কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৪, ১২:১১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

গুলিতে বিদ্ধ আহাদুনের ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন

নিহত আহাদুন এখন শুধুই ছবি। ছবি : কালবেলা
নিহত আহাদুন এখন শুধুই ছবি। ছবি : কালবেলা

ছেলের স্বপ্ন ছিল বড় ইঞ্জিনিয়ার হবে। তবে তার আগেই দুটি গুলিতে শেষ হয়ে গেল সেই স্বপ্ন। সন্তানকে হারিয়ে এখন পরিবারে চলছে শোকের মাতম। বাবা-মায়ের চোখে সন্তানের চেহারা এখন শুধুই কল্পনা।

ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে আহাদুন।

গত ১৮ জুলাই সংঘর্ষ চলাকালে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় আহাদুন। দুদিন খোঁজাখুঁজির পর ছেলের গুলিবিদ্ধ লাশের সন্ধান পান বাবা মজিবুর রহমান। খোঁজ পেয়ে ২০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ছেলে আহাদুনের মৃতদেহ শনাক্ত করেন। তবে সেদিন ছেলের লাশ বের করতে পারেননি। পরের দিন ময়নাতদন্তসহ সব কাজ শেষ করে লাশ বের করেন।

জানা গেছে, মজিবুর রহমান কয়েক বছর আগে কাজের সন্ধানে সপরিবারে ঢাকায় চলে যান। ঢাকার মেরুল বাড্ডার বৈঠাখালী এলাকায় বসবাস শুরু করেন। নিহত আহাদুন তার তৃতীয় সন্তান। সে ঢাকা উত্তর বাড্ডা ইউসেফ গাজী সেকান্দর আলী টেকনিক্যাল স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি আহাদুন বাবার ব্যবসায় সহযোগিতা করত।

আহাদুনের বাবা মজিবুর রহমান বলেন, আমার ছেলেকে দুটি গুলি করেছে। একটি গুলি মাথায়, আরেকটি পায়ে। আমার ছেলের স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে। স্বপ্নটা আর পূরণ হতে দিল না। দুই গুলিতে সব শেষ।

তিনি বলেন, প্রথমে ছেলের খোঁজ পেলেও লাশ বের করতে পারিনি। পরের দিন আইনি জটিলতা শেষে লাশ বের করি। ঢাকা থেকে বাড়ি পর্যন্ত লাশ নিয়ে আসতে প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করি তাকে। আমরা গরিব মানুষ, কার কাছে বিচার চাইব। আমার ছেলের মৃত্যুর বিচার কেউ করবে না।

আহাদুনের চাচা আবুল হোসেন বলেন, আহাদুন বিভিন্ন নষ্ট ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ঠিক করতে পারত। সেই সঙ্গে বাবার দোকানে সহযোগিতা করত। দুই গুলিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এতটুকু ছেলে কার কী ক্ষতি করেছিল।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, নিহতের পরিবারের খোঁজ নিয়েছি। সরকার থেকে যখন যা আসবে তা দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাকসু জিএস আম্মারের হুঁশিয়ারি / আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের পেলে থানায় সোপর্দ করব

একের পর এক হরমুজ পাড়ি দিল ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ

সাভারে আওয়ামী লীগের ১৪ নেতাকর্মী আটক

বাংলাদেশের মানুষ আমাদের সবসময়ই চমকে দেয়: স্কালোনি

পাবনায় ৫৪৯ বোতল ফেনসিডিলসহ কারবারি আটক

‘অপরাধী সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়া আপনার ইমানি দায়িত্ব’

বিশ্ববাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর কমলো স্বর্ণের দাম

দুই দশকের বেশি সময় পর ইরাক ছাড়ছে মার্কিন সেনারা

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে করিম-বানু ফাউন্ডেশন

সবুজ দেশ গড়তে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে গাছের চারা রোপণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

১০

রাজশাহীতে সাংবাদিকদের তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু

১১

নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘর-জমি, আতঙ্কে হাজারো মানুষ

১২

ঢাকা-মালের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: এমএনইউতে হাইকমিশনারের বই উপহার

১৩

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত

১৪

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে প্রতিশোধমূলক অভিযান চলবে: ইরান

১৫

 মেহেদী হাসান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত

১৬

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

১৭

চবিতে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ

১৮

বিয়ন্সে-রিয়ানার যুগলবন্দিতে কাঁপল নিউইয়র্ক

১৯

বন্যায় আটকে পড়া বন্ধুর খোঁজে গিয়ে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর

২০
X