ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যে জিম্মিদের মুক্তির জন্য চুক্তি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। কয়েক ধাপের আলোচনা শেষে আলোর মুখ দেখতে চলেছে এ চুক্তি। এতে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার জানিয়েছে, চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। তবে চুক্তিতে একটি বিশেষ শর্ত অত্যাবশ্যক করতে চায় ফিলিস্তিন। মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন অসমর্থিত সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যে কোনো যুদ্ধবিরতির জন্য গাজার ওপর দিয়ে বিমান চলাচল বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে হামাস।
সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা হামাসের নেতা ইয়াহইয়া সিনওয়ারের বরাতে জানিয়েছে, গাজার ওপর সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ চায় হামাস। অন্যদিকে ওয়াইনেট জানিয়েছে, গাজার উত্তরাঞ্চলে দৈনিক ছয় ঘণ্টা বিমান চলাচল বন্ধ চায় হামাস।
গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। এ হামলার বেশিরভাগই আকাশপথে পরিচালিত হয়েছে। এ সময়ে হাজারবার বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
গাজায় ইসরায়েল যুদ্ধবিমান ছাড়াও স্থল অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ও হুমকি শনাক্তকরণ, আক্রমণ এবং নজরদারির জন্য অসংখ্য ড্রোন পরিচালনা করে আসছে। ফিলিস্তিনের এ শর্ত মানলে গাজায় ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। বিমান পরিচালনা ও ড্রোনের মাধ্যমে তারা জিম্মিদের মুক্তির ওপরও নজরদারি করে আসছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) অপর এক প্রতিবেদনে যুদ্ধরত ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার সম্ভাব্য এই চুক্তির মধ্যে কোনো কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে, সেসব বিষয় সামনে নিয়ে এসেছে ফরাসি বার্তা সংস্তা এএফপি।
এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি দেবে ইসরায়েল। এ সময় ইসরায়েলের স্থল অভিযান বন্ধ থাকবে এবং দক্ষিণ গাজায় বিমান হামলা সীমিত থাকবে। এ ছাড়া ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি থাকা ৩০০ ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুকে মুক্তি দেওয়া হবে। এসবের বিনিময়ে ৫০ থেকে ১০০ জন জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। এদের মধ্যে ইসরায়েলি ও বিদেশে বেসামরিক নাগরিক থাকলেও কোনো সেনা সদস্যকে মুক্তি দেওয়া হবে।
অন্যদিকে হামাসের কর্মকর্তা ইজ্জাত আল-রিশক আলজাজিরাকে বলেছেন, কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তির মধ্যে যুদ্ধবিরতি, গাজার সব এলাকায় ত্রাণ সরবরাহ এবং আহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয় থাকবে। জিম্মি ইসরায়েলি নারী ও শিশুদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের মুক্তির বিষয় থাকবে বলেও জানান তিনি।
আল-রিশক বলেন, এই চুক্তি নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলছিল। তবে একপর্যায়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামনে অগ্রসর হননি।
মন্তব্য করুন