

পিগমেন্টেশন এমন একটি সাধারণ ত্বকের অবস্থা, যেখানে ত্বকের কিছু অংশ অন্যান্য অংশের চেয়ে গাঢ় হয়ে যায়। অতিরিক্ত মেলানিন তৈরির কারণে ত্বকে দেখা দেয় ছোপ বা দাগ, যা দেখতে হতে পারে বাদামি, কালো, ধূসর, লাল বা গোলাপি রঙের। এ অংশগুলো সাধারণত কোনো ব্যথার কারণ হয় না, তবে কখনো কখনো মানুষের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে। সঠিক লাইফস্টাইল পরিবর্তন এবং ত্বকের চর্চা এ সমস্যা সমাধানে অনেকটাই সাহায্য করতে পারে। এর মধ্যে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো সূর্য থেকে রক্ষা এবং নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা। ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে ত্বকের এসব ছোপ ছোপ দাগ কমানো যেতে
পারে, তা নিয়েই লিখেছেন—সাদীয়া জাহান
পিগমেন্টেশন ত্বকের এমন একটি সমস্যা, যা চুপচাপ দেখা দেয় কিন্তু সহজে চলে যাওয়ার নাম আর নেয় না। পিগমেন্টেশন বলতে ত্বকের বিভিন্ন অংশে ডার্ক স্পট, অসম ত্বকের রং। যে কোনো বয়স বা ত্বকের ধরনের মানুষেরই পিগমেন্টেশন হতে পারে। এটি শুধুই ত্বকের বাহ্যিক সমস্যা নয়, এর প্রভাব ত্বকের গভীরেও থাকে। ভালো ডার্মাটোলজিস্টের শরণাপন্ন হলে এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। তবে অনেকেই চায় ঘরে বসে কার্যকর সমাধান। যদিও এ ধরনের ঘরোয়া উপায় ধীরে ধীরে কাজ করে।
পিগমেন্টেশন কী এবং এটি কেন হয়?
পিগমেন্টেশন তখনই ঘটে যখন মেলানিন (যা ত্বকের রঙের জন্য দায়ী) অতিরিক্তভাবে তৈরি হয়। এর ফলে ত্বকে দেখা দেয় ডার্ক প্যাচ, দাগ বা অসম রঙের ত্বক।
সাধারণ পিগমেন্টেশনের ধরনগুলো হলো—হাইপারপিগমেন্টেশন, মেলাসমা, পোস্ট-অ্যাকনে দাগ, সান স্পটস (সূর্যের কারণে দাগ)।
মুখের চারপাশে হাইপারপিগমেন্টেশন—অতিরিক্ত সূর্যের আলোতে থাকা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, মুখের ব্রণ ও ত্বকের প্রদাহ, বয়স বৃদ্ধি, চাপ ও ঘুমের অভাব, খারাপ স্কিনকেয়ার রুটিন এবং রুক্ষ বা রাসায়নিক সমৃদ্ধ পণ্য ব্যবহার।
পিগমেন্টেশনের মূল কারণ বোঝা হলো প্রথম ধাপ, যাতে ঘরে বসে প্রাকৃতিকভাবে চিরস্থায়ীভাবে দাগ কমানো যায়। কিন্তু ঘরে বসে প্রাকৃতিকভাবে পিগমেন্টেশন চিরস্থায়ীভাবে কমানো সম্ভব কি? হ্যাঁ, পিগমেন্টেশন প্রাকৃতিকভাবে উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব এবং পুনরায় হওয়া রোধ করা যায়। এ ক্ষেত্রে নিয়মিত প্রাকৃতিক ঘরোয়া উপায় ব্যবহার, নিয়মিত স্কিনকেয়ার রুটিন অনুসরণ, সূর্য থেকে সুরক্ষা, ত্বকের সঙ্গে মানানসই স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ ফর্মুলা।
পেঁয়াজের রস
পেঁয়াজ শুধু রান্নায় স্বাদ যোগ করে না, ত্বকের জন্যও এটি
একটি প্রাকৃতিক ডিটক্স এবং পিগমেন্টেশন হেল্পার।
ব্যবহারবিধি: একটি লাল পেঁয়াজ নিন এবং গোলাকার করে কেটে নিন। স্লাইসগুলো মুখের প্রভাবিত অংশে ঘষুন। কমপক্ষে ১০ মিনিট রাখুন, তারপর ৮০ তাপমাত্রার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। আরও কার্যকর ফলাফলের জন্য পেঁয়াজ ব্লেন্ড করে, কটন প্যাড ব্যবহার করে রস মুখে লাগাতে পারেন।
