জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৫, ১১:১৯ এএম
অনলাইন সংস্করণ

৩ বছর ধরে বিকল এক্সরে মেশিন, ভোগান্তিতে রোগীরা

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি : কালবেলা
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি : কালবেলা

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্সরে মেশিন তিন বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাবাসী। অকেজো হয়ে যাওয়া এ যন্ত্রটি কবে চালু হতে পারে তা সঠিকভাবে নিশ্চিত হতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপিত হয়। ৩১ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটি ২০০৭ সালে ৫০ শয্যায় উন্নতিকরণ করা হয়। ২০০৫ সালে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এক্সরে মেশিন দেওয়া হয়। সেসময় জগন্নাথপুরে বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজের সমস্যার কারণে মেশিনটি চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ কয়েকবছর বাক্সবন্দি থাকার পর ২০২১ সালে মেশিনটি চালু করা হয়।

২০২২ সালে এক্সরে মেশিনে ক্রুটি দেখা দিলে বন্ধ হয়ে যায় কার্যক্রম। গত ৩ বছরের বেশি সময় ধরে মেশিনটি সচল না থাকায় সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না হাসপাতালে আসা রোগীরা। ফলে তাদেরকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বেসরকারি বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে সেবা নিতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা আলাল মিয়া নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার ছেলের হাতে চোট লাগে। ডাক্তার বলেছেন, এক্সরে করাতে। হাসপাতালের এক্সরে মেশিন নষ্ট, তাই বাইরে থেকে করে আনতে হবে। পরে ৫০০ টাকা দিয়ে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক্সরে রিপোর্ট আনতে হয়েছে।

নাজমা বেগম নামের এক রোগী বলেন, বুকে সমস্যা হচ্ছিল। বিনামূল্যে হাসপাতালে এক্সরে করা যায় শুনে এসেছিলাম। দুর্ভাগ্য, মেশিনটি নষ্ট থাকায় বাইরে থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে করতে হয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তামজিদ হোসাইন বলেন, এক্সরে মেশিনের ব্যাটারি ও সফটওয়ার সমস্যা থাকায় চালু করা যাচ্ছে না। কবে এটি যন্ত্রটি চালু হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধারণা করছি এ বছর হতে পারে।

জগন্নাথপুর উপজেলা নাগরিক পরিষদের আহ্ববায়ক এমএ কাদির বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলায় প্রায় ৪ লাখ মানুষের বসবাস। এখানকার সরকারি হাসপাতালের এক্সরে মেশিন তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে অকেজো হয়ে আছে। রোগীদের খাবারের মানও ভালো নেই। যে কারণে একদিকে যেমন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কৃপেশ রঞ্জন রায় বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন এসেছি। ডিজিটাল এক্সরে মেশিনটি বিদেশি এক্সপার্ট ছাড়া মেরামত করা যাচ্ছে না। আমরা উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করছি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাবিতে দোয়া-স্মরণসভায় শহীদ ওসমান হাদির ন্যায়বিচারের দাবি

ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পেলেন মোবাশ্বের আলম

সুরক্ষা ছাড়াই দেয়াল বেয়ে ১০১ তলা ভবনের চূড়ায় পর্বতারোহী

বিশ্বকাপে দেশকে মিস করব : মিশা সওদাগর

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছোটবেলায় দেখেছি: অনন্ত জলিল

ঈদগাহ মাঠ নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১০

যুক্তরাষ্ট্রে তুষারঝড় ও তীব্র ঠান্ডায় ১৪ জনের মৃত্যু

বিশ্বকাপ বয়কট ইস্যুতে পাকিস্তানের ফলপ্রসূ বৈঠক, যা জানা গেল

একই আর্টিস্ট ও কম বাজেটে সিনেমা হবে না : অনন্ত জলিল

১০

রাজনৈতিক দলগুলো অনেক বেশি সচেতন : ইসি সানাউল্লাহ

১১

দেশের সব হাসপাতালকে জরুরি নির্দেশনা

১২

একটি গোষ্ঠী নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে গভীর ষড়যন্ত্র করছে : তারেক রহমান

১৩

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা ইশরাকের

১৪

জঞ্জাল সরিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই : মঞ্জু

১৫

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ওপর হামলা শিষ্টাচারের লঙ্ঘন : জামায়াত

১৬

অবশেষে মুখ খুললেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল

১৭

হেনস্তার শিকার হয়ে থানায় গেলেন মিমি চক্রবর্তী

১৮

দায়িত্বগ্রহণের চার মাসে ২২৫টি কাজ ও উদ্যোগ গ্রহণ ডাকসুর

১৯

নির্বাচিত হলে মাদক চাঁদাবাজ অস্ত্রবাজদের প্রতিহত করা হবে : মিন্টু

২০
X