ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৪, ১১:৫৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মাছ শিকারের দারুণ কৌশল দারকি

দারকি। ছবি : কালবেলা
দারকি। ছবি : কালবেলা

প্রথমে বাগান থেকে কাটা হয় শক্ত বাঁশ। তারপর ভালোভাবে কেটে খন্ড খণ্ড টুকরো করা হয়। টুকরোগুলোকে আবার ধারালো দা দিয়ে কাটা হয়। পরে আবার ছোট ছোট টুকরোগুলোকে চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন আকার দেওয়া হয়।

এক পর্যায়ে সবাই মিলে বসে পড়েন বাঁশের শলা নিয়ে। কেউ বাঁশের শলাকা তৈরিতে ব্যস্ত, কেউ আবার তা বুনন করতে ব্যস্ত। নিপুঁন হাতে সুতোর গাথুঁনীতে ফুঁটে ওঠে আবহমান গ্রাম বাংলার খাল-বিল, নদী-নালায় মাছ ধরার জন্য তৈরি বাঁশের শলাকা।

বাঁশের ওই শলা দিয়ে তৈরি করা হয় এক প্রকার বিশেষ যন্ত্র বা চাঁই। স্থানীয় ভাষায় একে দারকি বলা হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এটি ভিন্ন ভিন্ন নামেও পরিচিতি রয়েছে।

গ্রামাঞ্চলে বাঁশের শলা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের চাঁই তৈরি করা হয়। এতে থাকে বিভিন্ন আকৃতির খোপ। এতে মাছ ঢোকানোর কৌশল আছে, কিন্তু বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। গ্রামাঞ্চলে বর্ষাকালে বন্যার সময় লোকজন মাছ ধরার ফাঁদ পাতেন। সেই ফাঁদগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দারকি।

দারকি তৈরির এমন কর্মযজ্ঞের দেখা মিলবে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার পৌর শহরের দরিয়াবাদ ও মেলান্দহ উপজেলার বীর হাতিজা গ্রামে। এসব গ্রামের তিন শতাধিক পরিবারের জীবন জীবিকার এক মাত্র ভরসা দারকি বুনন ও বিক্রির ওপর। গ্রামের সব বয়সের মানুষ সারাদিন দারকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটায়। ফলে গ্রাম দুটি দারকি গ্রাম নামে পরিচিত লাভ করেছে।

সেখানকার প্রায় প্রতিটি বাড়ি যেন দারকি তৈরির কারখানা। আর এই দারকি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়ে থাকে। যদিও আধুনিক মাছ শিকারের বিভিন্ন যন্ত্র আবিষ্কারের কারণে বর্তমানে শিল্পটি নানা সমস্যা জর্জরিত। একদিকে পুঁজি সংকট অন্যদিকে বৃদ্ধি পেয়েছে চায়না রিং জালের ব্যবহার। ফলে এ শিল্প এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

এদিকে চায়না রিং জালের ব্যবহার রোধসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, দারকি তৈরির কারিগরদের বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

মাছ ও বাঙালি একে অন্যের পরিপূরক। মাছ নিয়ে বাঙালির মনের কোণে আছে তীব্র আবেগ ও ভালোবাসা। তাই তো বলা হয় মাছে-ভাতে বাঙালি। তাই মাছ শিকারও যেন বাঙালি জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। গ্রামাঞ্চলে মৌসুমি জলাশয় বা বিলে নানা সরঞ্জাম দিয়ে মাছধরা একটি সুপরিচিত দৃশ্য। বাংলাদেশে মাছধরার চিরায়ত দৃশ্যগুলো মধ্যে অন্যতম দারকি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কারাবন্দিদের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে নতুন নীতিমালা জারি

কোনো বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করব না : ডিসি রায়হান

জামায়াত প্রার্থীর ওপর ভোট কেনার অভিযোগ বিএনপি নেতার

বিক্ষোভে উসকানিদাতাদের প্রতি কোনো দয়া দেখানো হবে না : ইরান

রুমিন ফারহানাকে ইঙ্গিত করে যা বললেন বিএনপির জোট প্রার্থী

মানুষ আর বস্তাপচা রাজনীতি দেখতে চায় না : ডা. শফিকুর

আইসিসিকে ক্ষতির মুখে ফেলতে যে ‘ছক’ কষছে পাকিস্তান

জামায়াতের ৩ নেতা গেলেন ইসিতে

শাজাহান খানের ছেলে আসিবুর গ্রেপ্তার 

জনগণই নির্বাচনের জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে : ড. জালাল

১০

আগামী নির্বাচন হবে মানুষের ভাগ্য বদলানোর : সালাহউদ্দিন

১১

স্বস্তিকার আক্ষেপ

১২

মিলের কর্মচারীদের বেঁধে ৬৩৩ বস্তা চাল লুট

১৩

দীর্ঘদিন মনের ভেতর রাগ চেপে রাখছেন? যেসব ক্ষতি হতে পারে

১৪

যে কারণে ডাকসু থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সর্বমিত্র চাকমার

১৫

আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন বুবলি

১৬

বিশ্বকাপে না খেললে পথে বসবে পাকিস্তানের সম্প্রচারকারীরা!

১৭

খালেদা জিয়ার ত্যাগের সম্মানে জনগণ ধানের শীষকে বিজয়ী করবে : রহমাতুল্লাহ

১৮

সবসময় একা থাকতে ভালো লাগে? এটা কীসের লক্ষণ জেনে নিন

১৯

আমরা দুর্নীতিমুক্ত ও কোরআন সুন্নাহভিত্তিক সমাজ গড়ব : ফয়জুল করীম

২০
X