সুবিধা: পেঁয়াজে থাকে ভিটামিন সি, যা পিগমেন্টেশন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দিনে দুবার নিয়মিত পেঁয়াজের রস ব্যবহার করলে রক্ত শুদ্ধ হয় এবং ত্বক প্রাণবন্ত হয়। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ত্বকের কোষকে নতুন করে উজ্জ্বল করে, ফলে ত্বক হয় স্বাস্থ্যকর এবং দীপ্তিময়।
চন্দনের জাদু
চন্দন শুধু ত্বককে শীতল ও উজ্জ্বল করে না, এটি পিগমেন্টেশন এবং ডার্ক স্পট কমাতেও সাহায্য করে। দুই চামচ চন্দন গুঁড়া নিন এবং এর সঙ্গে ২-৩ চামচ গোলাপজল মিশিয়ে স্মুথ পেস্ট তৈরি করুন। পেস্টটি ফেস ব্রাশ বা আঙুল ব্যবহার করে মুখে লাগান। চাইলে পুরো মুখে মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন অথবা শুধু প্রভাবিত অংশে লাগাতে পারেন। এক ঘণ্টা রেখে দিন, তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
সুবিধা: চন্দন ত্বককে শীতল ও সতেজ রাখে এবং একটি প্রাকৃতিক সুগন্ধ দেয়। দাগ, ব্লেমিশ এবং ডার্ক স্পট দূর করতে সহায়ক। এটি প্রাচীনকাল থেকেই পরিচিত রক্তশোধক, যা পিগমেন্টেশন কমাতে সাহায্য করে। সপ্তাহে তিনবার চন্দনযুক্ত ফেসপ্যাক ব্যবহার করা মুখের পিগমেন্টেশনের জন্য অন্যতম সেরা ঘরোয়া প্রতিকার।
লেবু
লেবুর রস এবং মধু ভালোভাবে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এটি মুখের কালো দাগ বা পিগমেন্টেড জায়গায় লাগান। ১৫ মিনিট রেখে দিন। পরে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
সুবিধা: লেবু এবং মধু একত্রে প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্টের কাজ করে। লেবুতে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ত্বক উজ্জ্বল করার ক্ষমতা, যা UV রশ্মি থেকে ত্বককে
রক্ষা করে এবং একসঙ্গে কালো দাগ কমায়। এই হোম রেমেডি সপ্তাহে দুই-তিনবার ব্যবহার করলে দাগ ফিকে হয়ে যাবে এবং ত্বক হবে আরও স্বাস্থ্যবান ও উজ্জ্বল। তবে লক্ষ রাখবেন—লেবুর রস সংবেদনশীল ত্বকে একটু চুলকানি বা জ্বালা করতে পারে।
তাই সংবেদনশীল ত্বক থাকলে প্রথমে প্যাচ টেস্ট করে নিন।
টমেটো
টমেটো স্লাইস করুন। আক্রান্ত স্থানে স্লাইসগুলো ঘষে লাগান। ১০-১৫ মিনিট শুকাতে দিন। শেষে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
সুবিধা: টমেটোতে রয়েছে লাইকোপিন, ভিটামিন ‘এ’ এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান, যা ত্বকের পিগমেন্টেশন কমাতে সাহায্য করে। এটি প্রাকৃতিকভাবে ত্বক উজ্জ্বল এবং ব্লিচিং এজেন্টের কাজ করে। নিয়মিত কয়েক সপ্তাহ ব্যবহার করলে দাগ ও অমসৃণতা কমে যাবে।
বাদামের প্যাক
বাদাম এক রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খোসা ছাড়িয়ে গ্রাইন্ড করে মসৃণ পেস্ট বানান। দুধ দিয়ে পেস্টের কনসিস্টেন্সি ঠিক করুন। মধু এবং লেবুর রস মিশিয়ে নিন। আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে সারা রাত রাখুন। পরদিন সকালে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
সুবিধা: বাদাম ভিটামিন ‘ই’-সমৃদ্ধ, যা ত্বককে উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যবান রাখে। দুই সপ্তাহ নিয়মিত ব্যবহার করলে কালো দাগ ও হাইপারপিগমেন্টেশন কমাতে সাহায্য করে।
মন্তব্য করুন