শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩৩
ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৫৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

গ্রামীণ পরিবেশে বিলুপ্ত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বিলুপ্তর পথে গ্রামীণ ঐতিহ্যের মাটির ঘর। ছবি : কালবেলা
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বিলুপ্তর পথে গ্রামীণ ঐতিহ্যের মাটির ঘর। ছবি : কালবেলা

আধুনিকতার ছোঁয়ায় আর মানুষের রুচিবোধে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হচ্ছে পারিপার্শ্বিক পরিবর্তন। এতে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। যার ফলে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রায় বিলুপ্তর পথে গ্রামীণ ঐতিহ্য মাটির তৈরি ঘর। অথচ এক সময় এ অঞ্চলের মানুষের বসবাসের জন্য জনপ্রিয় ছিল এ মাটির ঘর। এখন অধিকাংশ বাড়ি কাঠ ও টিন দিয়ে তৈরি। যারা অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল তারা তৈরি করেছেন ইট-সিমেন্টের পাকা বাড়ি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ উপজেলায় একযুগ আগেও অহরহ এসব ঘরের দেখা মিলতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে দ্রুত বদলেছে সামাজিক পরিবেশ। প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা গ্রামীণ ঐতিহ্যের নিদর্শন মাটির ঘরের জায়গায় এখন শোভা পাচ্ছে ইট-সুড়কির দালানকোঠা ও কাঠ টিনের তৈরি ঘর। এখন আর কেউ মাটি দিয়ে ঘর তৈরি করতে আগ্রহী হচ্ছে না। যার ফলে গ্রামীণ পরিবেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে পড়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, গ্রামীণ পরিবেশে মাটির ঘর ছিল এক সময়ের রাজপ্রাসাদের মতো। এসব ঘর তৈরি হতো অল্প খরচেই। পরিবারের লোকজন মিলে অল্প কয়েক দিনেই এই ঘর তৈরি করত। কোদাল দিয়ে এঁটেল মাটি ভালোমতো কুপিয়ে ঝুরঝুরে করে নেওয়া হতো। তারপর এই ঝুরঝুরে মাটিতে পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে মাটির খামির তৈরি করা হতো। এই খামির দিয়ে পর্যায়ক্রমে তৈরি হতো দৃষ্টিনন্দন মাটির ঘর। এই ঘর তৈরিতে শ্রম ও সময় কম লাগতো এবং ব্যয়ও হতো কম। মাটির ঘরে শীতকালে কম শীত ও গ্রীষ্মকালে কম গরম লাগতো।

উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের প্রবীণ বাসিন্দা মন্তু মিয়া কালবেলাকে বলেন, মাটির ঘর তো এখন দেখিই না। আমরা ছোটবেলায়ও দেখেছি প্রতিটি বাড়িতেই দু-একটা মাটির ঘর ছিল। সময় খুব দ্রুতই বদলে যাচ্ছে। মাটির ঘরের স্থান এখন দখল করে নিয়েছে ইট সুড়কির দালানকোঠা আর টিনের তৈরি ঘর।

উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম সুজন কালবেলাকে বলেন, এই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক সময় অধিকাংশ বাড়িতেই মাটির ঘর ছিল। সে সময় কাদামাটি দিয়ে তৈরি মাটির ঘরে শীত-গ্রীষ্মে বসবাস করায় স্বস্তি ছিল। বর্তমানে এই জনপদের মানুষ তৈরি করছেন টিনের ঘর ও দালানকোঠা। যার ফলে গ্রামীণ পরিবেশ থেকে প্রায় হারিয়ে গেছে গ্রামবাংলার চির চেনা ঐতিহ্য মাটির ঘর।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রস্রাবের কথা বলে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালালেন আসামি

জনগণের দোয়া ও সমর্থন চাইলেন রবিউল

ব্র্যাক ইপিএল কর্পোরেট ক্রিকেটে সেনাবাহিনী ও ঢাকা ব্যাংকের জয়

আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

‘বিশ্ব প্রস্থোডন্টিস্ট দিবস’ উদযাপিত / মুখ ও দাঁতের মানসম্মত চিকিৎসার ওপর গুরুত্বারোপ

আরেক সাফ মুকুটের দুয়ারে ‘ব্রাত্য’ সাবিনারা

বিএনপির নির্বাচনী পথসভায় দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০

উত্তরবঙ্গকে বাণিজ্যিক রাজধানী করা হবে : জামায়াত আমির

আসর সেরা হয়েও ক্ষমা চাইলেন শরিফুল

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ডিম নিক্ষেপ, ছুড়ল নোংরা পানি

১০

দেশের উন্নয়নে বধিরসহ সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে : অপর্ণা রায়

১১

খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় জিয়া পরিষদের দোয়া মাহফিল

১২

আনুষ্ঠানিকভাবে নুরুদ্দিন অপুর নির্বাচনী প্রচার শুরু   ‎

১৩

বিভিন্ন স্থানে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জামায়াতের

১৪

শিল্পকলায় মাসব্যাপী যাত্রাপালার সমাপনীতে মঞ্চস্থ হলো ‘জেনারেল ওসমানী’

১৫

৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ভাসমান সেতু বানিয়ে প্রশংসায় ভাসছে যুবদল

১৬

পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাবে তরুণসমাজ বিপথগামী হচ্ছে : মির্জা আব্বাস

১৭

বইয়ের পাতার গণ্ডি পেরিয়ে মহাকাশে বাংলাদেশের শিশুরা!

১৮

মানুষ একটি পরিবর্তন চায় : তারেক রহমান

১৯

একটি দল আ.লীগের ভূমিকায় নিজেদের উপস্থাপন করছে : আসিফ মাহমুদ

২০
X