বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:১২ পিএম
আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৫১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সাতছড়ি উদ্যানে ভালুক, জনসাধারণের চলাচলে বন বিভাগের সতর্কতা

সম্প্রতি সাতছড়ি উদ্যানের গহিন অরণ্যে ক্যামেরায় ধরা পড়া এশিয়াটিক ব্ল্যাক প্রজাতির বিলুপ্ত ভালুক। ছবি : কালবেলা
সম্প্রতি সাতছড়ি উদ্যানের গহিন অরণ্যে ক্যামেরায় ধরা পড়া এশিয়াটিক ব্ল্যাক প্রজাতির বিলুপ্ত ভালুক। ছবি : কালবেলা

হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের গভীর অরণ্যে দেখা মিলেছে বিলুপ্ত প্রজাতির একটি বন্য ভালুকের। সম্প্রতি স্থানীয় হারিস দেব বর্মা নামে এক ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় ধরা পড়ে প্রাণীটি। এ নিয়ে উদ্যানের ভেতরে জনসাধারণের অবাধ চলাফেরায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে উদ্যান কর্তৃপক্ষ।

বন বিভাগের ধারণা, ভালুকটি এশিয়াটিক ব্ল্যাক জাতের বিলুপ্ত প্রজাতির ভালুক। এরা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক স্বভাবের হয়। ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১০-১২টি ভালুক রয়েছে এ উদ্যানে।

পাখি প্রেমিক সোসাইটির যুগ্ম আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ পাল কালবেলাকে জানান, ভালুকের অবাধ চলাফেরা নিশ্চিত করতে ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠী তথা বনের কিছু বাসিন্দারা যাতে ওই ভালুকগুলোকে নিধন না করে ফেলে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ভালুকের খাদ্য জোগানের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। বনের ভেতরে বন্যপ্রাণীর শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।

তেলমাছড়া বিটের কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, এ উদ্যানে যথেষ্ট পরিমাণ মায়া হরিণ, বন বিড়াল ও বন্য শুকরের চলাফেরা আমরা সচরাচর লক্ষ্য করে থাকি। কিন্তু এবার ভালুক থাকার বিষয়টি আমাদের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আরও নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করিয়েছে। কেউ যাতে শিকার বা পাচার করতে না পারে এ বিষয়ে কড়া সতর্ক রাখছি।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের বিট কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ কালবেলাকে বলেন, ভালুক থাকার ঘটনাটি আমাদের মধ্যে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এটি সংরক্ষণে আমরা আরও কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছি। পর্যটকদের উদ্যানের ভেতরে প্রবেশ করতে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়েও সতর্ক করছি। তবে এখন পর্যন্ত ভালুক দ্বারা কেউ আক্রান্ত হয়নি।

বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, উপমহাদেশে ভালুকের চারটি প্রজাতি ছিল। এরমধ্যে ৩টি প্রজাতি বাংলাদেশে পাওয়া যেত। তবে একটি প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার বর্তমানে ভালুকের যে দুটি প্রজাতির দেখা মেলে, সে দুটিই মহাবিপন্ন। এশিয়ান কালো ভালুক (Asian black bear) এর মধ্যে একটি।

তিনি বলেন, এই ভালুকের বুকে ইংরেজি ‘ভি (V)’ বর্ণের মতো বুকে সাদা দাগ থাকে যা দেখতে অনেকটা অর্ধেক চাঁদের আকৃতির মতো লাগে। এ কারণে ভালুকটি চাঁদ ভালুক নামেও পরিচিত। ভালুকের এই প্রজাতিটি মাংসভুক গোত্রের হলেও কীটপতঙ্গ, ফলমূল ও মধু খায়। মা ও শাবক ছাড়া বাকি সব ভালুকই একা চলাফেরা করে, খাবারের খোঁজে দিনরাত সমানভাবে বনময় ঘুরে বেড়ায়। গাছে চড়ার ব্যাপারেও এরা ওস্তাদ। এই ভালুক সাধারণত মানুষকে আক্রমণ করে না। তবে দুই পায়ে দাঁড়িয়ে শিকারি বা শত্রুকে অনেক সময় ভয় দেখায়।

সাতছড়ি বনে এশীয় ভালুকের উপস্থিতিকে সুখবর বলে বর্ণনা করেন জোহরা মিলা। তিনি বলেন, এক সময় দেশের পার্বত্য অঞ্চল বিশেষ করে সিলেট-চট্টগ্রামের মিশ্র চিরসবুজ পাহাড়ি বনের গহীন অরণ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভালুকের বাস ছিল। কিন্তু বাসস্থান ধ্বংস, খাদ্যের অভাব, বনে অনুপ্রবেশ ও শিকার এবং পাচারের কারণে প্রাণীটি বিলুপ্ত হতে বসেছে। যদিও গহীন বনে কিছু ভালুক এখনও টিকে আছে। তবে সেটিও অস্তিত্বের সঙ্গে লড়াই করছে। বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত। তাই এটি শিকার, হত্যা বা এর কোনো ক্ষতি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সুখবর

কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, প্রতিহতের দাবি

চট্টগ্রাম বন্দরের দুই নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ড

ইতিহাসের এই দিনে

মুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি: ফের বাঁধ ভাঙার শঙ্কায় আতঙ্কে নদীতীরের মানুষ

আজকের নামাজের সময়সূচি

বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

বাউফলে অতিবর্ষণে সুলতানাবাদ সড়কের বেহাল অবস্থা

উখিয়ায় পৃথক স্থান থেকে দুটি বার্মিজ অজগর উদ্ধার, পরে অবমুক্ত

১০

বগুড়ায় প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

১১

মাদক রাখতে বাঁধা দেওয়ায় ৬ জনকে কুপিয়ে জখম, আটক ১

১২

স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

১৩

টেকসই ব্যাংকিং নিশ্চিতে ট্রেড ফাইন্যান্সের আধুনিকায়ন অপরিহার্য: বিআইবিএম

১৪

মানহীন-ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্যপণ্য / ডিএসসিসির মামলায় ৪ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

১৫

ক‌্যানসার আক্রান্ত শিক্ষক সাজু বাঁচতে চান

১৬

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্বারে দ্বারে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী

১৭

৯৬ বছরের ইতিহাসে যা কোনো দল পারেনি এবার কি তাই করে দেখাবে স্পেন?

১৮

শান্তিরক্ষা মিশনে জ্ঞান ও উদ্ভাবনী পদ্ধতির ওপর বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

১৯

মেসিরা উঠলেই বদলে যাবে ফাইনালের রেফারি!

২০
X