বিশ্ববেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:৩৬ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রকে রুখতে মাঠে শি

বাণিজ্যযুদ্ধ
যুক্তরাষ্ট্রকে রুখতে মাঠে শি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় দফায় ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চীনের বিরুদ্ধে ‘রীতিমতো যুদ্ধ’ শুরু করেছেন। বেইজিংও কম যায় না, তারাও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। বিশ্ববাণিজ্যের এ দুই পরাশক্তির পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপে দিন দিন বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র হচ্ছে। সবশেষ মঙ্গলবার চীনা পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ২৪৫ শতাংশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের আদমানি শুল্কে এরই মধ্যে চীনের ক্ষুদ্র ব্যবসায় ভাটা পড়েছে। এ জন্য দেশটির ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অভ্যন্তরীণ বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে এগোচ্ছেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও প্রথম প্রান্তিকে প্রত্যাশা ছাড়িয়েছে চীনের অর্থনীতি। তবে তাতে আত্মতৃপ্ত না হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি মোকাবিলায় কৌশল নিয়েছে বেইজিং। এরই মধ্যে ওয়াশিংটনকে ঘায়েল করতে বিরল খনিজ রপ্তানি বন্ধ করেছে তারা। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সম্পর্ক আরও বাড়াতে মাঠে নেমেছেন স্বয়ং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বাণিজ্য করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীন ভালো অংশীদার—এমন বার্তা নিয়ে তিনি এসব দেশ সফর করছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে পৌঁছান চীনা প্রেসিডেন্ট। ২০১৩ সালের পর এই প্রথম তিনি দেশটি সফরে গেলেন। এর আগে ভিয়েতনামে গিয়ে বেশ কিছু সহযোগিতা চুক্তি সই করেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) থেকে রেল যোগাযোগ উন্নত করার মতো বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন শি জিনপিং।

কুয়ালালামপুরে নেমে শি বলেন, চীন ও মালয়েশিয়ার মধ্যে গভীর কৌশলগত সহযোগিতা দুই দেশের স্বার্থের জন্য ভালো। এটি বিশ্ব-শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্যেও ভালো।

ট্রাম্প সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর যে শুল্ক আরোপ করেছেন তাতে চীনের পর সবচেয়ে বেশি ‘শাস্তি পাচ্ছে’ আশিয়ানভুক্ত দেশগুলো। ট্রাম্পের কঠোর আচরণে স্বাভাবিকভাবেই ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলো অসন্তুষ্ট। এ পরিস্থিতিতে শির এ সফর ও বার্তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

মালয়েশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ নাজরির মতে, চীনের প্রেসিডেন্টের এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘চীন আমাদের বলছে, তারা আমেরিকার চেয়ে নির্ভরযোগ্য বাণিজ্য অংশীদার। চীনের সঙ্গে কাজ করতেও আমাদের কখনো সমস্যায় পড়তে হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, চীনের সঙ্গে মালয়েশিয়ার দূরত্ব ঘুচাতে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার। এতে দীর্ঘ মেয়াদে আমেরিকার প্রভাব কমবে। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হচ্ছে। দুই দেশই উপকৃত হচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মালয়েশিয়ার ওপর ২৪ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করেছে। অজুহাত হিসেবে ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক নেয় মালয়েশিয়া, যা অস্বীকার করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শুল্ক আরোপের সঙ্গে সঙ্গে ধস নামে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে। পরে ট্রাম্প শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেন। তবে সবমিলিয়ে চীনের ওপর সর্বশেষ ২৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

আমেরিকাকে এড়িয়ে চলো নীতি

তিন দিনের সফরে স্থানীয় সময় বুধবার মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইবনি ইস্কান্দারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শি। এদিন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন তিনি। এরপর চীনা প্রেসিডেন্ট কম্বোডিয়া যাবেন।

ভিয়েতনাম সফরের সময় শি জিনপিং হ্যানয়কে যুক্তরাষ্ট্রের ‘একতরফা নীতি ও আধিপত্যবাদের’ বিরোধিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন আরও উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, ভারসাম্যপূর্ণ ও সবার জন্য কল্যাণকর হওয়া উচিত।’

তবে, ট্রাম্পের অভিযোগ, চীন ও ভিয়েতনাম ‘কীভাবে আমেরিকাকে বিপদে ফেলা যায়’ এখন সেই চেষ্টা করছে। মানে যুক্তরাষ্ট্রকে শায়েস্তা করতে মাঠে নেমেছে চীন।

তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এশীয় শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক জেমস চিনের মতে, শির মালয়েশিয়া সফর চীনের ‘আমেরিকাকে এড়িয়ে চলার’ সক্ষমতা প্রমাণ করার চেষ্টা। ব্রিকসের মতো নতুন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য।

আসিয়ানভুক্ত ১০টি দেশের সঙ্গে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলতেও কাজ করছেন শি জিনপিং। সফল হলে বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্য ব্লক হবে এটি যেখানে মার্কিন ডলার এড়িয়ে বাণিজ্য হবে।

চীনের সঙ্গে থাকার লাভ

বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের সফরের তিন দেশের মধ্যে চীনের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মালয়েশিয়া। ৩ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার দেশটি এখন আশিয়ানের চেয়ারম্যানের পদে আছে। ২০০৯ সাল থেকে মালয়েশিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার চীন। ২০২৪ সালে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ২১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের চীন বিশ্লেষক উইলি ও-ল্যাপ লাম বলেন, ‘চীন মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায়, যা আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য কমে যাওয়ার ক্ষতিপূরণ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে আসিয়ানের ১০টি দেশের মধ্যে মালয়েশিয়ার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে দেশগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা নির্ধারণে মালয়েশিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।’

সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ স্কুল অফ পাবলিক পলিসির সহযোগী অধ্যাপক আলফ্রেড মুলুয়ান উ বলেন, চীন মালয়েশিয়াকে তাদের আঞ্চলিক প্রভাব বলয়ের অংশ মনে করে।

তিনি বলেন, ভৌগোলিকভাবে মালয়েশিয়া মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মতো দূরবর্তী বিষয়েও

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে আমেরিকাকে বিরক্ত করতে পারে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খোলা হয়েছে পাগলা মসজিদের দানবাক্স, মিলেছে ৩২ বস্তা টাকা

এক মঞ্চে কিম, পুতিন ও শি জিনপিং

ভিন্ন রূপে হানিয়া

রাজধানীতে আজ কোথায় কোন কর্মসূচি

নাক ডাকা বন্ধ করার ৭ সহজ উপায়

৩০ আগস্ট : কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

আট মাসে ইরানে ৮৪১ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

চার সেনাকে খুঁজে পাচ্ছে না ইসরায়েল

জ্ঞান ফিরেছে নুরের

বাংলাদেশের ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা

১০

টাক মাথায় চুল গজাবে পেয়ারা পাতায়

১১

জনগণের কল্যাণই তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য : মিল্টন ভুইয়া

১২

আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব জেলায়

১৩

রাজশাহীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে ভাঙচুর

১৪

ডিএমডি পদে আইএফআইসি ব্যাংকে চাকরির সুযোগ

১৫

ঢাকায় বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের বার্তা

১৬

৩০ আগস্ট : আজকের নামাজের সময়সূচি

১৭

শনিবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ

১৮

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ফাইল নিজেই জমা হবে অনলাইনে, কতটা ভালো?

১৯

ভিডিও তৈরির যে অ্যাপ সবার জন্য উন্মুক্ত করল গুগল

২০
X