যশোরের রেলস্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আদনান আহমেদ প্রান্ত নামের যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পায়ে ও হাতে ছুরি মেরে তার কাছে থাকা জিনিসপত্র ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়। বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। পরে আদনানের বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে যশোরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। আদনান যবিপ্রবির বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং (বিএমই) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আদনান বলেন, আমি এক বন্ধুর বাসায় যাওয়ার পথে পথিমধ্যে টয়লেটে যাই। টয়লেট শেষে পেছন ফিরে তাকাতেই অজ্ঞাত একটি ছেলেকে দেখি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার পায়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করে বসে। তারপর ছিনতাইকারীর সঙ্গে আমার কিছুটা ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ছিনতাইকারী আমার হাতেও চাকু বসিয়ে দেয়। আমার চিৎকার শুনে খানিক দূরে অবস্থান করা আমার এক বন্ধু এগিয়ে আসলে ছিনতাইকারী দেয়াল টপকে চলে যায়। পরে আশপাশে মানুষ জড়ো হয় ও আমাকে সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করায়। এখন একটু স্বস্তি অনুভব করলেও ব্যথার পরিমাণটা অনেক বেশি।
এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়নের যবিপ্রবি সংসদের আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, যবিপ্রবির বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বষের ছাত্র এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, যবিপ্রবি সংসদ এর কার্যকরী সদস্য আদনান আহমেদ প্রান্ত গতকাল বিকেলে যশোর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছিনতাইকারীর আক্রমণের শিকার হয়েছে। তার পায়ে এবং কাঁধে ছুরিকাঘাত করে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়েছে। আমরা দোষী ব্যক্তির কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে যশোরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করার জন্য যশোর জেলা পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই রোকন বলেন, আমি সংবাদ পেয়ে আহত ছাত্রকে দেখতে হাসপাতালে যাই। চাচড়া ফাঁড়ি পুলিশ টিম এবং মোবাইল টিম আসামি ধরার বিষয়টি দেখতেছে। তারা ইতোমধ্যে আসামি ধরার জন্য অভিযান চালাচ্ছে। আসা করা যায় খুব শিগরিরই আসামি ধরা পড়বে।
এ বিষয়ে যবিপ্রবির প্রক্টর ড. হাসান মোহাম্মদ আল-ইমরান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। শিক্ষার্থী আদনান তার ২ জন বন্ধুর সঙ্গে কুষ্টিয়া যাচ্ছিল। ট্রেনে ওঠার আগে সে টয়লেটে যায়। টয়লেট থেকে বের হওয়ার সময় এক আততায়ী তাকে ছুরিকাঘাত করে এবং তার কাছে যা আছে সব বের করে দিতে বলে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে চিৎকার করলে তার বন্ধুরা এগিয়ে আসলে ছিনতাইকারী পালিয়ে যায়। পরে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। ক্ষতস্থানে ৭টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে সর্বোচ্চ আইনি সহযোগিতা করব।
মন্তব্য করুন