ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) র্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবরোধ করেন ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত ভুয়া জানিয়ে বিষয়টির অধিকতর তদন্তের দাবি জানান তারা।
পরে প্রায় দুই ঘণ্টা পর প্রক্টরের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। এ দিকে অবরোধ চলাকালীন ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যাওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের বহনকারী বাসগুলো আটকা পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন তারা।
জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক নবীন শিক্ষার্থী একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে লিখিতভাবে র্যাগিংয়ের অভিযোগ করেন। পর দিন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে কর্তৃপক্ষ। পরে মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে অভিযুক্তদের দুজনকে স্থায়ী বহিষ্কারসহ পাঁচ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।
এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াই বিশ্ববিদ্যাল কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আসলে র্যাগিংয়ের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এ ছাড়া, অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। এটা কর্তৃপক্ষের একটি ভুয়া সিদ্ধান্ত।
এ সময় তারা নতুন তদন্ত কমিটি গঠন, স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়ে প্রক্টরের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানায়। পরে ঘটনাস্থলে সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন উপস্থিত হয়ে তাদের দাবি মেনে নেওয়া আশ্বাস দিলে আন্দোলন তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে সহাকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন বলেন, ছাত্র-শৃঙখলা কমিটির বৈঠকে প্রাথমিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
র্যাগিংয়ের ঘটনায় স্থায়ী বহিষ্কৃতরা হলেন, হিশাম নাজির শুভ ও মিজানুর রহমান ইমন। এ ছাড়া শাহরিয়ার পুলক, শেখ সালাউদ্দীন সাকিব ও সাদমান সাকিব আকিবকে ১ বছরের জন্য বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন