রাজনীতিতে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। বর্তমান সময়ে তার জনপ্রিয়তা অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। বিরোধীরা তো বটেই, তার নিজ দলের মধ্য থেকেও তার পদত্যাগের দাবি উঠছিল।

এরআগে কানাডার প্রধান সংবাদমাধ্যম গ্লোব অ্যান্ড মেইল জানিয়েছিল, সোমবারের মধ্যেই পদত্যাগের কথা ঘোষণা করতে পারেন ট্রুডো।

ট্রুডো ২০১৩ সালে কানাডার লিবারেল পার্টির নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তখন কানাডার লিবারেল দল ছিল গভীর সংকটে এবং প্রথমবারের মতো হাউস অব কমন্সে তৃতীয় স্থানে নেমে গিয়েছিল। তার নেতৃত্বে দলটি পুনরুজ্জীবিত হলেও, বর্তমান সময়ে ট্রুডোর জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে।

তবে ট্রুডোর পদত্যাগের পর লিবারেল পার্টি রাজনৈতিক মঞ্চে স্থায়ী নেতৃত্ববিহীন অবস্থায় চলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষত যখন নির্বাচনের আগে জরিপগুলোও বলছে, আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে লিবারেলরা রক্ষণশীলদের কাছে ব্যাপকভাবে পরাজিত হতে পারে। এর ফলে নতুন নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো অর্থমন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্কের সঙ্গে আলোচনা করেছেন, যাতে তিনি অন্তর্বর্তী নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে ইচ্ছুক কিনা। এক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এভাবে, ট্রুডোর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কানাডার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে। যা লিবারেল পার্টির ভবিষ্যতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির টাকা কী করা হবে, জানাল যুক্তরাষ্ট্র

উত্তর আটলান্টিকে তেলবাহী জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র

জয় দিয়েই খাজাকে বিদায় বলল অস্ট্রেলিয়া

মুড়ি পার্টিতে নিয়ে স্কুলছাত্র নিহত

আগের মতো কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না : সিইসি

স্বর্ণ কিনবেন, জেনে নিন আজকের বাজারদর

নাম প্রকাশের পর শুভেচ্ছায় ভাসছে ক্যাটরিনার ছেলে

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক মজনুর জানাজায় কবীর ভূঁইয়া

উচ্চ রক্তচাপ কোনো রোগ নয়, এটি একটি সতর্ক সংকেত

আলোচিত রুবেল হত্যা মামলা / ১৯ বছর পর রায়, ৪ আসামির মৃত্যুদণ্ড

১০

আমিরাতে পালিয়েছেন এসটিসি নেতা আল-জুবাইদি

১১

খালেদা জিয়া কর্মের জন্য অমর হয়ে থাকবেন : দুলু

১২

পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি নিয়ে নতুন নির্দেশনা

১৩

জীবন বদলে দিতে পারে এমন ৫ অভ্যাস

১৪

সাতসকালে বোমা বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল একজনের

১৫

কেমন থাকবে আজ ঢাকার আবহাওয়া

১৬

রাজশাহীর ৬ আসনে হলফনামা / ‘ধার ও দানের’ টাকায় নির্বাচন করবেন ৮ প্রার্থী

১৭

মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখার ৪ কার্যকর অভ্যাস

১৮

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

১৯

আবারও বিশ্বসেরা আফগানিস্তানের জাফরান

২০
X