ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামে শামিম হোসেন ও মন্টু মিয়া নামে দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার নেপথ্যে ছিল চোরাকারবারির টাকা ভাগাভাগী নিয়ে দ্বন্দ্ব। তারা মূলত, বাঘাডাঙ্গা গ্রামের মতিয়ার রহমান মতির নিয়ন্ত্রণে থেকে পাচার কাজে নিয়োজিত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ বিজিবির কঠোর নজরদারি ও অব্যাহতভাবে অভিযান পরিচালিত হলেও মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় শক্তিশালী চোরাচালান সিন্ডিকেট নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামে এক চোরাকারবারীর গুলিতে দুই ব্যক্তি নিহতের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৭ জানুয়ারি) ওই হত্যাকাণ্ডের পর সীমান্ত এলাকায় এখন প্রধান আলোচনার বিষয় চোরাচালান সিন্ডিকেট।
এদিকে ২৪ ঘণ্টা পার হলেও জোড়া হত্যার ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের বা কেউ গ্রেপ্তার হয়নি বলে মহেশপুর থানা সূত্রে জানা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ওই চোরাচালান সিন্ডিকেট মূলত ভাড়ায় অস্ত্র আনা নেওয়া, সোনার বার ও ধূড় (অবৈধ ভাবে মানুষ) পাচার করে থাকে। আর এই কাজে প্রধান সহযোগী হলো সীমান্তে বসবাসকারী কতিপয় জনপ্রতিনিধি, কথিত বিজিবি সোর্স ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ।
নেপা ইউনিয়নের ৮ নং বিটের এসআই মো. জমির হোসেন বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে জানান, তরিকুল ইসলাম আকালে ও রফিকের মধ্যে প্রায় ৬ মাস ধরে চোরাচালানের টাকা ভাগাভাগী নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সীমান্তে তাদের একটি সিন্ডিকেট আছে। এই বিরোধের জের ধরে দেড়মাস আগে নিহত শামিমকে কুপিয়ে আহত করেছিল ঘাতক আকালে।
বুধবার সকালে নিহত শামিমের পিতা শামসুল ঘাস কাটতে মাঠে যাওয়ার সময় আকালে ও তার ভাই ইব্রাহিম এবং ভগ্নিপতি আব্দুল জলিল তাকে গালাগাল করে। বিষয়টি বাড়ি এসে জানালে শামিম, চাচা মন্টু মন্ডল ও পিতা শামসুল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আকালের বাড়িতে যায়। এ সময় আকালে তার কাছে থাকা অবৈধ নাইনএমএম পিস্তল দিয়ে গুলি চালিয়ে চাচা মন্টু মন্ডল ও ভাতিজা শামিমকে খুন করে পালিয়ে যায়। ঘটনায় শামসুল মন্ডলও আহত হয়। এ ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, তরিকুল ইসলাম আকালে সম্ভবত ভারতে পালিয়ে যেতে পারে।
মহেশপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে হামলাকারী ও নিহত উভয় চোরাকারবারী হিসেবে পরিচিত। টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তারা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে খুন হয়েছে। এজাহার হাতে পেলে এ ঘটনার সঙ্গে আর কারা কারা সম্পৃক্ত সেটি জানা যাবে। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহতদের পরিবারের নিকট লাশ হস্তন্তর করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বৃহস্পতিবার সীমান্তের বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহেশপুরের ৯টি গ্রাম একেবারেই সীমান্ত ঘেষা হওয়ায় সেখান দিয়ে সোনা, অস্ত্র, গরু ও ধূড় পাচার করা হয়। গ্রামগুলির মধ্যে রয়েছে বাঘাডাঙ্গা, পলিয়ানপুর, যাদবপুর, জুলুলী, লেবুতলা, মরকধ্বজপুর, শ্যামকুড়, রায়পুর ও কচুয়ারপোতা। এরমধ্যে মকরধ্বজপুর, বাঘাডাঙ্গা ও রায়পুর দিয়ে ভারতীয় গরু ও বাংলাদেশি ধূড় (মানুষ) পাচার, বাঘাডাঙ্গা ও শ্যামকুড় বর্ডার দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র এবং লেবুতলা ও রায়পুর বর্ডার দিয়ে সোনা পাচার হয়ে থাকে। বিজিবির সোর্স পরিচয় দিয়ে একাধিক ব্যক্তি সীমান্তের এই ঘাটগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। তথ্যানুসন্ধানে আরও জানা যায়, রায়পুর সীমান্তে চোরাকারবার নিয়ন্ত্রণ করেন কুটি মিয়া, শ্যামকুড় এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আলী, ন্যাপা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন নওশের খোড়া, হুদাপাড়া, কাঞ্চনপুর ও বাঘাডাঙ্গা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন আল আমিন ও রতনপুর এলাকা নিয়ন্ত্রন করেন আল আমিন।
এ বিষয়ে মহেশপুর বিজিবির অধিনায়ক ও পরিচালক লে. কর্নেল মাসুদ পারভেজ রানা বলেন, আমদের কোনো সোর্স নেই। আমাদের পর্যাপ্ত নিজস্ব গোয়েন্দা সদস্য আছে। তাদের তথ্যের ভিক্তিতে ৫৮ বিজিবি চোরাচালারসহ সীমান্তে সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
মন্তব্য করুন