কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সেই দিনটি

মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন

জন্মদিন
মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন

মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন বাঙালি লোকসংগীত, লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও লোকসাহিত্য বিশারদ। একটা জাতি বা সমাজের সার্বিক জীবনধারার বিচিত্র প্রকাশই সংস্কৃতি। আর এ সংস্কৃতি বলতে আমরা বুঝি লোকজ জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি নিখুঁত চিত্র; যেখানে জীবনের হাসি-কান্না, গৌরবগাথা ও সুখ-দুঃখের বিচিত্র প্রকাশ ঘটে সাহিত্য হিসেবে, যাকে আমরা লোকসাহিত্য বলি। লোকসাহিত্য নিয়ে যিনি গবেষণা করেন তিনি লোকবিজ্ঞানী। সেরকমই একজন লোকবিজ্ঞানী ড. মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন। তিনি ১৯০৪ সালের ৩১ জানুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার মুরারীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন ১৯২১ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯২৬ সালে বিএ পাস করেন। ১৯২৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। ছাত্র হিসেবে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ডিয়ান ভার্নাকুলার্সে প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান অধিকার করে এমএ পাস করেন। তার আগে আর কোনো মুসলিম ছাত্র প্রথম শ্রেণি পাননি। অল্প বয়সে লোকসাহিত্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেন। লোকসাহিত্য সংগ্রহে তার আত্মনিবেদন ঘটে ‘প্রবাসী’ পত্রিকা পাঠে। পত্রিকাটি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হতো এবং সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সংগৃহীত লালনের গান ছাপা হয়, যা কিশোর কবি হিসেবে তাকে লালনের গান সংগ্রহে অনুপ্রেরণা জোগায়। পরবর্তী সময়ে প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছ থেকে। আহমদ শরীফের ভাষায়, নবযৌবনে রবীন্দ্রনাথের স্নেহধন্য ও অবনীন্দ্রনাথের আদরপুষ্ট হয়েছিলেন তিনি। মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৩১ সালে সরকারি চাকরি দিয়ে। বিভিন্ন কলেজে অধ্যাপনার পর চাকরি শেষ করেন ১৯৫৯ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রফেসর হিসেবে। ১৯৫২ সালে সরকারি মাসিক পত্রিকা ‘মাহে নও’-এর সম্পাদক ছিলেন ছয় মাসের জন্য। নিজ গ্রাম পাবনার মুরারীপুরের প্রেমদাস বৈরাগীর কাছ থেকে প্রথম সংগৃহীত লালনের একটি গান পাঠিয়ে দেন প্রবাসীতে। এটি ছাপা হয় ১৩৩০ সালের আশ্বিন সংখ্যায়। তার মাধ্যমে আমরা পেয়েছি ত্রয়োদশ খণ্ডে ‘হারামণি’র মতো লোকসংগীতের অমূল্য সংগ্রহ। এ ছাড়া বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনার মতো তিন খণ্ডে বিভক্ত গবেষণাগ্রন্থ। তার মোট গ্রন্থসংখ্যা ৪২টি। অমূল্য সব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দেশ-বিদেশে পেয়েছেন অনন্য সব সম্মান, স্বীকৃতি, সংবর্ধনা, পদক। তার জীবনের কয়েক দশক কাটিয়েছেন রাজধানী ঢাকাতেই। মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন ছিলেন এক বিশ্বমানব। বাউল-ফকিরদের সঙ্গে তার ছিল নিবিড় যোগাযোগ। তাকে নিয়ে প্রয়াত কবি আসাদ চৌধুরী লিখেছেন: যে-গভীর সত্যবাণী নিরক্ষর গীতিকার কবিদের/ ঠোঁটে ঠোঁটে কেঁদে উঠেছিলো—/ তাকে তুমি ছড়ালে নিখিলে। মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৬৫ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও ১৯৮৪ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। পাশাপাশি শিক্ষায় অবদানের জন্য ১৯৭৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন। ১৯৮৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নেইমারের চোটের বর্তমান অবস্থা জানাল ব্রাজিল

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধ শেষ হয়নি : নেতানিয়াহু

ডিআইজির কক্ষ থেকে আরও ২ কালনাগিনী সাপ উদ্ধার

আজ টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

নাইটক্লাব কাণ্ডে তদন্তে স্টোকস, নেতৃত্ব নিয়েও শঙ্কা

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক / ঢাকা-মস্কো সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ ও সম্প্রসারণের অঙ্গীকার

চেকপোস্টে ৩ বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ যুবক আটক

জোড়া পেনাল্টিতে নাটকীয় জয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নেদারল্যান্ডসের

ভোরে ঝরল ৪ প্রাণ

অপরাধবিষয়ক টিভি অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করল ইরাক

১০

যে বিশ্বকাপ বদলে দিয়েছিল ‘অনেক কিছু’

১১

‘ফেভারিট নয়, তবে বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার পর্তুগাল’

১২

সৌদিতে প্রাণ গেল প্রবাসী ফল ব্যবসায়ীর

১৩

চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার : ডা. ডোনার

১৪

আর কোনো যুদ্ধ চান না ট্রাম্প, নেতানিয়াহুকে সতর্কবার্তা

১৫

প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

১৬

প্রকাশ্যে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

১৭

চট্টগ্রামে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নৈরাজ্য ঠেকাতে চসিক মেয়রের উদ্যোগ

১৮

বাড়ি ফেরার পথে রাজমিস্ত্রিকে কুপিয়ে হত্যা

১৯

ওলিসের হ্যাটট্রিকে উড়ন্ত ফ্রান্স, জয়ে শেষ হলো বিশ্বকাপ প্রস্তুতি

২০
X