ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৪, ০১:০১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

এসএসসির প্রশংসাপত্র বিতরণে অর্থ আদায়ের অভিযোগ 

ক্ষেতলাল উপজেলার মাহমুদপুর বি এল উচ্চ বিদ্যালয়। ছবি : কালবেলা
ক্ষেতলাল উপজেলার মাহমুদপুর বি এল উচ্চ বিদ্যালয়। ছবি : কালবেলা

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মাহমুদপুর বি এল উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশংসাপত্র বিতরণে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগেও ওই বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে ‘ব্যবহারিক পরীক্ষায় অর্থ আদায়ের অভিযোগ’ শিরোনামে কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল জেলা শিক্ষা অফিস। দ্রুত শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেয় জেলা শিক্ষা অফিস।

শিক্ষার্থীরা জানান, উপজেলার মাহমুদপুর বিএল উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় ১২২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে ১০৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। উত্তীর্ণ হওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট থেকে প্রশংসাপত্রের জন্য ৩৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। প্রশংসাপত্র বিতরণে টাকা উত্তোলনের কোনো সরকারি আদেশ না থাকলেও নিয়মবহির্ভূতভাবে রশিদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এসব টাকা আদায় করছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তবে শিক্ষাবোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী সব শিক্ষার্থীর সনদপত্র, মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র (ট্রান্সক্রিপ্ট) ফি বোর্ড পরীক্ষার পূর্বে ফরম পূরণের সময়ে আদায় করা হয়। এ ছাড়া আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার ফি ও অন্যান্য খাত দেখিয়ে কোনো প্রকার রশিদ ছাড়াই ৭৮০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী কালবেলাকে বলেন, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে প্রশংসাপত্র দিতে রশিদ দিয়ে জনপ্রতি ৩৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। ওই টাকা না দিলে স্কুল থেকে প্রশংসাপত্র দেওয়া হচ্ছে না। এর আগেও এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় জোরপূর্বক আমাদের থেকে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা আদায় করেছিল। পরে কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর সেই টাকা ফেরত দিয়েছিল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী কয়েকজন পরীক্ষার্থী বলেন, আমাদের পরীক্ষা ফির সঙ্গে আনুষঙ্গিক খরচের কথা বলে স্যারেরা প্রত্যেকের কাছ থেকে ৭৮০ টাকা করে নিয়েছে। এখন না দিলে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় ৬ হাজার টাকা করে নিবে। এতগুলো টাকা নিয়েছে কিন্তু কোনো রশিদ দেয়নি। আমরা রশিদ চাইলে বলে পরে দিবে। হেড স্যার বলেছে ৭৮০ টাকা পরীক্ষার ফির কথা তোমরা বাইরে বলো না। আমরা বলেছিলাম স্কুলের বলে ৭০ বিঘা জমি তাহলে এগুলো টাকা আপনারা কি করেন, তখন স্যারেরা বলে এত কৈফিয়ত তোমাদের দেওয়া যাবে না। পরীক্ষা দিলে ফি দেও নাহলে দিও না। এ স্কুলে স্যারেদের চেয়ে কর্মচারীদের ক্ষমতা বেশি। আমরা একটু কিছু বললেই তারা আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, এ বিদ্যালয়ে প্রায় ৭০ বিঘা জমি রয়েছে। যা থেকে প্রতি বছর বিদ্যালয়ের লাখ লাখ টাকা আয় হয়। কিন্তু সেই টাকা কোথায় ব্যয় হয় কেও জানে না। এত আয়ের পরও কেনো বারবার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে জুলুম করে টাকা আদায় করে? বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, সদস্য ও কর্মচারীদের দাপটে কেউ মুখ খুলতে সাহস করে না। এসব দেখার কেউ নেই।

জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার ফি, সেশন ফি, স্কাউট ফি, রেড ক্রিসেন্ট, বিদ্যুৎ বিলসহ ৭৩০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এটা বাচ্চাদের বোঝার ভুল। রশিদ কেন দেওয়া হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, রশিদ তো দিতেই হবে। রসিদ বই নাকি শেষ হয়েছে পরে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রশংসাপত্রের জন্য সব স্কুল টাকা নেয় আমরাও টাকা নেই। আগে আমরা ১০০-১৫০ টাকা নিতাম, পরে ২০০ এখন ৩৫০ টাকা করে নিচ্ছি। আমরা এ টাকা নিতে পারি নির্দিষ্ট খাতের জন্য। আমরা এ টাকা টেস্ট মুনিয়ামের রসিদ বই ছাপার কাজে ব্যবহার করব।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এমএইচ নুরুন্নবী চৌধুরী রতন বলেন, রসিদ বই শেষ হয়ে গিয়েছিল আমি দ্রুত বই ছাপাতে বলেছি। প্রতিটা স্কুলের কিছু না কিছু অনিয়ম আছেই। সব ধরলে চলে?। হেড মাস্টারের সঙ্গে তো কথা হয়েছেই। উনি যা বলেছে তাই লিখেন।

উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার বাবুল কুমার মন্ডল বলেন, প্রশংসাপত্রের জন্য কোনো টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই এবং পরীক্ষার ফি বা যেকোনো ফি আদায়ে অবশ্যই রশিদ দিতে হবে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাব।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফতাবুজ্জামান আল ইমরান কালবেলাকে বলেন, বিষয়টি আমি খোঁজ নিচ্ছি। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

গ্যাস ভেবে এড়িয়ে যাচ্ছেন? হতে পারে ক্যানসারের মতো বড় সমস্যা

বুধবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

২৮ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

এসিআই মোটরসে চাকরির সুযোগ

সাতক্ষীরায় ৬ যুবদল নেতা বহিষ্কার

সুন্দরবন ও মোংলা বন্দর উন্নয়নে ধানের শীষে ভোট চাইলেন লায়ন ফরিদ

‘প্রমাণ ছাড়া যেকোনো ঘটনায় তারেক রহমানকে জড়ানো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতির প্রতিফলন’

মূল জনগোষ্ঠীর মধ্যে নীরবে ছড়িয়ে পড়ছে এইচআইভি

উত্তরায় সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

১০

ইসলামনগরে আগুন, জাবির দুই শিক্ষার্থীসহ দগ্ধ ৪

১১

নাসীরুদ্দীনের অভিযোগের প্রতিক্রিয়া জানালেন মির্জা আব্বাস

১২

মুস্তাফিজ ইস্যুতে ভারতের সিদ্ধান্তকে ‘শক্তির অপব্যবহার’ বলে আখ্যা ভারতীয় সাংবাদিকের

১৩

পৌনে ২ লাখ লোকের ইতিবাচক পরিবর্তন আনল ব্র্যাক ব্যাংক 

১৪

ডিমের আঁশটে গন্ধ দূর করার সহজ উপায়

১৫

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারে উদ্বিগ্ন নির্বাচন কমিশন

১৬

বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমানো নিয়ে বড় সুখবর দিলেন লুৎফে সিদ্দিকী

১৭

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগে পরিবর্তন এনে পরিপত্র জারি

১৮

সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ দ্রুত পাসের দাবি আহছানিয়া মিশনের

১৯

ক্ষমতায় গেলে কেরু অ্যান্ড কোং-সহ সব কারখানা সচল করা হবে : জামায়াত আমির

২০
X