শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২
মুহাম্মদ আশরাফুল হক ভূঞা, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

তীব্র গরমে বেড়েছে হাতপাখার কদর

হরেক রকমের হাতপাখা। ছবি : কালবেলা
হরেক রকমের হাতপাখা। ছবি : কালবেলা

হাতপাখা তৈরি ও ব্যবহারের ইতিহাস বহু প্রাচীন। হাতপাখার প্রচলন ছিল আজ থেকে প্রায় তিন হাজার বছর আগে গ্রিক-রোমান যুগেও। বৈদ্যুতিক পাখার যুগে অনেকটা হারিয়েই যেতে বসেছে হাতপাখা। তবে দেশে বর্তমানে অসহনীয় লোডশেডিংয়ে হাতপাখার কদর বেড়েছে। লোডশেডিংয়ের ভয়াবহতা ও তীব্র গরমে মানুষের ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে শোভা পাচ্ছে হাতপাখা। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর হাতপাখা নাড়িয়ে কিছুটা প্রশান্তি খুঁজছেন গ্রামাঞ্চলের মানুষ।

সারাদেশের ন্যায় নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। টানা কয়েক দিনের প্রচণ্ড গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন। হাঁস-ফাঁস অবস্থা খেটে খাওয়া মানুষদের। হাট বাজার ও বিপনি বিতানে আসা মানুষদের কাছে কদর বেড়েছে হাতপাখার। তাছাড়া লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের ভরসা হাতপাখায়।

কেন্দুয়া শহরের সাজিউড়া মোড়ে কথা হয় মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) ভ্রাম্যমাণ হাতপাখা বিক্রেতা সুজন মিয়ার সঙ্গে।

এ বিক্রেতা জানান, গরম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাতপাখার চাহিদা শুরু হয়। তবে গরম বেশি পড়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে শহরে হাতপাখার কদর বেড়েছে। আকার ও মান ভেদে বাঁশের তৈরি এসব পাখা ৪০ থেকে ৫০ পিস পাখা বিক্রি হচ্ছে।

শহরের সাউদপাড়া মোড়ে কথা হয় হাতপাখা বিক্রেতা রাকিব আহমেদের সঙ্গে।তিনি বাইরে থেকে এসব বাঁশের তৈরি পাখা কিনে এনেছেন। আর কাপড় ও সূতার তৈরি পাখাগুলো ময়মনসিংহ জেলা থেকে কিনেছেন।তিনি ঘুরে ঘুরে শহরের কলেজমোড়, বাসস্ট্যন্ড ও কেন্দুয়া বাজারে বিক্রি করছেন এসব পাখা। প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০টি পাখা বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাইকারিতে পাখার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যেখানে বাঁশের হাতল দিয়ে তৈরি প্রতি পিস হাতপাখার দাম পড়তো ৯ থেকে ১০ টাকা। এখন সেই হাতপাখা পাইকারি প্রতি পিস ১৫ থেকে ১৬ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

এসব ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা আক্ষেপ করে জানান, প্লাস্টিকের বানানো পাখা ও বিভিন্ন বাহারি ডিজাইনের রেডিমেড পাখা তাদের ব্যবসায় ঢল ফেলেছে।

তারা আরও জানান, এ বছর গরমের শুরুতেও হাতপাখার চাহিদা এত ছিল না। হঠাৎ করে গরম বেশি পড়ায় এবং শহরে পোশাক কিনতে আসা মানুষদের কাছে বেশি বিক্রি হচ্ছে এসব পাখা।

কথা হয় শহরে দিগদাইর মোড়ে হাতপাখা কিনতে আসা ছবি আক্তারের সঙ্গে। তিনি জানান, একে তো প্রচণ্ড গরম, সেইসঙ্গে ঘন ঘন লোডশেডিং। পোশাক দেখার আগেই শরীর গরমে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। তাই আমি বাসার জন্য আজ চারটা হাতপাখা নিয়ে নিলাম।

এদিকে শিক্ষক খাইরুল ইসলাম জানান, দিন দিন হাত পাখার কারিগররা এ পেশা থেকে অনেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। একসময় বিপুল সংখ্যক লোক এ পেশায় জড়িত থাকলেও প্লাস্টিক ও রেডিমেড পণ্যের সঙ্গে তাল না মেলাতে পেরে পেশা পরিবর্তন করছে। সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে বাঁশের তৈরি ক্ষুদ্র শিল্পকে টিকিয়ে রাখার প্রত্যাশা করছি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ

ইসলামী মূল্যবোধেই রাজনীতি করবে বিএনপি : ইশরাক

বাস উল্টে নিহত ২

প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত চেয়ে আইনি নোটিশ

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বিএনপি নেতার আবেদন

এশিয়ার সর্বপ্রথম মেডিকেল অ্যানাটমি লার্নিং অ্যাপ ভার্চুকেয়ারের উদ্বোধন করলেন সাকিফ শামীম

ছাত্রদল ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির আঁতুড়ঘর : মান্নান

মনোনয়নপত্র নিয়ে যে বার্তা দিলেন বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল

গাইবান্ধায় ১৪৪ ধারা জারি

খালেদা জিয়া কখনো জোর করে ক্ষমতায় থাকেননি : খায়রুল কবির

১০

জামায়াতের প্রার্থীকে শোকজ

১১

সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে : সেলিমুজ্জামান

১২

নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, সন্দেহ রয়ে গেছে : মঞ্জু

১৩

ঢাবির ৪ শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য চার্জ গঠন

১৪

নবম পে-স্কেলে সর্বোচ্চ বেতন নিয়ে যা জানাল কমিশন

১৫

ইউজিসি কর্মচারী ইউনিয়নের নতুন কমিটির অভিষেক

১৬

গ্যাস যেন সোনার হরিণ, এলপিজি সংকটে নাভিশ্বাস

১৭

খালেদা জিয়া ছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বহ্নিশিখা : কবীর ভূঁইয়া

১৮

মুসাব্বির হত্যা নিয়ে মির্জা ফখরুলের প্রতিক্রিয়া

১৯

ছাত্রলীগ পুনর্বাসিত হচ্ছে শিবিরের দ্বারা : ডা. আউয়াল

২০
X