বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৫৮ পিএম
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৫৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরের ৬ মাসের মধ্যে সুবিধা প্রদানের নির্দেশ

হাইকোর্ট। পুরোনো ছবি
হাইকোর্ট। পুরোনো ছবি

অবসর কল্যাণ বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের নামে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতনের ১০ শতাংশ কেটে রাখার বিপরীতে আর্থিক ও অবসর সুবিধা অবসরের ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। ইতিপূর্বে এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি নাইমা হাইদার এবং বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দিয়েছেন।

হাইকোর্ট বলেছেন, এটা চিরন্তন সত্য যে শিক্ষকরা রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট পেতে বছরের পর বছর ঘুরতে হয়। এই হয়রানি থেকে তারা কোনোভাবেই পার পান না। একজন প্রাথমিকের শিক্ষক কত টাকা বেতন পান, সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। এ জন্য তাদের অবসরভাতা ৬ মাসের মধ্যে দিতে হবে। এই অবসরভাতা পাওয়ার জন্য শিক্ষকরা বছরের পর বছর দ্বারে দ্বারে ঘুরতে পারে না।

রিটকারী শিক্ষক ও কর্মচারীদের পক্ষে পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মামুন চৌধুরি।

রিটকরীদের আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া এ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫ লাখের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছেন। তাদেরকে অবসরের ৬ মাসের মধ্যে বেতনের ১০ শতাংশ কেটে রাখার বিপরীতে আর্থিক ও অবসর সুবিধা দিতে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এই আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট প্রবিধানমালা, ১৯৯৯ এর প্রবিধান-৬ এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা প্রবিধানমালা, ২০০৫ এর প্রবিধান-৮ অনুযায়ী শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ২ শতাংশ এবং ৪শতাংশ মোট ৬ শতাংশ কর্তনের বিধান ছিল। যার বিপরীতে শিক্ষকদের ট্রাস্টের তহবিল হতে শিক্ষক ও কর্মচারীগণকে কিছু আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হতো। কিন্তু ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল ২শতাংশ ও ৪শতাংশ কর্তনের বিধান সংশোধন করে ৪শতাংশ ও ৬ শতাংশ মোট ১০ শতাংশ কর্তনের বিধান করে দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

তবে অতিরিক্ত অর্থ কর্তনের বিপরীতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কোন বাড়তি আর্থিক সুবিধার বিধান করা হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে, বেতনের ১০ শতাংশ হারে কর্তনে ২০১৭ সালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১৯ সালের এপ্রিল মাস হতে অবসর সুবিধা বোর্ডে ৬ শতাংশ এবং কল্যাণ ট্রাস্টে ৪ শতাংশ টাকা জমা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত অর্থ কর্তনের বিপরীতে কোন আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি না করেই শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ মোট ১০ শতাংশ টাকা কর্তনের আদেশের কারণে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫ লাখ শিক্ষক ও কর্মচারীদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত অর্থ কর্তনের আদেশ বাতিল করার জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় শিক্ষক ও কর্মচারীরা ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক জারীকৃত প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।

রিটকারীরা হলেন (১) বিপ্লব কান্তি দাস, (২) মো. তোফায়েল সরকার, (৩) মো. কামরুল হাসান, (৪) মো. গোলাম মোস্তফা, (৫) মো. আব্দুল মোমিন, (৬) মো. রায়হান আলি, (৭) মো. আব্দুল আলিম, (৮) মো. মাহবুবুর রহমান, (৯) মো. কামরুজ্জামান, (১০) মো. সাইফুল ইসলাম সহ সারা দেশের বিভিন্ন বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন বেসরকারি এমপিওভুক্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৩১ জন শিক্ষক ও কর্মচারী।

এ রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনটি কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে বিবাদীদের প্রতি ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেন। এ ছাড়াও এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতনের ৬ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ কর্তনের বিপরীতে বাড়তি আর্থিক সুবিধা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে সম্পূরক একটি রুল জারি করা হয়। এসব রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি করে আজ হাইকোর্ট শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতনের ১০ শতাংশ কর্তনের বিপরীতে আর্থিক ও অবসর সুবিধা অবসরের ৬ মাসের মধ্যে প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে রায় প্রদান করেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের

ডাকসুর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প আটকে থাকায় জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

ইয়ামাল নাকি এমবাপ্পে, কে এগিয়ে? 

বন্যাদুর্গতের পাশে রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক ফাউন্ডেশন

ফ্রান্স বনাম স্পেন : ফাইনালে ওঠার মহালড়াইয়ে এগিয়ে কারা?

স্পেনে ষাঁড় দৌড়ে অংশ নিয়ে বিপত্তিতে ৬০ জন

ভারত / শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে অনশনরত সোনমের শারীরিক অবস্থার অবনতি

২০৩০ সালের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাচ্ছে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবার

শরীরে পানির অভাব কতটা, এই সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে জেনে নিন

মেক্সিকোকে ‘অস্বাভাবিক’ শর্ত আর্জেন্টিনার, মার্কার প্রতিবেদন

১০

একের পর এক বিস্ফোরণে কাঁপছে ইরানের বন্দর আব্বাস ও বুশেহর

১১

সিরিয়ার বন্দরে তুর্কি যুদ্ধজাহাজ

১২

গাইবান্ধায় হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

১৩

হাম ও উপসর্গে শিশুমৃত্যু বেড়ে ৭৬৬

১৪

মাঠে খেলা, পর্দায় ইনফান্তিনো—পেছনে কী রহস্য

১৫

রাজশাহীতে বাস চলাচল বন্ধ, যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে

১৬

সুন্দরবনের বড় দস্যু দলের প্রধানসহ ২৭ সদস্যের আত্মসমর্পণ

১৭

ধর্ষণের শিকার শিশুর পাশে জেলা প্রশাসন, চিকিৎসার ব্যয় বহনের আশ্বাস

১৮

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের

১৯

ওমান উপকূলে তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

২০
X