ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় জমি লিখে না দেওয়ার জেরে সন্তানের বিরুদ্ধে গর্ভধারিণী বৃদ্ধা মাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার (১ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার জোড়াদাহ ইউনিয়নের হরিশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত আখিরন নেছা (১০৬) ওই গ্রামের মৃত মঙ্গল মন্ডলের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানায়, বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত বিধবা আখিরন নেছার দুই ছেলে। তারা সবাই বিবাহিত। ছেলেদের সংসারে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। আখিরন নেছার নামে থাকা ১০ বিঘা জমি লিখে দেওয়ার জন্য তার বড় ছেলে মানোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন যাবৎ তাকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে প্রায়ই তিনি তার বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।
বুধবার দুপুরে বৃদ্ধা মাকে খেতে না দিয়েই মানোয়ার হোসেন ও তার পরিবার খাওয়া দাওয়া শেষ করেন। ক্ষুধার্ত আখিরন নেছা ভাত চাইলে তার পুত্র মানোয়ার হোসেন তাকে গালাগাল করেন। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির সৃষ্টি হলে মানোয়ার হোসেন বাড়িতে থাকা আখের খণ্ড ও লাঠি দিয়ে মাকে মারতে থাকেন। এতে বৃদ্ধার হাতে, মুখে ও পিঠে গুরুতর জখম হয়। পরে প্রতিবেশীরা উপস্থিত হয়ে আহত অবস্থায় আখিরন নেছাকে উদ্ধার করে পল্লীচিকিৎসকের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা করান।
আহত আখিরন নেছা বলেন, মানোয়ারের কথামতো জমি লিখে না দেওয়ায় প্রায়ই আমার সঙ্গে সে দুর্ব্যবহার ও মারধর করে। আমি বহুদিন ধরে অসুস্থ থাকলেও সন্তানরা আমার খোঁজখবর নেয় না, চিকিৎসা করায় না। আজ আমার ভাত চাওয়া নিয়ে আমার সন্তান আমার সঙ্গে যা করল এর বিচার আমি উপরওয়ালার কাছে দিলাম।
অভিযুক্ত মানোয়ার হোসেন বলেন, আমি মাকে কোনো প্রকার মারধর করিনি। সে নিজেই উঠানে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি আবু আজিফ বলেন, ঘটনাটি শোনার পরপরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন