কক্সবাজারের উপকূলীয় মহেশখালী-কুতবদিয়ায় চলতি বছরের লবণ মৌসুম শুরু হওয়ার আগে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির খবর চাউর হলে চাষিদের মধ্যে লবণের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে চরম হতাশা ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। লবণের বর্গা জমির মূল্য, শ্রমিকের মজুরি, পলিথনিসহ দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির বোঝা মাথায় নিয়ে আগাম লবণ উৎপাদনে মাঠে নেমেছেন চাষিরা।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানিয়েছে, দেশের আপদকালীন সময়ে লবণ আমদানির একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেটি গত বছরও নেওয়া হয়েছিল। দেশে রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন ও দেশের লবণের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হওয়ায় লবণ আমদানির প্রয়োজন হয়নি এবং চাষিরা লবণের ন্যায্যমূল্য পেয়েছে।
গত মৌসুমে লবণের ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় বেড়েছে লবণের মাঠ, শ্রমিক, পলিথিন ও অন্যান্য মালামালের দাম। তারপরও লবণ উৎপাদনে আগাম মাঠে নেমেছেন চাষিরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহেশখালীর ধলঘাট, হোয়ানক, কুতুবদিয়ার বড়ঘোপের আমজাখালী, লেমশীখালীর মতিবাপের পাড়া, কৈয়ারবিলসহ বেশকিছু এলাকায় লবণ উৎপাদনের জন্য চাষিরা আগাম মাঠে নেমেছেন। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের লবণের ভালো দাম পাওয়ায় জমিদাররা গত মৌসুমের চেয়ে কানিপ্রতি ৫-৮ হাজার টাকা করে জমির মূল্য বাড়িয়েছে। পলিথিন, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য মালামালের দামও বেড়েছে গত মৌসুমের চেয়ে। লবণের বর্তমান মূল্য নিয়ে চাষিরা সন্তুষ্ট।
কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিলের আব্দু হামিদ মিয়াজী পাড়ার লবণ চাষি শামশুল ইসলাম বলেন, গত বছর লবণের ভালো দাম পেয়েছি। তবে এ বছর লবণের মাঠের দাম, শ্রমিক ও দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়েছে। একদিকে সংসদ নির্বাচন, অন্যদিকে নাকি শুনেছি লবণ আমদানি করবে। তবে লবণ আমদানি করলে লবণের মূল্য কমে যাবে এবং আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হব।
লেমশীখালীর লবণ চাষি ওসমান গণি বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে লবণ চাষ করে আসছি। অন্য কোনো কাজ জানি না। লবণ মূল্য কমে গেলে আমাদের লোকসান হয়। অনেক বছর লবণের মূল্য নিশ্চিত না হওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তবে গত কয়েক মৌসুম সরকার লবণের মূল্য নিশ্চিত করায় আমরা লাভবান হয়েছি। এ বছর নির্বাচনের কারণে লবণের মূল্য কমে যায় কিনা এটা নিয়ে খুবই চিন্তায় পড়ে গেছি।
কুতবদিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতব্বর বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের লবণের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিংহভাগ মানুষ লবণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। গত মৌসুমের মতো লবণ আমদানি না করে লবণের ন্যায্যমূল্যের নিশ্চিতে বিষয়ে চাষিদের পক্ষে থেকে তিনিও সরকারের প্রতি দাবি জানান।
লবণ আমদানির আশঙ্কা দূর করে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার এমপি আশেক উল্লাহ রফিক বলেন, সরকারের একটি আপদকালীন সিদ্ধান্তের বিষয়ে লবণ আমদানির একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা গত বছরেও নেওয়া হয়েছিল। দেশে যদি রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন হয়, তাহলে লবণ আমদানির প্রয়োজন হবে না। লবণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আছে। এটি নিয়ে লবণ চাষিদের হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। এই সরকার লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করেছে।
মন্তব্য করুন