কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:১৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আন্দোলনের নামে লুটপাট, হামলা বন্ধ করুন : নেপালের সেনাপ্রধান

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আন্দোলনের নামে দেশজুড়ে লুটপাট এবং হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেল। সেইসঙ্গে আন্দোলনকারীদের সড়কে বিক্ষোভ কর্মসূচির সমাপ্তি টেনে আলোচনার টেবিলে আসতে বলেছেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

কেপি শর্মা ওলি সরকার পতনের পর নতুন সরকার না আসা পর্যন্ত নেপালের শান্তি নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়েছে সেনাবাহিনী। শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের তীব্র আন্দোলনের মুখে গতকাল পদত্যাগ করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি এবং প্রেসিডেন্ট ও সরকারপ্রধান রাম কুমার পৌদেল। তাদের দুজনের পদত্যাগের পর ক্ষমতা গ্রহণ করে সেনাবাহিনী।

গতকাল মঙ্গলবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে জাতির উদ্দেশে জেনারেল সিগদেল বলেন, আমরা কঠিন একটি সময় পার করছি এবং কিছু গোষ্ঠী এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে লুটপাট, হামলা সরকারি-বেসরকারি সম্পদ ধ্বংস করছে।

আমরা আন্দোলনকারীদের অনুরোধ করছি, আপনারা প্রতিবাদ কর্মসূচি থামান এবং দেশে শান্তি স্থাপনের স্বার্থে আলোচনার জন্য এগিয়ে আসুন। আমাদের এখন বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করতে হবে; সেইসঙ্গে রক্ষা করতে হবে আমাদের ঐতিহাসিক এবং জাতীয় ঐতিহ্য, জনগণ এবং তাদের সহায়-সম্পদ এবং বিদেশি কূটনীতিকদের।

ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের মাত্র দুই দিনের তীব্র আন্দোলনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন হয়েছে। তবে আন্দোলনের দুই দিন ব্যাপক সহিংসতাও হয়েছে নেপালে।

নিরপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৮ সেপ্টেম্বর ১৯ জন আন্দোলনকারী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও শতাধিক। পরের দিন ৯ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ ভয়াবহ সহিংস রূপ নেয়। আন্দোলনকারীরা পার্লামেন্ট, মন্ত্রি-এমপিদের বাসভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর-লুটপাট-অগ্নিসংযোগ করা শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গতকাল দুপুরের পর পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি, সন্ধ্যায় পদত্যাগ করেন প্রেসিডেন্ট ও সরকারপ্রধান রামচন্দ্র পাওদেল।

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে সেনাপ্রধান বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দেশজুড়ে কারফিউ জারি আছে। আমি সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। গত দুই দিনে যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আরও ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকুন এবং আলোচনার টেবিলে আসুন। একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের সব দাবি আলোচনার ভিত্তিতে সমাধান সম্ভব।

আর যারা সেনাবাহিনীর এ আহ্বান উপেক্ষা করে প্রতিবাদ, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, হামলা প্রভৃতি চালিয়ে যেতে চান, তাদের উদ্দেশে বলছি—এখন থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং যারা এসব কার্যক্রমে লিপ্ত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

কালবেলা/এমএইচ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৪ জন গ্রেপ্তার 

মেয়েটিকে রক্ষা করুন, সাংসদকে ইমপিচ করুন: জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ডে শাহেদ আলম

জাতিসংঘে সেতুমন্ত্রী / সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ার আহ্বান 

জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের শ্রদ্ধা

বস্ত্র খাতের সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর কমিটি গঠন

জামায়াত এমপির ড্রাইভারের নিরাপত্তা ইস্যুতে নীলা ইসরাফিলের ফেসবুক পোস্ট

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা 

সকালের নাশতা ছাড়া ব্যায়াম করা কি নিরাপদ? জানুন

২০২৭ সালের মধ্যে ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন করবে সরকার

সুদানের চার অঙ্গরাজ্যে কলেরার সংক্রমণ, বাড়ছে উদ্বেগ

১০

শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান অভিযুক্ত হাটহাজারী থেকে গ্রেপ্তার

১১

ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে দিনব্যাপী শাখা দায়িত্বশীল কর্মশালা অনুষ্ঠিত

১২

সেতুর পাশে পড়ে ছিল অজ্ঞাত নারীর মরদেহ 

১৩

শোকেরও ছুটি নেই

১৪

স্বামী ছিলেন জেলে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণে স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা

১৫

ব্যাডমিন্টনের মাধ্যমে প্রবাসে বন্ধন ও সম্প্রীতির বার্তা

১৬

‘ইকোফিল’ উদ্যোগ চালু করল এনার্জিপ্যাক

১৭

টানা উত্তেজনায় পাঁচ সপ্তাহের সর্বোচ্চে তেলের দাম

১৮

প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে দাবি / এমপি নজরুলের নির্দেশে হামলা হয়েছিল ড্রাইভারের ওপর

১৯

বিশ্ববাজারে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে স্বর্ণের দাম

২০
X