গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৫, ০৮:২০ এএম
অনলাইন সংস্করণ

থানার পাশের পুকুরে যুবকের মরদেহ, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও

গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেছেন বিক্ষোভকারীরা। ছবি : কালবেলা
গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেছেন বিক্ষোভকারীরা। ছবি : কালবেলা

গাইবান্ধার সাঘাটা থানার পাশের পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার হওয়া যুবক সিজু মিয়ার মৃত্যুকে ‘পুলিশি হত্যা’ দাবি করে মানববন্ধন ও পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে কার্যালয় ঘেরাও করেন তারা।

নিহত সিজু মিয়া সদর উপজেলার গিদারি ইউনিয়নের বাগুরিয়া গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে এবং ইউনিয়ন শিবিরের সভাপতি ছিলেন। মানববন্ধনে নিহতের মা মোছা. রিক্তা বেগম, বড় বোন খুশি বেগম, স্থানীয় ইউপি সদস্য রমজান আলী, গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ফেরদৌস সরকার রুম্মানসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশ পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে রাখে। এ দাবিতে শনিবার বিকেলে শত শত মানুষ গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। পরে তারা বৃষ্টি উপেক্ষা করে পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান নেন।

বক্তব্যে তারা বলেন, সিজু সাঁতার জানত, সে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে মরতে পারে না। তাকে থানায় ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এরপর মরদেহ পুকুরে ফেলে ‘পালানোর সময় পানিতে ডুবে মৃত্যু’ নাটক সাজিয়েছে পুলিশ।

সিজুর মা রিক্তা বেগম বলেন, কয়েকদিন আগে সে একটি পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন কিনেছিল। সাঘাটা থানার এসআই রাকিব সেটিকে চোরাই ফোন বলে অভিযোগ করলে ইউপি সদস্য রমজান আলীর উপস্থিতিতে ফোনটি থানায় জমা দেওয়া হয়। এর পরও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিজুকে থানায় যেতে বলা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই তাকে হত্যা করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রমজান আলী বলেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় তার পকেট থেকে পাওয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রবেশপত্র একটুও ভিজে যায়নি, অথচ বলা হচ্ছে সে ১২ ঘণ্টা পানিতে ছিল—এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।

গাইবান্ধা ছাত্রশিবির সভাপতি রুম্মান বলেন, সিজু নম্র-ভদ্র ছেলে ছিল। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের কাছে ঘটনার ভিডিও রয়েছে।

গাইবান্ধা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করেন এবং ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আশ্বাস দেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে সিজু মিয়া সাঘাটা থানায় ঢুকে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মহসিন আলীকে ছুরিকাঘাত করে পালানোর চেষ্টা করেন। এরপর তিনি থানা সংলগ্ন পুকুরে ঝাঁপ দেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় সাঘাটা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের পুকুরে কচুরিপানার মধ্যে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মিসরকে হারিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি শেষ করলো ব্রাজিল

দেশের ১৭ অঞ্চলে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরেও সতর্কতা

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে রহস্যজনক তাপ, উৎস খুঁজছে পুলিশ-ফায়ার সার্ভিস

আন্তর্জাতিক রোবটিক্স অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক পেলেন বাংলাদেশের প্রিয়ন্ত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ

রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ

৩০০ জনকে চাকরি দেবে আবুল খায়ের গ্রুপ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদন

নিয়োগ দিচ্ছে এসিআই কোম্পানি, অনলাইনে আবেদন শুরু

রেড ক্রিসেন্টে চাকরির সুযোগ, আবেদন করতে পারবেন যারা

এসএসসি পাসেই চাকরির সুযোগ, বেতন ছাড়াও থাকছে বিভিন্ন সুবিধা

১০

দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে আ.লীগ নেতাকে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

১১

আজকের নামাজের সময়সূচি

১২

গভীর রাতে হঠাৎ ক্ষুধা লাগলে কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন?

১৩

ডিজিটাল গণমাধ্যম অগ্রদূতের আত্মপ্রকাশ

১৪

মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদল নেতাদের ওপর ‘আ.লীগের’ হামলা, আহত ১৮

১৫

রাজনীতিতেই থাকতে চাই, চাকরি নয় : ছাত্রদল নেতার আবেগঘন স্ট্যাটাস

১৬

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশ / জিম্মায় নেওয়া চুরির মালামাল থানায় ফেরত দিলেন কর্মকর্তা

১৭

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারদলীয় এমপিদের সভা অনুষ্ঠিত

১৮

সকাল ৯টার মধ্যে ১৮ জেলায় ঝড়ের আভাস

১৯

পদ্মায় ডুবে যাওয়া সেই বাসের চালকসহ গ্রেপ্তার ৩ জনের জামিন

২০
X