কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ফ্লোটিলার যাত্রীদের যেভাবে নির্যাতন করেছে ইসরায়েলি সেনারা

ইসরায়েলি নৌবাহিনীর হাতে অপহৃত হওয়ার পর গ্রেটা থুনবার্গ এবং অন্য কর্মীরা। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলি নৌবাহিনীর হাতে অপহৃত হওয়ার পর গ্রেটা থুনবার্গ এবং অন্য কর্মীরা। ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলি সেনাদের হাতে আটক থাকার পর মুক্তি পাওয়া গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার যাত্রীরা ভয়াবহ নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ— আটক অবস্থায় ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে অনাহারে রেখেছে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম নিপীড়ন করেছে।

ত্রাণবাহী ফ্লোটিলা বহরটি গাজার ওপর আরোপিত অবরোধ ভাঙতে ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাচ্ছিল। গত সপ্তাহে ইসরায়েলি নৌবাহিনী ফ্লোটিলার জাহাজগুলো আটক করে এবং তাতে থাকা প্রায় ৪৫০ জন অধিকারকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। কয়েক দিনের মধ্যে তাদের কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, অনেকেই এখনো ইসরায়েলে আটক রয়েছেন।

মুক্তি পাওয়া যাত্রীদের একজন, ইতালির অধিকারকর্মী চেজারে তোফানি। দেশে পৌঁছে সাংবাদিকদের কাছে তার আটক থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণণা করে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ভয়ংকর ব্যবহার করা হয়েছে। সেনাদের হেফাজতে শারীরিকভাবে নির্যাতনের পর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়, সেখানেও অপমান ও হয়রানির শিকার হতে হয়।’

একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ইতালির ইসলামিক কমিউনিটিজ ইউনিয়নের সভাপতি ইয়াসিন লাফরাম। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলি বাহিনী আমাদের ওপর অস্ত্র তাক করে রেখেছিল। তারা সহিংস আচরণ করেছে, ভয় দেখিয়েছে। নিজেদের গণতান্ত্রিক দাবি করা একটি রাষ্ট্রে এমন বর্বর আচরণ অকল্পনীয়।’

শনিবার রাতে রোমে ফিরে আসেন ইতালীয় সাংবাদিক সাভেরিও তোমাসি। তিনি জানিয়েছেন, ‘ইসরায়েলি সেনারা তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধও খেতে দেয়নি, উপহাস করেছে এবং আটকদের সঙ্গে ‘বানরের মতো’ আচরণ করেছে।’

তার মতে, প্রহরীরা বন্দিদের নিয়ে হাসাহাসি করছিলেন। এই যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন গ্রেটা থুনবার্গ, নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্যও।

অন্য আরেকজন সাংবাদিক লরেনজো ডি’আগোস্তিনো জানিয়েছেন, সেনারা তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ও টাকা চুরি করেছে। ইস্তাম্বুলে ফিরে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভয় দেখাতে কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হয়, বন্দুকের লেজার আলো আমাদের দিকে তাক করা হয়।’

আরেক অধিকারকর্মী পাওলো ডি মোনটিস বলেন, ‘আমাদের সব সময় মাথা নিচু করে থাকতে বলা হতো। একবার তাকাতেই একজন এসে ধাক্কা দিয়ে মাথায় চড় মারে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়।’

মালয়েশিয়ার দুই শিল্পী ও মানবাধিকারকর্মী হেলিজা হেলমি ও হাজওয়ানি হেলমি জানান, ‘আমরা তিন দিন কিছু খেতে পারিনি। বাধ্য হয়ে শৌচাগারের পানি পান করেছি। কেউ অসুস্থ হলে তারা বলতো— ‘মরে গেছে নাকি? না মরলে আমাদের কী?’

এর আগে মুক্তি পাওয়া কয়েকজন যাত্রী দাবি করেন, গ্রেটা থুনবার্গকেও নির্যাতন করা হয়েছে— তাকে মাটিতে টেনেহিঁচড়ে নেওয়া হয়, ইসরায়েলি পতাকায় চুমু খেতে বাধ্য করা হয় এবং প্রচারণার কাজে ব্যবহার করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের দাবি, আটক ব্যক্তিদের সব আইনি অধিকার রক্ষা করা হয়েছে। বিপরীতে, চরম ডানপন্থি নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বরং গর্ব করে বলেন, ‘আমরা ফ্লোটিলা কর্মীদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের মতো আচরণ করেছি, এবং সেটাই প্রাপ্য।’

ইসরায়েলে অধিকারকর্মীদের ওপর এই নির্যাতনের ঘটনায় পাকিস্তান, তুরস্ক, কলম্বিয়া, গ্রিসসহ একাধিক দেশ তীব্র সমালোচনা করেছে। বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে এবং গ্রিস সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সর্বশেষ ২৯ জন ফ্লোটিলা কর্মীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তবে অনেকেই এখনো ইসরায়েলের হাতে বন্দি রয়েছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তিন বছর ধরে অবরুদ্ধ, স্ত্রীর জানাজায়ও যেতে দিল না ছেলে

পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে পদোন্নতি, গ্রেড-১ পেলেন ২ কর্মকর্তা

যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্বে আইয়ুব খান, প্রত্যাশা সাংগঠনিক গতিশীলতার

নারায়ণগঞ্জ  / বিএনপি নেতাকে মারধর, ৪ যুবদল কর্মী বহিষ্কার

ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে লেবাননের যোদ্ধারা

ঈদের ছুটিতে সিলেটের সাদাপাথরে পর্যটকের ঢল

বিশ্বকাপে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে আর্জেন্টিনার ‘গোপন’ পরিকল্পনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অস্ত্র ও গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার, পলাতক ২

হিটস্ট্রোকের আগে শরীর যেসব সংকেত দেয়

কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে নারী শ্রমিক ধর্ষণের শিকার, গ্রেপ্তার ১

১০

চাঁদাবাজির মামলায় ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

১১

টিআইবির বিবৃতি / কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ দুর্নীতিকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার শামিল

১২

৬ দফা দাবিতে চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলন

১৩

হজ শেষে হাজিদের জন্য যে ৩ কাজ জরুরি

১৪

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারদের ছাড়া শিল্প চলতে পারে না : রাগীব আলী

১৫

আলজাজিরার অনুসন্ধান / নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ গাজা, স্যাটেলাইটে উঠে এলো ইসরায়েলের বর্বরতা  

১৬

৫ জুলাই বিয়ে, জানালেন আমির নিজেই

১৭

বিশ্বকাপে ডাক পাওয়ায় পিছিয়ে গেল বিয়ে

১৮

‘আপা’ সম্বোধনে নয়, বাসি মিষ্টি বিক্রির দায়ে বনফুলকে জরিমানা : ইউএনও

১৯

অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি

২০
X