

আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সুপার সিক্স পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৭৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে আড়াইশ পার করা পুঁজি দাঁড় করায় জুনিয়র টাইগাররা। বোলিংয়ে নেমে শুরু থেকেই জিম্বাবুয়েকে কোণঠাসা করে রেখেছিলেন টাইগার বোলাররা। শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে যুবারা। এর ফলে আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া বাংলাদেশের জয় দিয়েই সমাপ্তি ঘটলো।
হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। দলের হয়ে ওপেনিং জুটিতে ২০ রান তোলেন রিফাত বেগ এবং জাওয়াদ আবরার। ১৪ বলে ১৫ রান করে বিদায় নেন রিফাত। এরপর ক্রিজে আসেন আজিজুল হাকিম তামিম। বেশ সংগ্রাম করে এগিয়েছেন তামিম এবং আবরার। ৪৮ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলে আবরার বিদায় নেন।
তবে দারুণ লড়াকু ব্যাটিংয়ে চাপের মুখে ফিফটি হাঁকান তামিম। ৮৭ বলে ৫৯ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলেন তিনি। তামিম ছাড়াও লড়াকু ব্যাটিংয়ে দলের হাল ধরেছিলেন রিজান হোসেন। ফিফটির আগেই থেমেছেন যদিও। ৬৮ বলে ৪৭ রান করে বিদায় নেন রিজান। মাঝে টপাটপ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় চলে যায় বাংলাদেশ। আড়াইশ তো দূর, ২৪০ করতে পারলেই মনে হচ্ছিল সন্তুষ্ট থাকা যাবে।
তবে ঠিকই আড়াইশ পার করেছে বাংলাদেশ। শেষ দিকে শাহরিয়ার আহমেদের ১১ বলে ১৫ রানের ক্যামিওর সাথে ১৩ বলে ২৩ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেছেন আল ফাহাদ। শেষ ওভারে ২২ রান নিয়ে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৫৩ রান তোলে বাংলাদেশ। শেষ ৩ ওভারে আসে ৩৯ রান, শেষ ১০ ওভারে এসেছে ৭৯ রান। ইকবাল হোসেন ইমন ২ বলে ৮ রান করে টিকে ছিলেন।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন টাটেন্ডা চিমুগোরো, শেলটন মাজভিটোরেরা এবং মাইকেল বিলগনাট। বোলিংয়ে নেমে জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলা করেছেন ইকবাল হোসেন ইমন। জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনারকে দলের ৬ রানের মধ্যে ফিরিয়েছেন তিনি। তিনে নামা কিয়ান বিলগনাটকে বিদায় করেছেন আল ফাহাদ। ১৫ রানের মধ্যে হাওয়া ৩ উইকেট।
এরপর আরও ২ উইকেট হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। যদিও মাঝে একটা জুটি হয়েছে। অধিনায়ক সিমবারাশা মুদজেনগেরেরের সাথে লিরয় চিওয়াউলার জুটিতে এসেছে ২৭ রান। লিরয়কে বোল্ড করে জুটি ভেঙেছেন সেই ইমন। পরে মাইকেল বিলগনাটকেও ফেরান ইমন। জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের ক্রিজে দাঁড়াতেই দেননি টাইগার পেসার ইকবাল হোসেন ইমন।
পরে ব্রেন্ডন এনদিওয়ানিকে ফেরান রিজান হোসেন। ৩৭ বলে ১৬ রান করে বিদায় নিয়েছেন ব্রেন্ডন। অধিনায়ক সিমবারাশা অবশ্য টিকে ছিলেন। এক প্রান্ত আগলে রেখে দলের ইনিংসকে টানতে থাকেন তিনি। সুযোগ বুঝে বের করছিলেন বাউন্ডারিও। রানও বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন। নিজে চলে যান ফিফটির কাছাকাছি।
আরেক প্রান্তে টাটেন্ডা চিমুগোরো বেশি একটা সুবিধা করতে পারেননি। ১২ বলে ৫ রান করে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। তাকে ফেরান অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম, দারুণ স্টাম্পিং করেছেন ফরিদ হাসান। ১১ বলে ২ রান করা পানাশে মাজাইকে ফিরিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেন ইমন। শেষ দিকে বাংলাদেশের জয়টাও প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। অধিনায়ক সিমবারাশা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন, তুলেছেন ফিফটিও।
শেষ দিকে সিমবারাশার ব্যাটে চড়েই এগিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ১২১ বলে ৭০ রান করে দলের ১৭৩ রানের মাথাতে আউট হন অধিনায়ক। তাকে ফিরিয়েছেন আল ফাহাদ। শেলটন মাজভিতোরে ৪২ বলে ৪২ রান করে টিকে ছিলেন। ১৭৯ রান করে থেমেছে জিম্বাবুয়ের ইনিংস। বাংলাদেশের হয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন ইকবাল হোসেন ইমন ২ উইকেট তোলেন আল ফাহাদ। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন রিজান হোসেন এবং আজিজুল হাকিম তামিম।
বিশ্বকাপ থেকে আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জয় দিয়েই আসরের সমাপ্তি টানল টাইগাররা। ১০ ওভার বল করে মাত্র ২৪ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতল ইকবাল হোসেন ইমন।
মন্তব্য করুন