লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মো. সুমন নামে এক যুবককে অপহরণের পর হাত-পা বেঁধে মারধরের মামলায় তিন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
আরও পড়ুন : নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩
সোমবার (২৪ জুলাই) দুপুরে লক্ষ্মীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুমিনুল হাসান জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে তাদের তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিরা হলেন, শাহীন (৩২), শাহজাহান (৫৫) ও মামুনুর রশিদ ওরফে মিলন (২৭)।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ইয়াহিয়া সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এর আগেও আসামিরা হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিনে ছিলেন। ওই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আবারও জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে মামলার প্রধান আসামি ইউপি সদস্য আবদুর রহিমসহ অপর চার আসামি পলাতক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন : আ.লীগ নেতার নেতৃত্বে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
ভুক্তভোগী সুমন উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ও পূর্বচরসীতা গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে। কারাগারে পাঠানো আসামিরাও একই গ্রামের বাসিন্দা।
প্রধান অভিযুক্ত আব্দুর রহিম উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও একই ইউনিয়ন যুবলীগের বিতর্কিত কমিটির সভাপতি বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুর রহিমসহ এজাহার নামীয় আসামিদের সঙ্গে ভুক্তভোগী সুমনদের জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এরই জের ধরে গত ৭ জুন সুমন বাড়ি যাওয়ার পথে পূর্বচরসীতা গ্রামের জমিদারহাট টু বেড়িবাঁধ পাকা সড়কের উত্তর পাশের সেলিম নামের এক স্যানিটারি দোকান এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে ইউপি সদস্য আবদুর রহিমের নেতৃত্বে আলমগীর, সাদ্দাম হোসেন মেহেদী, মো. হাসান ওরফে শরীফ, শাহীন, মো শাহজাহান ও মামুনুর রশিদ মিলনসহ কয়েকজন সুমনকে জোর করে তুলে নিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে ভুলুয়া নদীর পাশে ফিরোজ মিয়ার প্রজেক্ট এলাকায় নির্জন স্থানে নিয়ে সুমনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে তারা। এক পর্যায়ে সুমনকে বিবস্ত্র করে শরীরে পিঁপড়া ছেড়ে দেয়া হয়। এ সময় ইউপি সদস্য আবদুর রহিমসহ তার লোকজন এলোপাথাড়ি মারধর করে মুমনকে গুরুত্বর আহত করে মমুখমণ্ডলে কালো কাপড় বেঁধে অচেতন অবস্থায় ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাত একটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুমনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সুমনের ছোট ভাই আবদুল মাজেদ রাজিব বাদী হয়ে ইউপি সদস্য আদুর রহিমকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে রামগতি থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তিনজনকে কারাগারে পাঠালেও পলাতক ইউপি সদস্য আবদুর রহিমসহ অপর চারজন।
আরও পড়ুন : এবার পশ্চিমবঙ্গে ২ নারীকে বিবস্ত্র করে মারধর
মামলার বাদী আবদুল মাজেদ রাজিব বলেন, আমার ভাইকে ইউপি সদস্য আবদুর রহিমের নেতৃত্বে অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। প্রধান আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রতিনিয়তই মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। দ্রুত বাকি চার আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে রামগতি থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, আদালত তিন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন বলে শুনেছি। এ মামলায় পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্ঠা চলছে।
মন্তব্য করুন