কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০:১৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

দেশে ফিরে কারাগারের লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন তারা

দেশে ফিরে স্বজনদের পেয়ে উৎফুল্ল। ছবি : কালবেলা
দেশে ফিরে স্বজনদের পেয়ে উৎফুল্ল। ছবি : কালবেলা

মিয়ানমারের কারাগারে বন্দি থাকা ১৭৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরে এসেছেন। বুধবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে মিয়ানমারের একটি জাহাজে করে তাদেরকে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া বিআইডাব্লিউটিএ ঘাটে নিয়ে আসা হয়।

দেশে ফিরে এসে কারাগারের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন তারা।

ফিরে আসা এসব বাংলাদেশিদের সিংহভাগই দালালের খপ্পরে পড়ে উন্নত জীবনের আশায় কেউ হেঁটে, আবার কেউ সাগর পথে মালয়েশিয়া যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মিয়ানমার বাহিনীর হাতে আটক হয়ে তাদের অবস্থান হয় কারাগারে। এদিকে যে জাহাজে বাংলাদেশি বন্দিরা এসেছেন সেই জাহাজেই বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ থেকে ফেরত যাবেন রাখাইনে চলমান সংঘাত হতে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ২৮৫ জন মিয়ানমার বিজিপি ও সেনা সদস্যরা।

ফেরত আসা বাংলাদেশি নাগরিক উখিয়ার মনখালী গ্রামের বদিউল আলমের ছেলে সালা উদ্দিন ও একইগ্রামের শাহ আলমের ছেলে মো. ফারুখ জানান, মিয়ানমার কারাগারে তাদের ওপর চালান হতো নিয়মিত নির্যাতন। দিনে এক বেলা খাবার দেওয়া হতো, তাও আবার খাওয়ার অনুপযোগী। কোনো কথা বলা যায় না। বললেই নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হতো। এভাবেই অন্ধকারে কেটেছে তাদের দশটি বছর।

এর আগে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকালে মিয়ানমারের সিটওয়ে বন্দর থেকে তাদের নিয়ে মিয়ানমারের একটি জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয়। জাহাজটি বুধবার সকালে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় পৌঁছায়। পরে ওই জাহাজ থেকে বাংলাদেশি জাহাজে করে কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর মোহনায় নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে পৌঁছালে ১০ জন করে দলবদ্ধভাবে নামিয়ে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্র মতে, মিয়ানমার থেকে ফেরত আসা ১৭৩ জনের মাঝে ১২৯ জনের বাড়িই কক্সবাজারে। বাকিদের মাঝে ৩০ জন বান্দরবানের, ৭ জন রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ির। এছাড়াও নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রাজবাড়ী, নরসিংদী ও নীলফামারী জেলার রয়েছে একজন করে।

ফেরত আসা ১৭৩ জনের মধ্যে ১৪৪ বাংলাদেশি বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে মিয়ানমারে বন্দি ছিলেন। তাদের সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে আগেই। বাকি ২৯ জনের সাজার মেয়াদ শেষ না হলেও এই ফেরত পাঠানোর উদ্যোগের সময় তাদেরকে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনা হয়। বিকেল চারটা নাগাদ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও যাদের স্বজনরা আসেনি তাদের জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। সেখান থেকেই তাদের ঘরে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে।

এর আগে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর থাইল্যান্ড সফর নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ জানিয়েছিলেন, কারান্তরীণ বাংলাদেশিদের নিয়ে যে জাহাজটি দেশে পৌঁছাবে তাতে করেই মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা বিজিপি সদস্যদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমিরের তিন শর্ত

রাজধানীর ভাষানটেকে নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান

বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি ও বুলিং প্রতিরোধে কাজ করবে ঢাবি-ব্র্যাক

মায়ের সঙ্গে পূজায় ইয়ালিনি

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের গোপন আঁতাত ফাঁস

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে যা জানা গেল

ছেলে এনসিপির প্রার্থী, বাবা ভোট চাইলেন বিএনপির জন্য

১৪ জেলায় ২১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ

যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনকে যে শর্ত জুড়ে দিল রাশিয়া

জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ

১০

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেলের রজতজয়ন্তী উদযাপিত

১১

পুলিশকে কোপানোর ঘটনায় বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

১২

একা থাকা আর একাকিত্ব অনুভব করা এক বিষয় নয়, বলছে গবেষণা

১৩

ফেব্রুয়ারিতে দুই দফায় মিলবে ৮ দিনের ছুটি

১৪

‘মৃত্যুর পর জাভেদের সম্মাননা’ প্রত্যাখ্যান করলেন নায়কের স্ত্রী

১৫

তৃতীয় বারের মতো সরস্বতী পূজায় নারী পুরোহিত সমাদৃতা

১৬

বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে রোববার বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন

১৭

শনিবার ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১৮

সুখবর পেলেন বিএনপির আরও ২ নেতা

১৯

সিডনির কাছে বড় হার, ফাইনালে যাওয়া হলো না রিশাদদের

২০
X