পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের চরসেনগ্রামে ব্রিজের নিচে বাঁধ দিয়ে পানিরে স্বাভাবিক প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ৭শ বিঘা জমিতে জোরপূর্বক মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আকতার হোসেন, ইউপি সদস্য ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সুরুজ আলী এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ কৃষকদের।
কৃষকদের অভিযোগ, ব্রিজের নিচে বাঁধ দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রায় এক হাজার কৃষক। এতে ব্যাহত হচ্ছে কৃষকদের আমন আবাদ ও নৌ-চলাচল। বাঁধা দিতে গেলেই দেওয়া হচ্ছে নানা হুমকি, করা হচ্ছে মারধর।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী কৃষকরা ১০ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সোমবার ২৪ জুলাই একশ কৃষক ফের অভিযোগ করেছেন নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাটমোহর থেকে মান্নাননগর আঞ্চলিক সড়কের বিলচলন ইউনিয়নের চরসেন গ্রামের বিলে প্রবেশ করেছে বর্ষার নতুন পানি। তার মাঝেই সবুজ আমন ধান। বিলের একপাশে দুটি ব্রিজের মুখ বাঁশ, বাঁশের তালাই, বাদাই জাল দিয়ে আটকিয়ে জোরপূর্বক সেখানে মাছ চাষ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। বিলের একপাশের কিছু কৃষকের খাল লিজ নেওয়ার নামে তারা পুরো বিলই দখলে নিয়ে মাছ চাষে নেমেছেন। গত ৭ ও ৮ জুলাই তারা ব্রিজের মুখ বাঁশ, তালাই ও জাল দিয়ে আটকে দেন।
চরসেন গ্রামের গ্রামের কৃষক আবু জাফর, মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সেখানে সরকারি কোনো জলাশয় নেই। বিলচলন ইউপি চেয়ারম্যান আকতার হোসেন, ইউপি সদস্য ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সুরুজ আলী, আজমত আলী ও তাদের সহযোগীরা জোরপূর্বক অবৈধভাবে মাছ চাষ করছেন। কেউ কিছু বললে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কৃষককে মারধর করেছে দখলকারীরা।
ভুক্তভোগী কৃষক কালাম ফকির, জেলহক হোসেন, তফিজ উদ্দিনসহসহ অন্যান্য কৃষকরা জানান, ব্রিজের মুখ আটকে মাছ চাষ করায় একদিনে কৃষকের অন্তত ৭শ থেকে ৮শ বিঘা জমির আমন আবাদ ক্ষতির মুখে পড়েছে। নৌকা চলাচল করতে না পারায় ব্যাহত হচ্ছে পাট জাগ দেওয়ার কাজ। বর্ষার শেষে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ার সঙ্গে বিলম্বিত হবে রবি শস্য আবাদ। এমন পরিস্থিতিতে গত ১০ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে কোনো কাজ না হলে ২৪ জুলাই ফের অভিযোগ করেছেন একশ কৃষক।
অভিযুক্ত উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য সুরুজ আলী বলেন, ওই বিলে অনেকগুলো কৃষকের জমি লিজ নিয়ে মাছ চাষের মাধ্যমে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হয়েছে। এতে দোষের কিছু আছে বলে মনে হয় না।
কিছু বেকার ছেলের কর্মসংস্থানের জন্য ব্রিজের মুখ আটকে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও শতশত কৃষকের ক্ষতি করতে পারেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়ম অত জানা নেই। কিছু লোক এর বিরোধিতা করছে। তবে বেশিরভাগ কৃষকই মাছ চাষের জন্য আমাদের কাছে জমি লিজ দিয়েছে।
অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আকতার হোসেনের দাবি, মাছ চাষের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। এলাকার কিছু বেকার ছেলে মাছ চাষ করে। ওরা মসজিদ মাদ্রাসা, কবরস্থানে কিছু টাকা দিয়ে এটা করে। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে জড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমি বিষয়টি ইউএনওকে বলেছি। তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এ মাসুম বিল্লাহ বলেন, পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা এবং কৃষকের জমি জোর করে দখলে নিয়ে মাছ চাষের সুযোগ নেই। যদি ওই বিলের সব কৃষক একসঙ্গে একমত হয়ে সমবায় ভিত্তিতে মাছ চাষ করেন এবং সবাই লাভবান হন তাহলে সম্ভব মাছ চাষ। তা না হলে জোর করে পানি প্রবাহ আটকে মাছ চাষ অবৈধ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেদুয়ানুল হালিম বলেন, কৃষকরা আমার কাছে এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগ শুনেছি। সোমবারে (২৪ জুলাই) লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন