বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩৩
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:১৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইসরায়েলিদের চোখে ধুলা দিয়ে পালিয়ে আসার রোমহর্ষক গল্প

ড. জাওদাত সামি। ছবি : সংগৃহীত
ড. জাওদাত সামি। ছবি : সংগৃহীত

ড. জাওদাত সামি। গাজার আল-শিফা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে একটানা হেঁটেছেন ১৬ কিলোমিটার। দেইর আল-বালাহ শহরে পৌঁছে যখন স্থানীয় আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের সামনে পৌঁছালেন তখন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ড. জাওদাত। গাজার ভয়ংকর দিনগুলো পেছনে রেখে কোনো একদিন পালাতে পারবেন- এটাই ছিল তার কল্পনার বাইরে।

আল-শিফা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ২৫ দিন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাটিয়েছেন জাওদাত। ঢাল, তলোয়ার ছাড়া অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন আহতদের বাঁচিয়ে তোলার জন্য। আল-শিফা হাসপাতালের অবস্থা এখন করুণই বলা চলে। ওষুধ নেই, পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই, নেই অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও। গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন চলে মোমবাতির আলোয়। একটুখানি সেবা এবং উপরওয়ালার কাছে দোয়া করা ছাড়া ইসরায়েলের বোমার আঘাতে গুরুতর আহতদের বাঁচানোর আর কোনো উপায় নেই হাসপাতালটিতে।

হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকা আহতদের কথা বলতে গিয়ে ঝরঝর করে কেঁদে দেন জাওদাত সামি। ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে তিনি বলেন, আমরা আহতদের সাহায্য করতে পারিনি। তারা মারা যাচ্ছিল! আমরা তাদের বাঁচাতে কিছুই করতে পারিনি। চেয়ে চেয়ে তাদের মরতে দেখা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার ছিল না। জাওদাত জানান, হাসপাতালের উঠানে শতাধিক লাশ পড়ে আছে। ইসরায়েলি স্নাইপারের ভয়ে তাদের দাফন করাও সম্ভব হয়নি।

গেল শুক্রবার থেকেই আল-শিফা হাসপাতাল অবরোধ করে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম এই হাসপাতালের প্রাঙ্গণে কাউকে প্রবেশ কিংবা বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। কাউকে নড়তে দেখলেই দূর থেকে গুলি করছে ইসরায়েলি স্নাইপাররা। এই অবস্থায় হাসপাতাল থেকে বাইরে যাওয়ার কথা কল্পনাও করা যায় না। নিজের মা এবং প্রাণপ্রিয় স্ত্রীকে আর কখনো দেখতে পারবেন কি না, এটি ভেবে আবারও আবারও কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন ড. জাওদাত। এক সময় হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার মনস্থির করলেন তিনি।

সোমবার সকালে ছদ্মবেশ নিয়ে একদল বাস্তুচ্যুত লোকের সঙ্গে হাসপাতাল ত্যাগের পরিকল্পনা করলেন জাওদাত। স্নাইপারদের এড়াতে লোকগুলোর পেছন পেছন হাঁটা শুরু করলেন তিনি। এর মধ্যেই তাদের লক্ষ্য করে তিন তিনবার গুলি করে ইসরায়েলি স্নাইপাররা। হাসপাতালের আঙিনায় পড়ে থাকা মৃতদেহ, বিভিন্ন ধ্বংস্তূপ এবং রাস্তার মোড়ে মোড়ে আশ্রয় নিয়ে আল শিফা থেকে শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন জাওদাত সামি। এখন দেইর আল-বালাহ শহরে পৌঁছলেও নিজের পরিবারের কাছে কীভাবে পৌঁছাবেন, তা জানেন না এই চিকিৎসক।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

ঘটনাপ্রবাহ: ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ছাত্রদলের ১৫ নেতাকে অব্যাহতি

স্টার নিউজের আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু

সিলেটে লাল-সবুজের বাসে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন তারেক রহমান

ডিজিটাল মিডিয়া ফোরামের নতুন কমিটি ঘোষণা

আমি কোনো সাংবাদিককে থ্রেট দিতে চাই না : রাশেদ খান

ভোটারদের ‘ব্রেইন হ্যাক’ করার ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি

ইতালিতে ইসলামের পরিচিতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির লক্ষ্যে ‘ওপেন ডে’ পালন

কত আসনে নির্বাচন করবে জানাল ইসলামী আন্দোলন

তারেক রহমানের সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি বিএনপির

শ্রীলঙ্কাকে বিধ্বস্ত করল বাংলাদেশ

১০

নির্বাচিত সরকারই স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি : রবিউল

১১

প্রতারক শামীম ওসমান গ্রেপ্তার

১২

রাজশাহীকে হারিয়ে ফাইনালে চট্টগ্রাম

১৩

তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় দেশের মানুষ : সালাউদ্দিন বাবু

১৪

সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

১৫

স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ, বুধবার থেকে কার্যকর

১৬

বাংলাদেশের পরিবর্তনে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মারতে হবে : নৌপরিবহন উপদেষ্টা

১৭

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণায় পাবিপ্রবি পেল ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা

১৮

বিশ্বকাপের আগে ‘মিনি হসপিটাল’ দক্ষিণ আফ্রিকা

১৯

বিশ্বকাপে কঠিন হলো বাংলাদেশের পথ

২০
X