কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বাঁকখালী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ঘিরে উত্তাল কক্সবাজার

কক্সবাজারে বাঁকখালী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ছবি : কালবেলা
কক্সবাজারে বাঁকখালী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ছবি : কালবেলা

বাঁকখালী নদীর পাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কক্সবাজার শহর।

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই উচ্ছেদ অভিযানের পঞ্চম দিনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে শহরের গুনগাছতলা ও নুনিয়ারছড়া এলাকায়।

দখলদার ও স্থানীয়দের নেতৃত্বে কয়েকশ নারী-পুরুষ রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করেন, আগুন দিয়ে টায়ার জ্বালিয়ে দেন। বিআইডব্লিউটিএ ও প্রশাসনের উচ্ছেদ দল এক্সকাভেটরসহ পৌঁছলে তা ভাঙচুর করা হয়।

উচ্ছেদবিরোধী জনতার কারণে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বন্ধ থাকে বিমানবন্দর সড়ক। এতে বিপাকে পড়েন আসা-যাওয়ার ফ্লাইটের যাত্রীরা। অবরোধ না ওঠায় উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করতে হয়।

নুনিয়ারছড়ার স্থানীয় বাসিন্দা বজলুল করিম ভুট্টো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই দেশ সরকারের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। রোহিঙ্গারা জামাই আদর পায়, অথচ আমরা নাগরিক হয়েও ঠাঁই পাই না।’ তিনি অভিযোগ করেন, কোনো নোটিশ না দিয়েই উচ্ছেদ চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বাচ্চু বলেন, ‘নদীর সীমানা নির্ধারণ ছাড়া উচ্ছেদ মানা যায় না। কক্সবাজারের বাঁকখালী নদী তার সৌন্দর্য ফিরে পাক, কিন্তু জনগণের গলা কেটে নয়।’

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী আরএস খতিয়ান অনুসারে সীমানা নির্ধারণের কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। বরং বহু বৈধ বাসিন্দার জমিও উচ্ছেদের আওতায় পড়েছে। মোবারক নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের বিএস ও এমআরআর খতিয়ান অনুযায়ী বৈধ কাগজ আছে, তবুও তা দেখা হচ্ছে না।’

এক নারী বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা ৩০০ বছর ধরে এখানে ছিলেন। নদী ভেঙে কখনো কখনো আমাদের কাছে এসেছে, আমরা নদীর ওপর উঠিনি।’

বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন বিক্ষোভের মুখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে ফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি তাকে।

এদিকে, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল ও কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল ভিপি ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। কাজল বলেন, ‘হাইকোর্টের রায় আমরাও মানি, তবে আগে নদীর সীমানা নির্ধারণ করে স্থানীয়দের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

তিনি জানান, বিকেলে প্রতিনিধিদের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে বসানো হবে। কাজল আরও বলেন, ‘বাঁকখালী নদীর সৌন্দর্য ফেরাতে সব ধরনের সহায়তা করব; কিন্তু কেউ যেন দুর্ভোগে না পড়ে, সেটিও দেখতে হবে।’

উচ্ছেদ নিয়ে এর আগের দিন পেশকারপাড়ায়ও অভিযান ব্যর্থ হয়। গত দুই দিনে উচ্ছেদে বাধা দেওয়ায় ৬৫০ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে বলে জানান কক্সবাজার মডেল থানার ওসি ইলিয়াস খান।

দুপুর ১২টার দিকে নেতাদের আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা সড়ক ছাড়েন। তবে এলাকাবাসীর একটাই দাবি— উচ্ছেদ নয়, আগে ন্যায্যতা ও সম্মান নিশ্চিত হোক।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দীর্ঘ ছুটি শেষ / খুলেছে স্কুল-কলেজ, এখনো বন্ধ অনেক প্রতিষ্ঠান

চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে ২ পা বিচ্ছিন্ন হওয়া সেই যুবকের মৃত্যু

মিসরকে হারিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শেষ করলো ব্রাজিল

দেশের ১৭ অঞ্চলে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরেও সতর্কতা

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে রহস্যজনক তাপ, উৎস খুঁজছে পুলিশ-ফায়ার সার্ভিস

আন্তর্জাতিক রোবটিক্স অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক পেলেন বাংলাদেশের প্রিয়ন্ত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ

রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ

৩০০ জনকে চাকরি দেবে আবুল খায়ের গ্রুপ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন

নিয়োগ দিচ্ছে এসিআই কোম্পানি, অনলাইনে আবেদন শুরু

১০

রেড ক্রিসেন্টে চাকরির সুযোগ, আবেদন করতে পারবেন যারা

১১

এসএসসি পাসেই চাকরির সুযোগ, বেতন ছাড়াও থাকছে বিভিন্ন সুবিধা

১২

দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে আ.লীগ নেতাকে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

১৩

আজকের নামাজের সময়সূচি

১৪

গভীর রাতে হঠাৎ ক্ষুধা লাগলে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন?

১৫

ডিজিটাল গণমাধ্যম অগ্রদূতের আত্মপ্রকাশ

১৬

মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদল নেতাদের ওপর ‘আ.লীগের’ হামলা, আহত ১৮

১৭

রাজনীতিতেই থাকতে চাই, চাকরি নয় : ছাত্রদল নেতার আবেগঘন স্ট্যাটাস

১৮

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশ / জিম্মায় নেওয়া চুরির মালামাল থানায় ফেরত দিলেন কর্মকর্তা

১৯

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত

২০
X