জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশের মানুষ এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে জিম্মি ও অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। ১৫ বছর আ.লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে খুন, গুম, মামলা-হামলা আর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের মহোৎসবে মেতেছিল। দেশে ন্যায়বিচার বলতে কিছুই ছিল না। বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছিল। ছাত্র-জনতার রক্তে অর্জিত দ্বিতীয়বার স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরাচারীকে মেনে নেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে থানা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, আ.লীগ সরকার বারবার দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করেছে। এই আ.লীগ স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যা করে একদলীয় শাসন ও শোষণের নীতি অবলম্বন করেছিল।
তিনি বলেন, একটি সুখী-সমৃদ্ধ, বাসযোগ্য সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ইনসাফভিত্তিক, একটি বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সব দেশপ্রেমিক নাগরিকদের জামায়াতের হাতকে শক্তিশালী করার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
এনায়েতপুর থানা জামায়াতের আমির ডা. মাওলানা মো. সেলিম রেজার সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি ডা. মোফাজ্জল হোসাইন অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে সূরা সদস্য, সিরাজগঞ্জ জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা শাহীনূর আলম, কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমির মো. আলী আলম, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সালাম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম, বেলকুচি উপজেলা আমির আরিফুল ইসলাম সোহেল, উল্লাপাড়া উপজেলা আমির মাওলানা শাহজাহান আলী, শাহজাদপুর উপজেলা আমির, চৌহালী উপজেলা আমির আবু সালেহ মোহাম্মদ আবু সাইদ, বেলকুচি উপজেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক নূর-উন-নবী সরকার প্রমুখ।
এর আগে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে এনায়েতপুরে নিহত ছাত্র-জনতা শিহাব, সিয়াম ও ইয়াহিয়ার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে পরিবারের হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন।
মন্তব্য করুন