আবদুল লতিফ লায়ন, বকশীগঞ্জ (জামালপুর)
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৫, ১১:০৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

অর্ধশতাধিক বাড়িঘর বিলীন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

জামালপুরের বকশীগঞ্জে ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে জনপদ। ছবি : কালবেলা
জামালপুরের বকশীগঞ্জে ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে জনপদ। ছবি : কালবেলা

জামালপুরের বকশীগঞ্জে গত কয়েকদিনে ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদীতে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে। ফলে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার মানুষজন।

এ ছাড়াও মুন্দিপাড়া ব্রিজের মাথা থেকে মাটি সরে যাওয়ায় দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে ব্রিজটি। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বেড়েছে নদ-নদীর পানি। তীব্র স্রোতের কারণে বেড়েছে ভাঙন। প্রতিদিন ভাঙছে বসতভিটা, ফসলি জমি। নিলক্ষিয়া, মেরুরচর ও সাধুরপাড়া ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি নদীতে চলে গেছে।

মেরুরচর ইউনিয়নের নতুন মুন্দিপাড়া গ্রামের বিদ্যুৎ মিয়া, সুন্দর আলী, জুয়েল মিয়া, ঘুঘরাকান্দি এলাকার ফকির আলী, গামা শেখ, সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আইড়মারী এলাকার হাসর আলীসহ অর্ধশতাধিক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়াও ঘুঘরাকান্দি বাজার মসজিদটি ভেঙে গেছে। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ। অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত জুয়েল মিয়া বলেন, এর আগেও বেশ কয়েকবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন। এবার তীব্র ভাঙনে বাড়িঘর নদীতে চলে গেছে। এখানকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ অতিদরিদ্র কৃষক। তাদের অনেকের নতুন করে ঘর তোলার সামর্থ্য নেই।

ঘুঘরাকান্দি এলাকার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ফকির আলী, গামা শেখ, হাসেম আলী, মকবুল শেখ বলেন, তাদের সবাই কমবেশি ভাঙনের শিকার। ভাঙনে সহায়সম্বল বলতে যা ছিল, তার সব শেষ হয়ে গেছে। ফসলি জমিও নদীতে চলে যাচ্ছে। বারবার আবেদন করা হলেও ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২২ মে) নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন মেরুরচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মঞ্জু। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

বকশীগঞ্জের ইউএনও মাসুদ রানা কালবেলাকে জানান, মুন্দিপাড়া ব্রিজটির অ্যাপ্রোচ ধসে যাওয়ার খবর পেয়েই সংস্কারের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চলাচলের জন্য আরেকটি সাঁকোর ব্যবস্থা করা হবে। নদীভাঙনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের তালিকা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

লিটনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সহজ জয় বাংলাদেশের

ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

ট্রাম্পের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে, কী ঘটেছে?

নির্বাচনে সমতল জনগোষ্ঠীর সমর্থন চায় বিএনপি : তারেক রহমান

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাহমুদ উল্লাহর ইন্তেকাল

বড় পর্দায় আসছেন প্রভা

‘শক্তি থাকলে আসুক, হাত-পা ভেঙে দেব’, হুঁশিয়ারি জাপা নেতার

বাংলাদেশিরা ৫ কর্মদিবসেই পাবেন যুক্তরাজ্যের ভিসা, তবে...

নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবি পার্টির বিক্ষোভ

যে কারণে আগামী মৌসুমে রিয়ালকে আতিথেয়তা দিতে পারবে না লিভারপুল

১০

দত্তক নিয়ে ৩ সন্তানের মা সানি কেন নিজে গর্ভধারণ করেননি

১১

১৭তম সন্তানের জন্ম দিলেন ৫৫ বছরের নারী!

১২

দেশের দুঃসময়ে জিয়া পরিবারের ভূমিকা অনস্বীকার্য : আমান

১৩

চীনে মোদিকে লাল গালিচা সংবর্ধনা, কী ইঙ্গিত করছে?

১৪

গণনা শেষ, পাগলা মসজিদের সিন্দুকে মিলল রেকর্ড টাকা

১৫

সাপের মতো সুযোগ সন্ধানী শেখ হাসিনা ও তার দলবল : অধ্যাপক নার্গিস

১৬

‘বাচ্চা না হলে সংসার ছেড়ে চলে যেতে হবে’

১৭

তিন চমক নিয়ে ইতালির বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দল ঘোষণা

১৮

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক শিক্ষকদের আমরণ অনশনের আলটিমেটাম

১৯

চার সিদ্ধান্ত জানাল ডাকসুর নির্বাচন কমিশন

২০
X