সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের গোদাড়া গ্রামের মুস্তাকিম কারিগরের লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের দাবিতে দীর্ঘ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুলাই) সকালে আশাশুনির চাম্পাফুল স্কুল মোড়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
গোদাড়া গ্রামের এস এম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে দীর্ঘ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত মুস্তাকিম কারিগরের চাচাতো ভাই গোলাম রসুল, নানা ইব্রাহিম খলিল, প্রতিবেশী আব্দুল আলিম প্রমুখ।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বক্তারা বলেন, মুস্তাকিম কারিগর একজন মেধাবী কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী ছিল। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। থানা পুলিশকে না জানিয়ে মুস্তাকিমের লাশ তড়িঘড়ি করে তার পিতা রাজ্জাক কারিগর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়াই দাফন করেছেন।
এ বিষয় নিয়ে স্থানীয় একাধিক পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হলেও মুস্তাকিম কারিগরের মৃত্যুর গুঞ্জনের কোনো সমাধান করতে পারেনি থানা পুলিশ। এর কোনো সুরাহা না হওয়ায় নিহত মুস্তাকিম কারিগরের চাচাতো ভাই গোলাম রসুল বাদী হয়ে নিহত মুস্তাকিম কারিগরের বাবা আব্দুর রাজ্জাক ও তার স্ত্রী আসমা খাতুন পারুলকে আসামি করে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আমলি আদালতে একটি মামলা করেন।
মামলা সূত্র ধরে বক্তারা বলেন, গোদাড়া গ্রামের মেরাজ আলী কারিগরের ছেলে আলকেছুর রহমান ইতোপূর্বে নিহত মুস্তাকিম কারিগরের মাতা ময়না খাতুনকে হত্যা করতে আলকেছুর রহমান ও মুস্তাকিমের পিতা আব্দুর রাজ্জাক কারিগরকে সহায়তা করেন। সেই থেকে রাজ্জাক কারিগরের পরিবারের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ হয় আলকেছুর রহমান। পরে রাজ্জাক কারিগরের ২য় স্ত্রী পারুলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যান তিনি, যা মুস্তাকিম কারিগর দেখে ফেলে। এরপর থেকে শুরু হয় মুস্তাকিম কারিগরকে হত্যার পরিকল্পনা। নিজের জীবনের শঙ্কার বিষয়টি বুঝতে পারে মুস্তাকিম কারিগর। বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজনকে জানালেও শেষ রক্ষা হয়নি মুস্তাকিম কারিগরের। স্থানীয়রা নিহত মুস্তাকিম কারিগরের লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন