

ভেনেজুয়েলায় নাটকীয় অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বজুড়ে এ অভিযানে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ও ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযান বলে উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার (০৪ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, এই অভিযান ছিল আমেরিকার সামরিক সক্ষমতার এক অসাধারণ প্রদর্শন। এটি ২০১১ সালে ওসামা বিন লাদেন হত্যার অভিযানের পর সবচেয়ে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন।
কীভাবে চালানো হয় অভিযান
‘অ্যাবসলিউট রিজলভ’ নামের এই অভিযানটি কয়েক মাস ধরে গোপনে প্রস্তুত করা হয় বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। অভিযানের অংশ হিসেবে মাদুরোর বাসভবনের আদলে একটি কাঠামো তৈরি করে সেখানে বিশেষ বাহিনী অনুশীলন চালায়।
শুক্রবার রাত ১১টা ৪৬ মিনিটে অভিযানের চূড়ান্ত অনুমোদন দেন ট্রাম্প। এরপর পশ্চিম গোলার্ধের ২০টি ঘাঁটি থেকে প্রায় ১৫০টি বিমান উড্ডয়ন করে। অভিযানের শুরুতেই ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর করা হয় এবং রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
শনিবার ভোরে মার্কিন হেলিকপ্টার মাদুরোর বাসভবনে অবতরণ করে। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। পরে তাদের একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে তোলা হয়। এরপর সেখান থেকে তাদের নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভেনেজুয়েলা সরকারের দাবি, রাজধানী কারাকাসসহ একাধিক রাজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানো হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তবে মার্কিন গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, অভিযানে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, অভিযানে কয়েকজন মার্কিন সদস্য আহত হলেও কেউ নিহত হননি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতায় বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ভয়াবহ আতঙ্কের মধ্যে পড়েছে।
ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ কী
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখবে। প্রয়োজনে দেশটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।
এদিকে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক চেম্বার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছেন, এতে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
মন্তব্য করুন