সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩৩
আল-আমিন অনিক, মহিপুর (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৫, ১১:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

উপ-সহকারীর ভরসায় চলছে ২০ শয্যার হাসপাতাল

কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। ছবি : কালবেলা
কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। ছবি : কালবেলা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার ২০ শয্যার সরকারি হাসপাতাল আবারও চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ দায়িত্বরত একমাত্র চিকিৎসক সুপ্রিয়া দাসের বদলির পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগ কোনো রকমে চলছে একজন উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসারের ভরসায়।

জানা গেছে, ২০১০ সালের ১ জুলাই আফরোজা আকবর নামে প্রথম চিকিৎসক পদায়নের মাধ্যমে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু ২০১১ সালের ৩ জানুয়ারি রহস্যজনকভাবে ওই চিকিৎসক লাপাত্তা হয়ে যান। পরে ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর থেকে কখনো একজন, কখনো দুজন চিকিৎসক দিয়ে নামমাত্র সেবা চালু ছিল।

হাসপাতালটিতে চারজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও একজন মেডিকেল অফিসারসহ মোট ছয়টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কোনো চিকিৎসকই কর্মরত নেই। কাগজপত্রে হাসপাতালটিতে ১৭ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও, ১২টি পদ শূন্য। সিনিয়র স্টাফ নার্স রয়েছেন পাঁচজন, বাকি কর্মীদেরও অনেকেই প্রেষণে অন্যত্র যোগ দিয়েছেন।

বর্তমানে জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগ কোনোভাবে চালানো হচ্ছে একজন উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে। ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কুয়াকাটায় যাওয়া পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) সকালে হাসপাতালে সরেজমিন দেখা গেছে, লতাচাপলীদিয়ার আমখোলা এলাকা থেকে আসা মমতাজ বেগম (৩৮) ফিরে যাচ্ছেন। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন। কিন্তু নেই শুনে ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিয়ে ফিরে যাবেন বলে ঠিক করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হাসান বলেন, হাসপাতালটি চালুর পর থেকে কখনোই পূর্ণাঙ্গ জনবল ছিল না। ফলে কুয়াকাটা পৌরসভা ও মহিপুর উপজেলার ৪ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়। এখন একজন চিকিৎসকও নেই।

আমরা কুয়াকাটাবাসী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি হাফিজুর রহমান আকাশ বলেন, কুয়াকাটা একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। হাসপাতালটিতে দ্রুত পর্যাপ্ত চিকিৎসক পদায়নসহ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শঙ্কর প্রসাদ অধিকারী জানান, কুয়াকাটাসহ উপজেলায় চিকিৎসক সংকট রয়েছে। এ সমস্যা নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত একজন উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসারকে জরুরি ও বহির্বিভাগ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিয়া কালবেলাকে জানান, একজন চিকিৎসক ছিলেন, যার গত মাসে বদলি হয়েছে। চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপির জনসভার ১৮টি মাইক, ৫ কয়েল তার চুরি

দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিএনপির রাজনীতি : রিজভী

সিরাজগঞ্জে বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ

তারেক রহমানই বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবেন :  সালাম

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢামেকে শোক বই, উদ্বোধন করলেন ড্যাব সভাপতি 

শাকিবের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ‘গোপন’ খবর ফাঁস করলেন অমিত হাসান

ইসিকে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছ ভোট গণনা নিশ্চিত করতে হবে : রবিউল

ঢাবির মাঠে খেলতে আসায় কানে ধরালেন ডাকসুর সর্বমিত্র

সোমবার গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

তারেক রহমানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই : মঈন খান

১০

মাদুরোকে গ্রেপ্তারে মার্কিন অভিযানের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

১১

‘ভারতীয় প্রক্সি বাহিনীর’ সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ

১২

কোনো কোনো দল বলছে আমরা নাকি মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছি : তারেক রহমান

১৩

সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য 

১৪

স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস, সোমবার থেকে কার্যকর

১৫

ডিবির জালে আটক মাদক সম্রাট স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বিল্লাল

১৬

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিএনপির বিকল্প নেই : সালাহউদ্দিন

১৭

পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতাকারীরা ভোটের জন্য এসেছে : মির্জা ফখরুল

১৮

এবার ক্রিকেটারদের সঙ্গে ‘বৈঠকে’ বসছে পাকিস্তানও, উত্তেজনা তুঙ্গে 

১৯

‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ মন্তব্যের জেরে আইনি পথে যাচ্ছে ডাকসু

২০
X