বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৫৮ পিএম
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৫৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরের ৬ মাসের মধ্যে সুবিধা প্রদানের নির্দেশ

হাইকোর্ট। পুরোনো ছবি
হাইকোর্ট। পুরোনো ছবি

অবসর কল্যাণ বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের নামে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতনের ১০ শতাংশ কেটে রাখার বিপরীতে আর্থিক ও অবসর সুবিধা অবসরের ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। ইতিপূর্বে এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি নাইমা হাইদার এবং বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দিয়েছেন।

হাইকোর্ট বলেছেন, এটা চিরন্তন সত্য যে শিক্ষকরা রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট পেতে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। এই হয়রানি থেকে তারা কোনোভাবেই পার পান না। একজন প্রাথমিকের শিক্ষক কত টাকা বেতন পান, সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। এ জন্য তাদের অবসরভাতা ৬ মাসের মধ্যে দিতে হবে। এই অবসরভাতা পাওয়ার জন্য শিক্ষকরা বছরের পর বছর দ্বারে দ্বারে ঘুরতে পারে না।

রিটকারী শিক্ষক ও কর্মচারীদের পক্ষে পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মামুন চৌধুরি।

রিটকরীদের আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া এ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫ লাখের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছেন। তাদেরকে অবসরের ৬ মাসের মধ্যে বেতনের ১০ শতাংশ কেটে রাখার বিপরীতে আর্থিক ও অবসর সুবিধা দিতে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এই আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট প্রবিধানমালা, ১৯৯৯ এর প্রবিধান-৬ এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা প্রবিধানমালা, ২০০৫ এর প্রবিধান-৮ অনুযায়ী শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ২ শতাংশ এবং ৪শতাংশ মোট ৬ শতাংশ কর্তনের বিধান ছিল। যার বিপরীতে শিক্ষকদের ট্রাস্টের তহবিল হতে শিক্ষক ও কর্মচারীগণকে কিছু আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হতো। কিন্তু ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল ২শতাংশ ও ৪শতাংশ কর্তনের বিধান সংশোধন করে ৪শতাংশ ও ৬ শতাংশ মোট ১০ শতাংশ কর্তনের বিধান করে দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

তবে অতিরিক্ত অর্থ কর্তনের বিপরীতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কোন বাড়তি আর্থিক সুবিধার বিধান করা হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, বেতনের ১০ শতাংশ হারে কর্তনে ২০১৭ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৯ সালের এপ্রিল মাস হতে অবসর সুবিধা বোর্ডে ৬ শতাংশ এবং কল্যাণ ট্রাস্টে ৪ শতাংশ টাকা জমা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত অর্থ কর্তনের বিপরীতে কোন আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি না করেই শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ মোট ১০ শতাংশ টাকা কর্তনের আদেশের কারণে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫ লাখ শিক্ষক ও কর্মচারীদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত অর্থ কর্তনের আদেশ বাতিল করার জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় শিক্ষক ও কর্মচারীরা ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক জারীকৃত প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।

রিটকারীরা হলেন (১) বিপ্লব কান্তি দাস, (২) মো. তোফায়েল সরকার, (৩) মো. কামরুল হাসান, (৪) মো. গোলাম মোস্তফা, (৫) মো. আব্দুল মোমিন, (৬) মো. রায়হান আলি, (৭) মো. আব্দুল আলিম, (৮) মো. মাহবুবুর রহমান, (৯) মো. কামরুজ্জামান, (১০) মো. সাইফুল ইসলাম সহ সারা দেশের বিভিন্ন বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন বেসরকারি এমপিওভুক্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৩১ জন শিক্ষক ও কর্মচারী।

এ রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনটি কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে বিবাদীদের প্রতি ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেন। এ ছাড়াও এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতনের ৬ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ কর্তনের বিপরীতে বাড়তি আর্থিক সুবিধা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে সম্পূরক একটি রুল জারি করা হয়। এসব রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি করে আজ হাইকোর্ট শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতনের ১০ শতাংশ কর্তনের বিপরীতে আর্থিক ও অবসর সুবিধা অবসরের ৬ মাসের মধ্যে প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে রায় প্রদান করেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভূমিকম্পে নিহতের সর্বশেষ সংখ্যা জানাল ভেনিজুয়েলা সরকার

বদলির নির্দেশের দুই মাস পরও একই কর্মস্থলে পিআইও

সংবিধানে ফিরছে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা

রাজধানীর যেসব এলাকায় বসছে আরও ২০০ এআই ক্যামেরা

একযোগে কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা চালাল ইরান

চমক নিয়ে জুলাইয়ে আসছে একগুচ্ছ নতুন স্মার্টফোন

আ.লীগ আমলে তিন বাহিনীর বঞ্চিতদদের কাছে ফের আবেদন চাইল সরকার

যুদ্ধাপরাধের তোয়াক্কা না করে ইরানের রেলসেতুতে মার্কিন হামলা

টানা ৫ দিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

নতুন পে-স্কেলে গ্রেডভিত্তিক ইনক্রিমেন্টে পরিবর্তন আসছে

১০

ফ্রান্স-মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনাল আজ, সেমিতে যাবে কে?

১১

পাহাড় ধস: লামায় ৫, চকরিয়ায় ২ জন নিহত

১২

জাককানইবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হলেন খন্দকার নাজমুল হাসান

১৩

নদীর পানি বাড়ছে, ফেনীতে বন্যার শঙ্কা

১৪

বিদ্যুৎ-নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ে চরম দুর্ভোগে ২ উপজেলা

১৫

সিরিজ বাঁচাতে টাইগারদের সামনে কঠিন পরীক্ষা আজ

১৬

এলজিইডি কর্মকর্তাদের না পেয়ে কর্মচারীকে ‘মারধরের নমুনা দেখালেন’ বিএনপি নেতা

১৭

ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলবেন না মরক্কোর যে বড় তারকা

১৮

মিশরকে ‘ডাকাতি’ করে হারানো হয়েছে: মামদানি

১৯

বৃষ্টির পানিতে ঢেকে থাকা গর্তে অটোরিকশা উল্টে যুবকের মৃত্যু

২০
X