আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:২০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পাহাড় কেটে চলছে বসতঘর নির্মাণ 

দেয়াং পাহাড় কেটে বন্দরের জমিতে বসতঘর নির্মাণ। ছবি : কালবেলা
দেয়াং পাহাড় কেটে বন্দরের জমিতে বসতঘর নির্মাণ। ছবি : কালবেলা

শতাধিক শ্রমিক নিয়ে রাতভর চলে পাহাড় কাটা আর বসতঘর নির্মাণ, দিনে সুনশান নীরবতা। এভাবে দখল করে নিচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের পুরাতন সিগন্যাল অফিস ভবন ও পাহাড়ের বিশাল এলাকা। এলাকায় গিয়ে জানতে চাইলে দায়ভার কেউ না নিয়ে একে অপরের ওপর দোষ চাপাতে ব্যস্ত প্রভাবশালীরা।

স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশীল দুই তিনজন ব্যক্তি এসব কাজ করছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের উত্তর বন্দর দেয়াং পাহাড়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পুরাতন সিগন্যাল অফিস দখলে চলছে মহোৎসব। এতে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি পাহাড় ধসে প্রাণহানির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসনকালীন সময়ে আনোয়ারার বৈরাগ ইউনিয়নের উত্তর বন্দর দেয়াং পাহাড়ে তৎকালীন চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচল ও নিয়ন্ত্রণের জন্য পাহাড়ের চূড়ায় একটি সিগন্যাল অফিস নির্মাণ করেন। সেখান থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হতো বন্দরের জাহাজ চলাচল। পরবর্তীতে কালের বিবর্তনে এসব হারিয়ে গেলেও ব্রিটিশ আমলের ওই ভবন এখনো দাঁড়িয়ে রয়েছে স্বগৌরবে। ওই এলাকা এখনো চট্টগ্রাম বন্দরের মালিকানাধীন এবং বন্দরের একজন নিরাপত্তা কর্মীও রয়েছে সেখানে। কুরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড) নির্মাণের সময়কালেও বন্দরের ওই জায়গা দখলের বাইরে রাখা হয়। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে ওই পাহাড়ের ঢালে নির্মাণ করা হচ্ছে টিনের বসতঘর। এজন্য শতাধিক শ্রমিক নিয়ে রাতভর চলে পাহাড় কাটা ও ঘর নির্মাণকাজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, বন্দরের নিযুক্ত নিরাপত্তা কর্মী আক্তার কামাল, রাশেদ নুরসহ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এখানে পাহাড় কেটে ঘর নির্মাণ করছে। তবে রাশেদ নুর দাবী করেন, তিনি নয়, আবদুল খান নামে এক ব্যক্তি পাহাড় কেটে বসতঘর নির্মাণ করছেন। অপরদিকে আবদুল খান পাহাড় কাটার বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ করেছেন বলেও জানান। এভাবে চলে একে অপরের প্রতি দোষ চাপানোর প্রবণতা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের স্টেট অফিসার শিহাব উদ্দিন বলেন, আনোয়ারায় দেয়াং পাহাড়ে বন্দরের জায়গা দখল করে ৬০টি ঘর নির্মাণের খবর শুনেছি, কয়েকদিনের মধ্যে বন্দরের ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে ওই জায়গা উদ্ধার করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।

আনোয়ারা ইউএনও মো. ইশতিয়াক ইমন বলেন, সরকারি জমি দখল ও পাহাড় কাটার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

লেবাননে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি গড়ছে ইসরায়েল

রোমে রেড অ্যালার্ট জারি, তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি ছোঁয়ার আশঙ্কা

ছয় মাসে তুরস্কের আকাশপথ ব্যবহার করেছে ১১ লাখের বেশি ফ্লাইট

ডেমরা পুলিশ লাইন্সে কনস্টেবলের আত্মহত্যা

শনিবার খোলা হতে পারে কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

কেন ফাইনাল দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন না আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট?

বিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দাম

আজকের আবহাওয়া সম্পর্কে এখন পর্যন্ত যা জানা গেল

কমছে ধলাই নদীর পানি, ভাঙন আতঙ্কে এলাকাবাসী

সাগরেই গায়েব ৫৩০ রোহিঙ্গা!

১০

কলকাতা বিমানবন্দরে ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদে প্রবেশে বাধা

১১

চাকরিজীবীদের দুই দফায় টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

১২

এনসিপির সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

১৩

জিয়াউর রহমান হত্যা / ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার মোজাফফর, কোথায় ছিলেন এতদিন?

১৪

বিশ্বকাপ ফাইনালে উপস্থিত থাকবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

১৫

শিমুলিয়া ঘাটে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ওপর হামলা

১৬

চোরাই পথে জ্বালানি তেলের কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য

১৭

‘বিদায় পৃথিবী’ লিখে সাংবাদিকের আত্মহত্যা

১৮

আর্জেন্টিনা-স্পেন ম্যাচ রেফারি ছিলেন মাদক মামলার আসামি

১৯

অনুশীলনে নেই ইয়ামাল, ফাইনাল খেলা নিয়ে শঙ্কা

২০
X