ইসরায়েলের সহায়তা মধ্যপাচ্যে নতুন প্রযুক্তি সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি এবার এ অঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষার প্রযুক্তি ‘টার্মিনাল হাই অ্যালটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ বা ‘থাড’ পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, এ অঞ্চলে ‘টার্মিনাল হাই অ্যালটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ বা ‘থাড’ ছাড়াও অতিরিক্ত সুরক্ষার অংশ হিসেবে প্যাট্রিয়ট নামের প্রযুক্তিও দেওয়া হবে।
প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিনিদের বিভিন্ন ঘাঁটিতে হামলা জবাবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এজন্য এমন প্রযুক্তি ছাড়াও এ অঞ্চলে নৌবহরকে শক্তিশালী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় দুটি এয়াক্রফট ক্যারিয়ার এবং তাদের সহায়তায় জাহাজ ও ২০০০ নৌসেনা পাঠিয়েছে। মূলত হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীদের থেকে ক্রমাগত হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেন, এ অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে আরও অতিরিক্ত কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এজন্য অতিরিক্ত মার্কিন সেনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে তিনি সেনাদের সংখ্যা জানাননি।
হামাস ও ইসরায়েলের যুদ্ধের জেরে সম্প্রতি ইরাক ও সিরিয়ায় থাকা বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি হামলা হয়েছে। এ ছাড়া ইয়েমেন উপকূলের কাছে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
এমনকি এই যুদ্ধে ইসরায়েলকে সহায়তা করলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছে ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। এমনকি ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের অবিলম্বে দেশটি ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। এসব হুমকি-আলটিমেটামের মধ্যে মাত্র চার দিনে পাঁচবার মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে আলোচনার পর এই অঞ্চলে মার্কিন সক্ষমতা বাড়াতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন বাহিনীর সুরক্ষা নিশ্চিত এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষায় সহায়তা করবে।
থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হলো ‘টার্মিনাল হাই অলটিচুড এরিয়া ডিফেন্স’। এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্বল্প, মাঝারি ও মধ্যবর্তী পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম।
অন্যদিকে প্যাট্রিয়ট হলো ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা। মার্কিন প্রতিষ্ঠান রেথিয়ন এসব ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা তৈরি করে। ব্যয়বহুল এই ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা দিয়ে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, যুদ্ধযান ধ্বংস করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন