ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৪, ০৮:২৩ পিএম
আপডেট : ২০ মে ২০২৪, ০৯:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর শারমিনের পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

ডিমলা ইউএনও উম্মে সালমা ও শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার মনি। ছবি : কালবেলা
ডিমলা ইউএনও উম্মে সালমা ও শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার মনি। ছবি : কালবেলা

মেধাবী শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার মনির বাবা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। মা থেকেও নেই। ছোট বয়স থেকেই চাচার বাড়িতে আশ্রিত। খুপড়ি ঘরে দাদির সঙ্গে তাদের বসবাস। বয়সের ভারে সেও নুয়ে পড়েছে। নিজে প্রাইভেট পরিয়ে সেই টাকায় নিজের এবং বৃদ্ধ দাদির যৎসামান্য খরচ জোগাড় করে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েও কলেজে ভর্তি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় থাকা শারমিন আক্তার মনির পাশে দাঁড়িয়েছে ডিমলা ইউএনও উম্মে সালমা।

সোমবার (২০ মে) বিকেল ৩টায় ইউএনও তার কার্যালয়ে শারমিন আক্তার মনিকে ডেকে নিয়ে পাঁচ হাজার টাকা তুলে দেন এবং ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

ইউএনও উম্মে সালমা বলেন, জিপিএ-৫ পেয়েও পড়াশোনা অনিশ্চিত শারমিনের খবরটি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার হাতে পাঁচ হাজার টাকা তুলে দেই। এরপরও পড়াশোনা চালাতে যা যা করণীয় আমাদের জানালে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তাছাড়া শারমিন আক্তার যে কলেজে ভর্তি হবে সেখানেও যেন তাকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় সে ব্যাপারেও আমরা তাকে সহযোগিতা করব। এছাড়া ইউএনও তার ছাত্রজীবনের কঠিন বাস্তবতার গল্প বলে অনুপ্রেরণা জোগান ওই মেধাবী ছাত্রীকে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেজবাহুর রহমান, গয়াবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ফরহাদ হোসেন ফিলিপ, গয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শরিফ ইবনে ফয়সাল মুন, সাংবাদিক রেজুয়ান ইসলাম, সাংবাদিক রিপন ইসলাম শেখ ও দৈনিক কালবেলার ডিমলা প্রতিনিধি কামরুজ্জামান মৃধা প্রমুখ।

এ নিয়ে গত বুধবার ( ১৫ই মে) দৈনিক কালবেলায় 'জিপিএ-৫ পেয়েও পড়াশোনা অনিশ্চিত শারমিনের' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর প্রতিবেদনটি নজরে এলে তার কলেজে ভর্তির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার মনি জানান, আমার বাবা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। মা থেকেও নেই। সেই ছোট বয়স থেকেই চাচার বাড়িতে থাকছি। নিজে কোনোদিন কোচিং অথবা প্রাইভেট পড়িনি আবার নিজের লেখাপড়া চালাতে অন্যের বাচ্চাদের প্রাইভেট পড়িয়েছি। পাঠ্যবইয়ের অভাবে সিনিয়র ভাই বোনদের বই এনে পড়েছি। প্রতিনিয়ত অভাব ও দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করছি। শত প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও পড়াশোনা ছাড়িনি, লেখাপড়া চালিয়ে গেছি।

তিনি জানান, এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েও কলেজে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আজকে ইউএনও স্যারের এ সহযোগিতার জন্য আমি অনেক খুশি, স্যারের প্রতি চির কৃতজ্ঞ আমি। মন দিয়ে পড়াশোনা করে সামনে আরও ভালো রেজাল্ট করব ইনশাল্লাহ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উত্তরায় বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ড / মৃত বাবা-ছেলে ও ভাতিজিকে পাশাপাশি কবরে দাফনের প্রস্তুতি, গ্রামে শোক

ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়ের

আইইউবিএটির ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

‘খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবনই বিএনপি নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা’

বিগ ব্যাশে স্মিথ শো

মন গলানোর ‘শেষ চেষ্টা’ হিসেবে বাংলাদেশে আসছে আইসিসির প্রতিনিধি দল

হোস্টেল থেকে নার্সিং শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার

টেকনাফে দুর্বৃত্তের গুলিতে তরুণী নিহত

জামায়াতের সঙ্গে বৈঠককে স্বাভাবিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বলছে ভারত

হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যদের থামানোর কেউ নেই!

১০

গরম ভাতে ঘি খান, মস্তিষ্কে কেমন প্রভাব পড়ে জানলে অবাক হবেন

১১

রাস্তার পাশ থেকে অচেতন অবস্থায় এমপি প্রার্থী উদ্ধার

১২

খালেদা জিয়ার চিকিৎসাজনিত অবহেলার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন : চিকিৎসকদলের প্রধান

১৩

খালেদা জিয়ার নাগরিক শোকসভায় যা বললেন শফিক রেহমান

১৪

‘এক নেত্রীর ঠাঁই মানুষের হৃদয়ে, অন্যজনের দেশের বাইরে’ 

১৫

এনসিপির সেই নেত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাস

১৬

ম্যাচসেরা হয়েই ‘মানবিক’ সেই উদ্যোগের কথা জানালেন শরিফুল

১৭

মির্জা ফখরুলকে দেখেই দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন তারেক রহমান

১৮

সিরিয়া থেকে শতাধিক ছাগল চুরি করল ইসরায়েলি সেনারা

১৯

নির্বাচনের প্রার্থী স্বামী-স্ত্রী

২০
X