কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৫, ০৮:৩৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মে মাসে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.৫ শতাংশ

গত মে মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। প্রতীকী ছবি
গত মে মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। প্রতীকী ছবি

সরকারি হিসাবে মে মাসে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি কমেছে। এ সময় খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত- উভয় মূল্যস্ফীতিই এর আগের মাসের তুলনায় কমেছে। গত মে মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। এর আগের মাসে অর্থাৎ এপ্রিলে এই হার ছিল ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ। তবে এ মাসে খাদ্য পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে এলেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম এখনো শঙ্কার পর্যায়ে রয়েছে।

সোমবার (২ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ চিত্র প্রকাশ করেছে। সেখানে মে মাসের মূল্যস্ফীতির এমন চিত্র পাওয়া গেছে। বিবিএসের হিসাবে, গত মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতির হার হয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। গত এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।

গত মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ হওয়ার মানে হলো, ২০২৪ সালের মে মাসে যদি বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও সেবা কিনে আপনার সংসারের খরচ চালাতে ১০০ টাকা খরচ হয়, তাহলে এ বছরের মে মাসে একই পণ্য ও সেবা কিনে সংসার চালাতে খরচ লেগেছে ১০৯ টাকা ৫ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকায় খরচ বেড়েছে ৯ টাকা ৫ পয়সা।

অর্থনীতিবিদরা বলেন, মূল্যস্ফীতি এক ধরনের করের মতো। প্রতি মাসে আয়ের পুরোটাই সংসার চালাতে খরচ হয়ে যায়। কিন্তু হঠাৎ জিনিসপত্রের দাম বাড়লে এবং সে অনুযায়ী আয় না বাড়লে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হবে কিংবা খাবার, কাপড়চোপড়, যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে কাটছাঁট করতে হবে। মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধি বা আয় বৃদ্ধি কম হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়ে। প্রকৃত আয় কমে যায়।

গত প্রায় এক বছর ধরে (২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত) গড় মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের বেশি আছে। তবে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ছয় শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ ছাড়া আগামী জুন মাসেই মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের কোটায় নেমে আসবে বলে প্রত্যাশা করছে সরকার।

গত মে মাসে দেশে শহর ও গ্রাম- উভয় এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। মে মাসে গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ, এপ্রিলে যা ছিল ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। মে মাসে গ্রামাঞ্চলের খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৩০ ও ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ, এপ্রিলে যা ছিল যথাক্রমে ৮ দশমিক ৪০ ও ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

মে মাসে শহরাঞ্চলের মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ, এপ্রিলে যা ছিল ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ। মে মাসে শহরাঞ্চলের খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে, তবে কমেছে খাদ্যবহির্ভূত খাতের মূল্যস্ফীতি। গত মাসে শহরাঞ্চলের খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ২৯ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ, এপ্রিলে যা ছিল যথাক্রমে ৯ দশমিক ১৩ ও ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

এদিকে, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না মজুরি। বিবিএসের হিসাবে, গত মে মাসে জাতীয় মজুরির হার হয়েছে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। এর মানে হলো, মজুরি যত বেড়েছে, তার চেয়ে বেশি বেড়েছে জিনিসপত্রের দাম। গত এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে জাতীয় মজুরির হার কিছুটা বেড়েছে। তবে মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে।

মজুরিনির্ভর বিশাল জনগোষ্ঠীর ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি পড়ে। গ্রাম-শহর নির্বিশেষে ১৪৫টি নিম্ন দক্ষতার পেশার মজুরির ওপর এ হিসাব করে থাকে বিবিএস।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘আদ্-দ্বীন কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করেছি’

যুবদলের পদবঞ্চিতদের মূল্যায়নের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

প্রকাশ্যে নারীকে নির্যাতন, যুবদল নেতা বহিষ্কার

তরুণদের হাতে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ গড়তে চায় সরকার : মির্জা ফখরুল

প্রধানমন্ত্রীর মন খারাপ, দাবি নাহিদ ইসলামের

প্রীতি ফুটবল ম্যাচ / আর্জেন্টিনাকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৩৯ বন্দিকে ক্ষমা করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

লেকে গোসল করতে নেমে ভগ্নিপতি ও শ্যালক-শ্যালিকার মৃত্যু

ঢাকা ওয়াসার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

ইরানিরা আমেরিকানদের মোটেই বিশ্বাস করে না

১০

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে মিরাজ কি খেলবেন?

১১

ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচে কে জিতবে, জানাল সুপারকম্পিউটার

১২

জুলাই থেকে ৪০ লাখের বেশি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

১৩

ক্যানসারে আক্রান্ত আব্দুল মজিদ বাঁচতে চায়

১৪

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান কে এই ধীরাজ শেঠ?

১৫

‘নুরকে আমরা নেতা বানাইছিলাম, কিন্তু তিনি আম্মা ডাকছিলেন হাসিনারে’

১৬

বিশ্বকাপের মঞ্চে লাল-সবুজের গর্ব, আলোচনায় সঞ্জয় দেব

১৭

মরক্কোর বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে মাঠে নামতে পারে ব্রাজিল

১৮

পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

১৯

রাতে ঘরে ঘুমালেন যুবক, সকালে রাস্তায় মিলল রক্তাক্ত লাশ

২০
X