ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) এবারের নির্বাচনে প্রথম ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যেখানে ১০টি দফায় বৈচিত্র্যময় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাঙ্গন গড়ার প্রত্যয় জানানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাবির কলা অনুষদের সামনে বটতলা প্রাঙ্গণে ছাত্রদল প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।
এতে শিক্ষা ও গবেষণাকে প্রাধান্য দিয়ে আধুনিক, আনন্দময়, বসবাসযোগ্য ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। এ ছাড়া একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির ভ্রাতৃপ্রতিম এই ছাত্র সংগঠনটি।
ভিপি পদপ্রার্থী আবিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ডাকসু নির্বাচন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। ছাত্রদলের ১০টি মূল অঙ্গীকার সংবলিত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা যুগোপযোগী ও আধুনিক হবে; একটি নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে উঠবে।’
যা আছে ১০ দফায়: ছাত্রদল তাদের ইশতেহারে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যবীমা, কারিকুলাম ও গবেষণার আধুনিকায়ন, পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও শাটল সার্ভিস, হয়রানিমুক্ত প্রশাসনিক সেবা, শিক্ষাঋণ ও কর্মসংস্থান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, ডিজিটাল সুবিধা ও সাইবার নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রাণীবান্ধব ক্যাম্পাস এবং কার্যকর ডাকসু প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইশতেহারে আরও রয়েছে—গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতি, জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দমন-নিপীড়নের মতো চর্চা বন্ধ করে ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বমুক্ত করা; নতুন আবাসিক হল নির্মাণ করে ভর্তির দিন থেকেই শিক্ষার্থীদের জন্য ‘একটি সিট ও একটি পড়ার টেবিল’ নিশ্চিত করা; ক্যান্টিন ও ক্যাফেটেরিয়ায় ভর্তুকি বৃদ্ধি ও খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ করা। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিটি হলে স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট, মেডিকেল সেন্টারে নারী চিকিৎসকের উপস্থিতি, সান্ধ্য আইন বিলোপ ও পোশাকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন, সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা এবং জরুরি ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
কোর্স কারিকুলাম নিয়মিত পর্যালোচনা, ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ডিজিটালাইজেশন, নতুন বাস রুট, মেধাভিত্তিক বৃত্তি ও শিক্ষাঋণ, ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন, ডিজিটাল দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং প্রাণীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সংগঠনটি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের অলিম্পিয়াড, সিম্পোজিয়াম, সেমিনার ও একাডেমিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ছাত্রদল প্যানেলের ইশতেহারে।
ইশতেহার ঘোষণার সময় সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী তানভীর বারী হামিম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল জয় লাভ করলে গেস্টরুম কালচার আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসবে, এ রকম একটা প্রোপাগান্ডা (অপপ্রচার) আছে। এই প্রোপাগান্ডার বিষয়ে আমাদের সোচ্চার থাকতে হবে। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে ওয়াদাবদ্ধ যে এটা কখনো ফিরবে না।’
ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের আমাদের আস্থায় নিতে হবে। আর যারা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে তাদের প্রোপাগান্ডার বিপরীতে শিক্ষার্থীদের আস্থায় নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে এ বিষয়ে একদম ওয়াদাবদ্ধ, জেনারেশন পর জেনারেশন ধরে আমরা ওয়াদাবদ্ধ।’
আর ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ করে রূপরেখা প্রণয়ন কমিটির কাছে ছাত্রদল লিখিতভাবে দাবি করেছে গেস্টরুম, গণরুম কালচার এবং জোরপূর্বক শিক্ষার্থীদের দলীয় কর্মসূচিতে নিয়ে যাওয়া, এটা লিখিতভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। এটা ছাত্রদল দাবি করেছে। তারপরও প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।’
মন্তব্য করুন